নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পাহাড় ছাড়িয়ে সমতলেও সমান জনপ্রিয় ‘ঝাড়ু ফুল’

পাহাড় ছাড়িয়ে সমতলেও সমান জনপ্রিয় ‘ঝাড়ু ফুল’

jaru-ful picঘরের নিত্য দিনের অন্যতম সঙ্গী,যার সহযোগিতায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ সহজে করা যায়। বলছি,ঝাড়–ফুল বা উলু ফুলের কথা। চাহিদা বেশি থাকায় পাহাড় পর্বতের ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক চাষাবাদ না হলেও পাহাড়ের জঙ্গলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয়া এই ফুলের রয়েছে বানিজ্যিক সম্ভাবনা। স্থানীয় মানুষ তা সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীদের কাছে। ব্যবসায়ীরাও ঝাড়ু ফুলের ব্যবসায় লাভের মুখ দেখছেন। সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে এই পেশায় ব্যবসায়ীর সংখ্যা।
বিশেষত মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ১৮-২০টি ঝাড়ু ফুলের কাঠি দিয়ে একটি আঁটি বাধেঁন। আর এক একটি আঁটি বিক্রি হয় ৭/৮ টাকায়। ব্যবসায়ীরা এগুলো কিনে প্রথমে শুকিয়ে থাকেন। পরে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এসে প্রতি আঠি ঝাড়ু ফুল নিয়ে যান ১০/১১ টাকা দরে কিনে জীপ বা ট্রাকের মাধ্যমে সমতলের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান। অন্যান্য বছরের মত এবারও খাগড়াছড়ি জেলা বিভিন্ন এলাকার উৎসাহী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঝাড়– ফুলের ব্যবসায় নেমে পড়েছেন।
খাগড়াছড়ির ঝাড়ু ফুল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, ঝাড়ু ফুল একটি লাভজনক ব্যবসা। বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকা থেকে এই ফুল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আমরা সরবরাহ করে থাকি। গত বছরের তুলনায় এই বছর ফুলের ঝাড়ুর চাহিদা বেড়ে গেছে।
তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ঝাড়ু ফুল সরবরাহ করতে রাস্তায় রাস্তায় চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।
ব্যবসায়ী মোঃ জাকির ও রকি ত্রিপুরা জানান, খাগড়াছড়ির বাইরে এক ট্রাক ঝাড়– ফুল সরবরাহ করতে প্রায় ৩০/৪০ হাজার টাকা বন বিভাগ, পুলিশ ও চাঁদাবাজদের চাঁদা দিতে হয়। আর টাকা দিতে না চাইলে গাড়ীসহ মাল আটকে রাখে। পুলিশ গাড়ীতে অবৈধ জিনিস আছে বলে হেনস্তা করে।

ফুল ঝাড়ু ব্যবসা করে সরকারকে রাজস্ব দেয়া হলেও এ খাতে সরকারীভাবে কোন লোন পাওয়া যায়না। লোন পেলে এ ব্যবসার আরো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী আহসানুল হক শাহীন। তিনি বলেন, লাভজনক এই ব্যবসায় অনেকে আসতে চাই। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেকে আসতে পারছেনা। যদি এই খাতে লোন দেয়ার ব্যবস্থা করে তাহলে সরকার এই ব্যবসা থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে পারবে। স্বচ্ছলতায় ফিরবে অনেক বেকার যুবক।

খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হারুন আর রশিদ খান জানান, প্রাকৃতিকভাবে ঝাড়ু ফুলের আবাদ হলেও এর বানিজ্যিক সম্ভাবনা খুবই ভালো। রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে চলাচল পাস নিয়ে ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর ধরে ঝাড়ু ফুলের ব্যবসা করে আসছেন। গত ২০১২/১৩ অর্থ বছরে এই খাত থেকে ৪ লক্ষ ৯ হাজার ৩শ ২৫টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চাদাঁ আদায়ের অভিযোগ মিথ্যা বলেও জানান তিনি। অভিযোগ আসলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ

কার্প জাতীয় মাছের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও ১মে থেকে ৩১ জুলাই …

Leave a Reply