নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » প্রচন্ড তাপদাহ রাঙামাটি শহরে

প্রচন্ড তাপদাহ রাঙামাটি শহরে

hot-cover-01অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে রাঙামাটিতে টানা তাপদাহে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। নিকট অতীতে এক-দু’দিন তাপমাত্রা প্রচন্ড থাকলেও এবার প্রায় সপ্তাহখানেক রাঙামাটিতে তাপমাত্রার গড় ছিলো ৩৮ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর। গত চারদিন যা ছিলো ৩৯.৫ ডিগ্রি। এর আগে এরকম তাপমাত্রা হঠাৎ অনুভূত হলেও এবার টানা অত্যধিক তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। এসময় তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও অতীতে তাপমাত্রা গড় থাকতো ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এবার প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। গত কয়েকদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে এ অঞ্চলে।

রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সপ্তাহখানেক ধরে রাঙামাটিতে গড় তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল রাঙামাটিতে তাপমাত্রা ছিলো ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপরের দিন ১৭এপ্রিল তাপমাত্রা ছিলো ৩৮ডিগ্রি। ১৮ ও ১৯ এপ্রিল ছিলো ৩৯.৫ ডিগ্রি। ২০ এপ্রিল রোববার তাপমাত্রা ছিলো ভোর ছয়টায় ২৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সকাল নয়টায় ৩৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সকাল বারোটায় ৩৮.৩ ডিগ্রি এবং দুপুর একটায় ৩৯.৪ ডিগ্রি। এসময় বাতাসের গতিবেগ ছিলো ৩ নটিক্যাল মাইল।

রাঙামাটি আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক গাজী হোসেন আহম্মেদ জানান, গত সপ্তাহখানেক রাঙামাটিতে গরম তীব্রতা বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে এই গরম সহ্য করার ক্ষমতা কম হলেও হালকা বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছে।

অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটাসহ এসময় জুমে আগুন দেওয়ায় গরমে তীব্রতা বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞের ধারণা। পাহাড়ে জুম চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে এসময় পাহাড়ে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া অবৈধভাবে প্রতিনিয়ত ইটভাটা গড়ে উঠায় গরম বাড়ার কারণ হতে পারে।Hot-cover-pic-02

গরমে তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে বেড়েছে গরমজনিত রোগীর সংখ্যাও। রাঙামাটি সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শওকত আকবর বলেন, অত্যধিক গরমে শিশুর ডায়রিয়া, বমি বেড়ে যায়। শিশুদের পানিশূন্যতার কারণে ঝুঁকি বাড়ে তাই এই সময়ে শিশুদের পর্যাপ্ত বাতাসে রাখার পরামর্শ দেন। বাতাস কম থাকলে শিশু দ্রুত ঘেমে যায়। ঘামে শুকিয়ে শিশুর ঠান্ডা লেগে সর্দি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার থেকে নিউমোনিয়াও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অত্যধিক গরমে শরীর থেকে ঘামের সাথে লবণও বের হয়ে যাওয়ায় শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই পানির সাথে খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি ও শরবত খেতে দিতে হবে। এছাড়া তিনি তরমুজ খাওয়ারও পরামর্শ দেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply