নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘পুলিশ পরিচয়ে’ অপহরণের পর মুক্তিপণে মিলল ছাড় !

‘পুলিশ পরিচয়ে’ অপহরণের পর মুক্তিপণে মিলল ছাড় !

সাদা পোষাকে পুলিশ পরিচয়ে একজন নির্মাণ শ্রমিককে অপহরণের পর মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটির লংগদুতে। রোববার রাত সাড়ে আটটায় উপজেলা সদরের গাঁথাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

তবে এ ঘটনার সঙ্গে লংগদু থানা পুলিশ জড়িত আছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ নূর। ওসি বলেন, ‘অপহরণ ঘটনায় জড়িত আরও ৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এবং যারা যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অপহরণের শিকার নির্মাণ শ্রমিক শমর আলী ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বলেন, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে অপরিচিত নাম্বার থেকে আমাকে ফোন করে গাঁথাছড়া মসজিদের সামনে আসতে বলেন একলোক। আমি মসজিদের সামনে আসলে আমার কলার ধরে মোটর-সাইকেলে ওঠায় পুলিশ পরিচয়ে দুইজন ব্যক্তি। এসময় পুলিশ পরিচয়ের তাদেরকে সহযোগিতা করে বাবুল, হাসান ও আলমগীর নামের স্থানীয় তিন ব্যক্তি। আমি চিৎকার করলে পুলিশ পরিচয়ের দুইজন আমাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মুসলিমব্লক এলাকার সেগুনবাগানের গভীর জঙ্গলে নিয়ে আসে। এখানে আমাকে মারধর করে এবং একলাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে ইয়াবা দিয়ে আমাকে ফাঁসানো হবে এমন হুমকি দেয়া হয়। এসময় আমি টাকার জন্য আমার একজন ঘনিষ্ট আত্মীয় আজিজুলকে ফোন করি। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ফোন করে আজিজুলকে টাকা নিয়ে আসতে বলে।

এবার সেগুনবাগানের গভীর জঙ্গল থেকে আমাকে ফায়ার সার্ভিসের নির্মানাধীন ভবনে নিয়ে আসা হয়। এর কিছুক্ষণ পর আবার আমাকে ভাইট্টাপাড়া মাদ্রাসার মাঠে নিয়ে আসে অপহরণকারীরা। রাত প্রায় ১১টায় মুক্তিপণের টাকা দিয়ে আজিজুল হক ও কামাল হোসেন কমল দুজনে মিলে আমাকে উদ্ধার করেন। শমর আলী আরও বলেন, নির্মাণ শ্রমিক বাবুল এবং আমার মধ্যে কাজ নিয়ে বিরোধ আছে। একসময় আমি বাবুলের অধীনে কাজ করতাম। এখন আমি নিজেই মিক্সার মেশিন কিনেছি এবং আলাদা কাজ করি। এ নিয়ে বাবুল আমার প্রতি ক্ষুব্ধ এবং এই বিরোধ থেকেই পুলিশ দিয়ে আমাকে ফাঁসাতে চেয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে কথা হয় আজিজুল হকের সাথে। তিনি বলেন, ‘শমর আলী সম্পর্কে আমার জামাই হয়। রাতে তার ফোন পেয়ে জানতে পারি তাঁকে পুলিশ আটক করেছে এবং টাকা দাবি করছে। এরপর আমিও পুলিশের সাথে কথা বলি এবং দেখা করার জন্য আমার বন্ধু কামাল হোসেন কমলকে সাথে নিয়ে যাই। আমরা রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভাইট্টাপাড়া মাদ্রাসা মাঠে পুলিশের সাথে দেখা করি। এসময় পুলিশ পরিচয়ে দুজন আমাদের কাছে একলঅখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় চালান করে দিবে এমন হুমকি দেন তারা। অনেক দরকষাকষির পর ৫ হাজার টাকায় শমর আলীকে ছেড়ে দিতে রাজি হন অপহরণকারী পুলিশ পরিচয়কারী দুজন। এরপর টাকা দিয়ে সমর আলীকে আমরা উদ্ধার করে নিয়ে আসি।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল হোসেন বলেন, ‘রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ পরিচয়ে ২ ব্যক্তি শমর আলী নামের একজন নির্মাণ শ্রমিককে ধরে নিয়ে গেছে এমন খবর পেয়ে আমি ছুটে আসি। গাঁথাছড়া বাজারে এসে দেখি অপহরণকারীদের ৩ জন সহযোগিকে স্থানীয় জনতা আটক করে রেখেছে। জনতার হাত থেকে তাদের উদ্ধার করে একটি দোকানঘরে ৩ জনকে আটকে রাখি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ রাত ১১টায় বাবুল, হাসান ও আলমগীর নামের ৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যান। এছাড়াও শমর আলীকে টাকার বিনিময়ে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জেনেছি। তবে অপহরণের ঘটনায় ব্যবহৃত পুলিশ পরিচয়ের মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ রয়েছে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঘাইছড়িতে এমএনলারমাপন্থী পিসিপি নেতা খুন

রাঙামাাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহযোগী ছাত্রসংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের …

Leave a Reply