নীড় পাতা » ফিচার » অন্য আলো » পাহাড় থেকে অস্ত্র কিনছে জঙ্গিরা !

পাহাড় থেকে অস্ত্র কিনছে জঙ্গিরা !

arrmssssপার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অস্ত্র কিনছে জঙ্গীরা। এমন ভয়ংকর তথ্য সম্বলিত একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম পত্রিকা দৈনিক সমকাল। পত্রিকাটির চট্টগ্রাম ব্যুরো চীফ সারোয়ার সুমন এর করা প্রতিবেদনটি আমাদের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো-

পাহাড় থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যরা। তিন পার্বত্য জেলার পাশাপাশি মহেশখালীর দুর্গম পাহাড় থেকেও তারা অস্ত্র সংগ্রহ করছে। গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলায় জঙ্গিরা ব্যবহার করে তিনটি একে-২২ মেশিনগান। চট্টগ্রামে আটক হওয়া জেএমবি নেতা রাসেল ও ফয়সালের কাছ থেকেও একই ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। বান্দরবান সীমান্ত থেকে তারা এই অস্ত্র সংগ্রহ করেছে বলে স্বীকারও করেছে। অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গোয়েন্দারা বলছেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সখ্য গড়ে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র সংগ্রহ করছে জঙ্গিরা। আবার গ্রেনেডসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক বানাতে দুর্গম পাহাড়ে গিয়ে তারা প্রশিক্ষণও নিচ্ছে। এজন্য পাহাড়ি সীমান্ত সুরক্ষিত করতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে।

গুলশানে হামলার পর জঙ্গিদের ব্যবহৃত একে-২২ মেশিনগান ছাড়াও পাঁচটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এর আগে চট্টগ্রামে আটক জেএমবির সদস্যদের কাছ থেকে একে-৪৭, একে-২২, এমকে-১১ ও নাইন এমএমের মতো মারণাস্ত্র উদ্ধার করেছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আটক জঙ্গিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যেই উঠে আসে পাহাড় থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করার ভয়ঙ্কর সব তথ্য।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দক্ষিণ-পূর্ব আঞ্চলিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাবিবুল করিম বলেন, ‘পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমতলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চলছে। অরক্ষিত সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসছে মারণাস্ত্রও। তাই সীমান্তের অরক্ষিত এলাকা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সুরক্ষিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে ৫২টি নতুন চেকপোস্ট। আরও ৫২টি চেকপোস্ট স্থাপন প্রক্রিয়াধীন।’

চট্টগ্রাম থেকে সদ্য বদলি হওয়া পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘পাহাড় থেকে অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়টি জানার পর সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।’

জানা যায়, গত ডিসেম্বরে আমান বাজারে পরিচালিত অভিযানে এমকে-১১-এর মতো ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, অত্যাধুনিক এ রাইফেল দিয়ে প্রায় এক মাইল দূর থেকেও নিশানা করা যায়। এর কার্যকরী রেঞ্জ এক হাজার ৫০০ গজ। প্রতি মিনিটে ফায়ার করা যায় ৭৫০ রাউন্ড! একটি নতুন এমকে-১১ রাইফেলের দাম প্রায় ১০ হাজার ডলার বা আট লাখ টাকা। এর আগেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে জেএমবি সদস্যদের কাছ থেকে একে-৪৭ ও একে-২২-এর মতো দামি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামে আটক জেএমবি সদস্য রাসেল ও নাঈম তখন জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, উদ্ধার হওয়া এমকে-১১ রাইফেলটি বান্দরবান সীমান্ত থেকে তারা সংগ্রহ করে। এর আগে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনাবেচার সময় ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবরে বান্দরবান থেকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্রের তিন উপজাতি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব-৭। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় তিনটি একে-৪৭ রাইফেল।

যেভাবে ও যাদের থেকে কিনছে জঙ্গিরা: গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিরা জানায়, পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা অস্ত্র সংগ্রহ করে। এক্ষেত্রে পাহাড়ের কোনো বাসিন্দাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। মধ্যস্থতাকারী শুধু উভয়পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়। দরদাম ঠিক করে উভয়পক্ষ। অস্ত্র কেনা হলে মধ্যস্থতাকারীকে কিছু কমিশন দেওয়া হয়।

তিন পার্বত্য জেলায় অস্ত্র কেনাবেচায় সম্পৃক্ত থাকা ১৫ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের মধ্যে আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (এআরএসও), ন্যাশনাল ইউনাইটেড পার্টি অব আরাকান (এনইউএ), ডেমোক্রেটিক পার্টি অব আরাকান (ডিপিএ), আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামী ফ্রন্ট (এআরআইএফ), আরাকান আর্মি (এএ), পিপলস পার্টি অব আরাকান (পিপিএ) ও আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) উল্লেখযোগ্য। সীমান্তবর্তী এলাকা নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচিতে এসব সংগঠনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও রয়েছে।

বেচাকেনার রুট: গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ছোট হরিণা, বড় হরিণা, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক, জুরাছড়ির আন্দারমানিক, ফকিরাছড়ি, বিলাইছড়ি, খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার নারাইছড়ি, পানছড়ির দুদুকছড়ি, কেদারাছড়া, মাটিরাঙ্গা উপজেলার আচালং, রামগড় উপজেলার বাগানবাজার, বড়বিল, রামগড় বাজার, বান্দরবানের থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকাকে অস্ত্র চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘পাহাড় থেকে অস্ত্র কেনার কথা স্বীকার করেছে চট্টগ্রামে আটক জেএমবি সদস্যদের অনেকেই। সীমান্তের যেসব পয়েন্ট অরক্ষিত সেখান দিয়েই অস্ত্র আসছে। তাই সীমান্দ পয়েন্ট সুরক্ষিত করার ওপর জোর দিয়েছেন গোয়েন্দারাও।’

সুরক্ষিত হচ্ছে সীমান্ত: অস্ত্র কেনাবেচা ঠেকাতে ২০১৪ সাল থেকে পাহাড়ি এলাকার সীমান্ত সুরক্ষিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে এতদিন ২৮১ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত থাকলেও এর মধ্যে ১৩০ কিলোমিটার এখন সুরক্ষিত অবস্থায় আছে। মিয়ানমারের সঙ্গে ১৯৮ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত থাকলেও এরই মধ্যে সুরক্ষিত হয়েছে ৮৫ কিলোমিটার। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বসানো হচ্ছে চেকপোস্ট। (সমকাল)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply

%d bloggers like this: