নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পাহাড়ে ১৩ মাসে ঝরল ৪৭ প্রাণ

পাহাড়ে ১৩ মাসে ঝরল ৪৭ প্রাণ

গত সোমবার (১৪ জানুয়ারি) খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী উপজেলা রামগড়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) নেতা মোহন ত্রিপুরাকে গুলি করে হত্যার ঘটনার রেশ না কাটতেই শনিবার খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গাছবান এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ’র কর্মী পিপলু বৈষ্ণব ত্রিপুরা ওরফে রনি ত্রিপুরা।

বেসরকারিভাবে ও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ নিহত রনি ত্রিপুরার হত্যার ঘটনায় পাহাড়ে গত ১৩ মাসে ৪৭ জন আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর জিঘাংসার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৫দিন পর (৪ জানুয়ারি) রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরের বাবুপাড়ায় স্থানীয় প্রভাত কুসুম চাকমা বাড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন জনসংহতি সমিতির (এনএন লারমা) কর্মী বসু চাকমা।

মূলত পাহাড়ে চারটি আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুম, হত্যার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে একটি জাতীয় দলকে সমর্থন দিয়েছে জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। স্থানীয় বলছেন, নির্বাচনে সর্মথনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও বেড়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই এ পর্যন্ত ৩জন কর্মী প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছে। এর মধ্যে নিহত মোহন ত্রিপুরা ও বসু চাকমা জনসংহতি সমিতির (এনএম লারমা) নেতা-কর্মী ও রনি ত্রিপুরা ইউপিডিএফের কর্মী।

গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ কর্মীর লাশ হস্তান্তর
খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত প্রসীত বিকাশ নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কর্মী পিপলু বৈষ্ণব ত্রিপুরা ওরফে রনি ত্রিপুরার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার দুপুরে নিহত পিপলুর মার কাছে তার লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী উপজেলা রামগড়ের বল্টুরাম পাড়ায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় পিপলুর মরদেহ।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৮ দিকে জেলা সদরের গাছবান এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিত নিহত হন আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ’র কর্মী পিপলু বৈষ্ণব ত্রিপুরা। এ ঘটনার সময় তিনি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন।

পুলিশ জানায়, নিহত পিপলু পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন প্রসীত বিকাশ নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ’র কালেক্টর ছিলেন। ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর যৌথ বাহিনীর এক অভিযানে অস্ত্রসহ আটক হয়েছিলেন তিনি। পরে কারাগার থেকে বের হয়ে সে ফের আঞ্চলিক সংগঠনটির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় সুধাসিন্ধু খীসা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (এমএন লারমা) দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। তবে জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন।

ইউপিডিএফ’র প্রতিবাদ
নিহত পিপলু ত্রিপুরা নিজেদের কর্মী দাবি করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। রোববার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি ইউপিডিএফ’র খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সংগঠক উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা এ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা এ হত্যার ঘটনাকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে আটটার সময় সংস্কারবাদী জেএসএস সন্ত্রাসীরা নিজ বাড়িতে রনি ত্রিপুরাকে গুলি করে হত্যার পর পালিয়ে যায়।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘খাগড়াছড়িতে একের পর এক ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থককে হত্যা করা হলেও খুনীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। উপরন্তু এসব সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কাজেই প্রশাসন কিছুতেই এই হত্যার দায় এড়াতে পারে না।’ তিনি রনি ত্রিপুরার খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply