নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » প্রটোকল, আসন ও সময় সংকটে হযবরল অনুষ্ঠান !

প্রটোকল, আসন ও সময় সংকটে হযবরল অনুষ্ঠান !

pic-09কথা ছিল সকাল ১০টায় খাগড়াছড়িতে প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে হুইল চেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। আর আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সময়ের ঠিক ১০ মিনিট পর হাজির হন দুই অতিথি। একজন খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম এবং অন্যজন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম। কিন্তু শহরের অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সভাপতি খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিম না আসায় অনুষ্ঠান শুরু করা যাচ্ছেনা। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষাতেও অনুষ্ঠান শুরু না হওয়ায় চলে যান এই দুই অতিথি।

অবশেষে ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথি ছাড়ায় শুরু করা হয় অনুষ্ঠান। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. তানভির আহম্মেদ চৌধুরী ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক অমর বিকাশ চাকমা।

এদিকে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আরো ১০ মিনিট পর হাজির হন অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিম। বাকীদের বক্তব্য শেষে প্রটোকল মেনে সর্বশেষ অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের আগ মুহুর্তে হাজির হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার বিভাগ) কাজী মোজাম্মেল হক, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমণি চাকমা।

গল্প এখানে শেষ নয়..। মঞ্চে জেলা প্রশাসকের একদিকে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমণি চাকমা বসা ছিলেন,সর্ববামে বসা ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী মোজাম্মেল হক। পরে কাজী মোজাম্মেল হককে চঞ্চুমণি চাকমার পাশে বসানো হয়। এসময় জেলা প্রশাসক চঞ্চুমণি চাকমাকে নিজ আসনে কাজী মোজাম্মেল হককে বসিয়ে পাশের আসনে তাকে বসতে বলেন। কিন্তু চঞ্চুমণি চাকমার অনুরোধের পরও কাজী মোজাম্মেল হক নিজ আসনে বসতে অনড় থাকায় তা আর হয়নি। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে চঞ্চু মণির স্থান হলো দর্শক সারিতে!।pic-08

কারণ চঞ্চু মণি চাকমার বক্তব্য চলাকালীন ঐ আসনে বসেন কাজী মোজাম্মেল হক। আর হঠাৎ হাজির হওয়ার খাগড়াছড়ির সহকারী পুলিশ সুপার কানন দেবনাথ এসে বসেন মোজাম্মেল হকের চেয়ারে। আর এতে মনক্ষুন্ন হয়ে দর্শক সারির প্রথম আসনে বসেন তিনি। এদিকে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে নতুন করে চেয়ার বসিয়ে চঞ্চুমণি চাকমাকে মঞ্চে বসার আহ্বান জানালেও তিনি আর বসেননি। অনুরোধে আরো বেশি ক্ষুদ্ধ হয়ে তিনি দর্শক সারির পিছনে গিয়ে বসেন।
এই বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমণি চাকমা বলেন, ‘অনুষ্ঠানে তিনি আমার সাথে যে আচরণ করেছে তাতে আমি কষ্ট পেয়েছি। তবে আমাকে অসম্মান করে উল্টো উনার (জেলা প্রশাসক) অসম্মান হয়েছে। কারণ অনুষ্টানে কি হয়েছে তা সবাই দেখেছে। জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিমের ‘কমনসেন্সের’ অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উনার আচরণ কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।
এদিকে আলোচনা সভা শেষে চা চক্রে যোগ দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকসহ আয়োজক কমিটির ব্যক্তিরা চঞ্চুমণি চাকমাকে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি যোগ দেননি।
তবে খাগড়াছড়ি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা নাদিয়া সুলতানা এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। অনুষ্ঠানে নারী, শিশুসহ ৪০জন প্রতিবন্ধীকে বিনামুল্যে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।pic-07

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply