নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পিডিবির কাছে জিম্মি মাটিরাঙ্গাবাসি

পিডিবির কাছে জিম্মি মাটিরাঙ্গাবাসি

028খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় বিদ্যুতের বেহাল দশায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে উপজেলাবাসী। লোডশেডিং দুর্ভোগের শেষ কোথায় ! পিডিবির কাছে জিম্মি মাটিরাঙ্গাবাসী। হাটাহাজারী হতে মাটিরাঙ্গা উপজেলাবাসী বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেও, পায়নি বিদ্যুৎতের সুযোগ-সুবিধা। দৈনিক গড়ে ২২ ঘণ্টা লোডশেডিং কিংবা লো-ভোল্টেজে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

উপজেলার আবাসিক ভবন, দোকান-পাট, ঘর-বাড়ি, মসজিদ-মন্দির সবখানে একটাই হাহাকার লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ। অফিসিয়াল কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে অন্ধকারে। পরিমানমত ভোল্টেজ না থাকায় দিনে দুপুরে বিভিন্ন দপ্তর ও ছাত্র-ছাত্রীদের মোমবাতি জ্বালিয়ে অফিস ও পড়ালেখা করার দৃশ্যও দেখা যায়। এদিকে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ এলেও লো-ভোল্টেজের গেড়াকলে পড়ে। এদিকে বিভিন্ন দোকান-পাট, ঘর-বাড়িতে ফ্রিজ, টেলিভিশন লো-ভোল্টেজের কারনে মরিচা পড়ার অবস্থা হয়েছে বলে জানান অনেকেই ।

বিদ্যুতের বড় বড় অফিসাররা যার যার বাড়ি-ঘরে বসেই দাপ্তরিক কাজ সেরে নেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। কয়েকজন বিদ্যুৎ গ্রাহক জানালেন, দীর্ঘ বছর যাবত মাটিরাঙ্গাতে দুইজন লাইনম্যান ও একজন হেলপার থাকা সত্বেও বিভিন্ন হয়রানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বেশ নাজুক।

জানা গেছে, ১৯৬০ সালে পাশের জেলা রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে উপজেলায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর মাটিরাঙ্গা উপজেলায় বিদ্যুৎ দেওয়া হয় ১৯৮৭ সালে। কিন্ত শুরু থেকে উপজেলায় লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ নিত্যসঙ্গী। লোডশেডিংয়ের আর লো-ভোল্টেজ নামে তৈরী হয় জনদুর্ভোগ। স্থানীয় পিডিবির টেকনিশিয়ানদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, লাইনের সমস্যা আছে। একটু পরে চলে আসবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, টেকনিশিয়ানদের সেই সময় আর আসে না। দিন শেষে রাত এলেও বিদ্যুৎ আসে না।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজু বলেন, মাটিরাঙ্গাবাসীকে লোডশেডিং কিংবা লো-ভোল্টেজের মত দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করতে উপজেলা মাসিক সভায় জোর পদক্ষেপের দাবি ও পিডিপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হলেও কোন ফল হচ্ছে না। এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়!

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিদ্যুত কর্মকতা-আর.আই মো: আমান উল্যাহ বলেন, আমি কি করবো ? তারপরও মাটিরাঙ্গা উপজেলার লাইনে কোন সমস্যা থাকে না। সমস্যা হচ্ছে হাটাহাজারী মূল লাইন থেকে। তার উপর নেই কোন সরকারী গাড়ীর ব্যবস্থা। তাই ইচ্ছা থাকা সত্বেও অনেক সময় পরিবহনের অভাবে সঠিক সময়ে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়ে উঠেনা।

এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের নেই কোন মাথা ব্যাথা। তাছাড়া বিদ্যুতের বিভিন্ন সমস্যাদি নিরসন করতে অসহায় গ্রাহকদের ভোগ করতে হয় উৎকোচ হয়রানি। তাই অত্র মাটিরাঙ্গাতে মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক হয়রানি বন্ধ, মিটারের সঠিক রিডিং নিয়ে বিদ্যুৎ বিল তৈরী, অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন, নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা যেন নিশ্চিত হয় সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন অভিজ্ঞ মহল তথা মাটিরাঙ্গাবাসী।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply