নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » প্রচারের আড়ালে দীঘিনালার তৈদু ঝর্না

প্রচারের আড়ালে দীঘিনালার তৈদু ঝর্না

Untitled-1 copyপর্যটকদের আকৃষ্ট করছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ‘তৈদু’ ঝর্না। অনেকের দাবি রাঙামাটির সুভলং ঝরনা এবং খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পট আলুটিলার রিছাং ঝরনার চেয়েও বড় এই ঝর্না। তৈদু ঝর্ণাকে ঘিরে পাশে রয়েছে আরো ৩টি তুলনামূলক ভাবে ছোট ঝর্না এবং ২টি মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে আকর্ষনীয় এক পর্যটন ষ্পট তৈদুছড়া এলাকা। তবে বিলম্বে হলেও এ ঝর্নার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। এর আগে মাঝে মধ্যে হাতেগোনা দুই চারজন দর্শনীয় স্থানটিতে গেলেও অনেকের কাছেই ছিল অপরিচিত। স্থানীয়দের দাবি এখনো প্রচারের আলোর বাইরে আড়ালেই রয়ে গেছে এই ঝর্নাটি। ঠিকমতো প্রচার করা গেলে এটি হতে পারে পাহাড়ের অন্যতম পর্যটন স্পটও।

যদিও বর্তমানে তৈদু ঝর্না দেখতে ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক আসতে শুরু করেছে। দূর্গম এলাকায় এবং যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় প্রায় ১ ঘন্টার পথ পায়ে হাটার কারণে কিছুটা ভোগান্তিও পেতে হচ্ছে পর্যটকদের। ইতিমধ্যে যাতায়াত ব্যাবস্থা সহ ঝর্না এলাকাকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের আরো গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যটকগন।2
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিঃ মিঃ দুরে ঝরনার অবস্থান। স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী এ ঝরনাটির নাম দিয়েছে “তৈদু ঝরনা”। ত্রিপুরা ভাষায় তৈ অর্থ পানি আর দু অর্থ ধারা। তৈদু পাড়ার অজিত ত্রিপুরা (৩৮) জানান, সে গ্রামের লোকজন পাহাড়ে জুম চাষ করতে গিয়ে এ ঝরনা আবিস্কার করে। তারা ঝরনার নাম দেয় ‘তৈদু ঝর্ণা।3

সরেজমিনে ঝর্ণা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তৈদু ঝর্ণাতে পৌছার পূর্বে তৈদু ছড়াতে প্রায় ১কিলোমিটার পর্যন্ত রয়েছে বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতির বড় বড় পাথর। কিছু পাথর দেখলে মনে হয় একপাল হাতি বাচ্চা নিয়ে ছড়ার পানিতে শুয়ে রয়েছে। পাশেই মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত। পানির নিচে প্রাকৃতিকভাবে পাথর দিয়ে ঢালাই করা। পরিস্কার পানির স্রোতে উপড়ে ছিটে উঠা পানির ফোয়ারা দেখলে সেখানে ভিজে গোসল করার লোভ সামলানো কারো সম্ভব না।

কলেজ ছাত্র অম্লান ত্রিপুরা জানান, সে রাঙ্গামাটির সুভলং ঝর্না এবং খাগড়াছড়ির আলুটিলার রিছাং ঝরনাতে গিয়েছি; কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে ভাল লেগেছে তৈদু ঝর্না। কারন তৈদু ঝর্নাতে পড়ন্ত পানির মাঝখানে বসার জন্য তিন স্তরে তিনটি জায়গা রয়েছে। যে সুবিধা অন্য ঝরনা গুলোতে নেই। এবং তৈদু ঝর্নার পাশের জলপ্রপাত গুলো আরো বেশি আকৃষ্ট করে। তাই দূর্গম এলাকায় হলেও কয়েকবার বন্ধু বান্ধব নিয়ে তৈদু ঝর্নাতে গিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম থেকে ঝরনা দেখতে আসা পর্যটক মো: রাসেল জানান, আরো ঝরনা দেখেছেন, তৈদু ঝর্না সবচেয়ে সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর। তবে যাতায়াত ব্যাবস্থার কারনে কিছুটা কষ্ট হলেও ঝরণায় পৌছার পর কষ্ট অনূভব হয়না। তবে যাতায়াত ব্যাবস্থার দ্রুত উন্নয়নের দাবী জানান তিনি।dighinala(khagrachari)pictu
কিভাবে পৌছবেন
খাগড়াছড়ি জেলা  শহর থেকে গাড়িতে রওয়ানা হয়ে ৯ কিলোমিটার দূরে নয় মাইল নামক স্থান থেকে যেতে হবে সীমানা পাড়া। সেখান থেকে পায়ে হাঁটা পথ শুরু। মাত্র এক ঘন্টা হাঁটার পরই পৌঁছে যাবেন রূপবতী তৈদু ঝর্নাতে।jharna-pic-2

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খুলছে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্র, সাজেক নিয়ে ধোঁয়াশা

দীর্ঘ ৫ মাস পর খুলে দেয়া হচ্ছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। আগামী ২৮ আগস্ট …

Leave a Reply