নীড় পাতা » ব্রেকিং » পুলিশ-জনতার সর্ম্পকের হৃদ্যতা

পুলিশ-জনতার সর্ম্পকের হৃদ্যতা

গত বুধবার (৪ মার্চ) রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রাঙামাটি জেলা পুলিষের বার্ষিক সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২০। জেলা পুলিশের এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। উপস্থিত ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

বর্ণাঢ্য আয়োজনের সব কিছুকেই পাশ কাটিয়ে উপস্থিত পুলিশ পরিবারবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের দৃষ্টি কেড়েছে জেলা পুলিশের কিছু ব্যতিক্রমি আয়োজনে। এই ব্যতিক্রমি আয়োজনের মধ্যে ছিলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ধীরে হাঁটা প্রতিযোগিতা, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাগণ ধীরে হেটে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় হয়েছেন। এরপরের আয়োজনটি ছিল, কমিউনিটি পুলিশং কমিটির সদস্যদের দৌড় প্রতিযোগিতা, সেখানেও বিজয়ী হয়েছেন তিন জন। ছিল গনমাধ্যমকর্মীদের দৌড় প্রতিযোগিতা, সেটিও সকলের দৃষ্টি কেড়েছে।

তবে সব চাইতে বেশি দৃষ্টি কেড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রতিনিধি হেডম্যান কার্বারি ও জনপ্রতিনিধিদের দৌড় প্রতিযোগিতাটি। এই দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন ১০২ রাঙ্গাপানি মৌজার দুই কার্বারি শ্যামল মিত্র চাকমা, বিজয় কুমার চাকমা ও রাঙামাটি পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়ের কালায়ন চাকমা। এমন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অনেকটা অবাকই হয়েছেন এই প্রথাগত দুই প্রতিনিধি।

প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে শ্যামল মিত্র চাকমা বলেন, এমন আয়োজন হবে আগে ভাবিনি। জীবনে অনেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি কোথাও এমন সম্মান পাইনি। তাই এখানে এসে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।

এই বয়সেও কিভাবে এমন দ্রুত গতিতে দৌড়ালেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় নেমে চুপ করে থাকলে কী হবে? তাই দৌড়েছি, ফলও পেলাম। তবে আমি প্রচুর হাটি, পাহাড় চড়ি তাই ফিটনেসটা এখনো ভালো আছে। আজ তো মনে হচ্ছে আমরাও পুলিশ পরিবারের সদস্য হয়ে গেলাম, এমন আয়োজনে আমি আপ্লুত। ধন্যবাদ জানাই রাঙামাটি পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীরকে। তিনি আমাদেকে নিয়েও ভাবেন। আমার মনে হচ্ছে আজ আমার ও পুলিশের মাঝে দূরত্ব অনেক কমে গেল।

বিজয় কুমার চাকমা বলেন, আমাদের মাঝে মনে হয় পরিবর্তন আসতে শুরু হয়েছে। মুজিববর্ষে পুলিশের স্লোগানের সঙ্গে মিল পেলাম। তাদের স্লোগান হলো ‘মুজিববর্ষের অঙ্গিকার পুলিশ হবে জনতার’। আসলে মনে হচ্ছে পুলিশ জনতার কাছে এসেছে। তার প্রমাণ আমাদের নিয়ে এমন আয়োজন। রাঙামাটি পুলিশ সুপার আমাদের আমন্ত্রণ করেছেন আমরা এলাম, কিন্তু এমন প্রতিযোগিতা রেখেছেন , সেটা জানা ছিলো না। তবে বেশ ভালো লেগেছে। এমন অফিসার থাকলে পুলিশ ও জনতার মাঝে দূরত্ব কমতে বাধ্য। ধন্যবাদ জানাই পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর মহোদয়কে।

এমন আয়োজন যে পুলিশ মহাপরিদর্শকেরও দৃষ্টি এড়িয়ে যায়-নন সেই প্রমাণ ফাওয়া গেলে পুলিশ প্রধানের বক্তব্যে। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্যদের জন্য আয়োজনা ছিল, তারা প্রচণ্ড চেষ্টা করেছেন। অনেকে কিছুটা আহতও হয়েছে, তবে বিষয়টি বেশ ভাল লেগেছে।

পুলিশের এমন সব আয়োজন বা ভিন্ন কিছু উদ্যোগ আন্তরিক সহযোগিতা ধীরে ধীরে জনতা আর পুলিশকে এক কাতারে নিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পাহাড়ে ইভিএমের প্রথম ভোট হলো খাগড়াছড়িতে

দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচন। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনেকটা …

Leave a Reply