নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পাহাড় চূড়ায় হ্লাচিংমং চৌধুরীর স্বপ্নের বাগান

পাহাড় চূড়ায় হ্লাচিংমং চৌধুরীর স্বপ্নের বাগান

পাহাড়ি এলাকায় মিশ্র ফলের বাগান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পতিত পাহাড়ি জমিতে দেশীয় প্রচলিত ফলফলাদির পাশাপাশি অপ্রচলিত বিভিন্ন ফলের চাষাবাদ করে বাণিজ্যিকভাবেও সফল হচ্ছেন কেউ কেউ। সেই পথে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন জেলার মহালছড়ি উপজেলার হ্লাচিংমং চৌধুরী। হুমকির মুখে থাকা বিলীন প্রায় বহু দেশীয় প্রজাতির ফলফলাদির গাছের সমাহার ঘটিয়েছেন তাঁর বাগানে। এমনকি বিদেশী দামী ফল গাছেরও সংরক্ষণ রয়েছে তার ফল বাগানে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর বাগানটি গোটা দেশের অনুকরণীয় মিশ্র ফল বাগান। তার বাগানের প্রধানতম আকর্ষণ হলো দেশী-বিদেশী ৭০ প্রজাতির আম গাছ সংরক্ষণ। যার অধিকাংশ গাছেই এবার আম ধরেছে। এছাড়াও তার বাগানে দেখা যায় ভেষজ গুনসম্পন্ন বিভিন্ন ঔষধি ও বনজ গাছ। সে কারণে বাগানটিকে জার্মপ্লাজম সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা পোষন করেছেন শিক্ষিত বাগানী হ্লাশিংমং চৌধুরী।

হ্লাচিংমং চৌধুরী অনেকের মত চাকুরির পেছন পেছন ঘুরে বেড়াননি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষিত এই যুবক মনোনিবেশ করেন মিশ্র ফলবাগানের প্রতি। শুরুর দিকে অনেকটা সখের বশেই পাহাড়ি জমি পরিস্কার করে ফলজ বাগান গড়ে তুললেও ফি বছর ফল বিক্রির লাভের টাকায় বাগান সম্প্রসারণ করেন। মহালছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত ধুমনিঘাট এলাকার খাড়া পাহাড়ের ওপর ‘ক্রা এএ এগ্রোফার্ম’ নাম দিয়ে মিশ্র ফলবাগান সৃজন করেন। সমূদ্র পৃষ্ট থেকে অন্তত দেড় হাজার ফুট উচ্চতার পাহাড়ে ফলবাগান করা নিয়ে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিতও করেছিলেন।

কিন্তু উৎসাহী যুবক হ্লাশিংমং চৌধুরী জানালেন, ‘শুধুমাত্র পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং জৈব ও রাসায়নিক সারের উপযুক্ত ব্যবহারের কারণেই এত সুউচ্চ পাহাড়েও বাগান তৈরিতে সফল হতে পেরেছি।’ এক্ষেত্রে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবং পাহাড়ি কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের পরামর্শ ও সহায়তার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে তার বাগানে প্রচলিত ফল আম, কাঠাল, লিচু, আনারসের পাশাপাশি অপ্রচলিত ফল লটকন, মাল্টা, আতা, জামরুলসহ প্রভৃতি ফল শোভা পাচ্ছে। ড্রাগন, ফ্যাশন, রামবুটান, চেরিফল ছাড়াও কলাবতী, মিয়াজাকি, কিউজাই ও রেডলেডির মত বেদেশি আমের গন্ধে মৌ মৌ করছে বাগানটি। বিশেষ জাতের আম ‘আ¤্রপালি’ ছাড়াও তার বাগানেই একমাত্র দেশি-বিদেশি ৭০ প্রজাতির আম গাছ সংরক্ষন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বলেও দাবী করেছেন। একই বাগানে একসাথে এত ধরণের আমের প্রজাতি দেশের আর কোথাও নেই বলে জানান তিনি। দেশী-বিদেশী, প্রচলিত ও অপ্রচলিত এবং বিলীন প্রায় বহু জাতের ফলফলাদীর গাছ ছাড়াও মসলা জাতীয় দারুচিনি, গোলমরিচ, তেজপাতা, ঔষধি গাছের মধ্যে নিম, আমলকি, হরিতকি এবং বিলুপ্ত প্রায় বনজ গাছ তার বাগানে সংরক্ষন করা হয়েছে। এজন্য তার বাগানটিকে জার্মপ্লাজম সেন্টার হেসেবে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।

এসব ফলফলাদি বিক্রি করে গত বছরের মত এবারও লাখ লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন উদ্যমী যুবক হ্লাশিংমং চৌধুরী। শুধু মধুমাস জৈষ্ঠ্যতে নয়; বছরের বারোমাস জুড়েই কোন না কোন দেশী-বিদেশী ফল পাওয়া যায় এ বাগানে। কেবল ফলজ বাগানই নয় বনজ ও ঔষধি গাছও দৃষ্টি কাড়ে সবার। বাগানটি এখন পার্বত্য অঞ্চলের পরিচিত নাম। অনেক পর্যটক ছুটে আসছেন তার বাগান দেখতে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মর্তুজ আলী জানিয়েছেন, নিজের প্রচেষ্টা এবং নিষ্ঠার কারণেই হ্লাশিংমং তাঁর বাগানকে দেখার মত করে গড়ে তুলতে পেরেছেন। তার স্বীকৃতি স্বরূপ গেলো বছর জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে জাতীয়ভাবে প্রথম পুরস্কারে ভূষিত হয়।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুন্সী রাশীদ আহমদ বলেন, গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের মিশ্র ফলবাগান হিসেবে এটি দেশের অনুকরণীয়। বিলীন ও হুমকির মুখে থাকা প্রায় সব ধরণের ফলের জাত সংরক্ষন করায় এই মিশ্র বাগানটি জার্মপ্লাজম সেন্টার হিসেবে একদিন গড়ে উঠবে বলে আশাবাদী এই কৃষি বিজ্ঞানীও।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply