নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » পাহাড়ে হৃদরোগ চিকিৎসা কতদূর?

পাহাড়ে হৃদরোগ চিকিৎসা কতদূর?

01পার্বত্য এলাকার মানুষের হৃদরোগ চিকিৎসায় নির্মিত রাঙামাটি সদর হাসপাতালের করোনারী কেয়ার ইউনিট উদ্বোধনের পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। হাসপাতালের পাশেই বিশাল এই সিসি ইউনিট টি চালু হলে প্রতিবছরই অনাকাংখিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যেতো অসংখ্য প্রাণ। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা আর অবহেলায় পাঁচ বছরেও চালু হয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিসি ইউনিটে হৃদরোগের জন্য দুটি কেবিনসহ ২০ শয্যার দুটি ওয়ার্ড নির্মিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোন শয্যা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি। নিয়োগ দেয়া হয়নি প্রয়োজনীয় জনবলও। ফলে চালু করা যাচ্ছেনা প্রতিষ্ঠানটি।
চিকিৎসা কার্যক্রম চালু না করায় ভবনটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। পুরো করোনারি কেয়ার ইউনিটকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার জন্য অনেকগুলো এসি লাগানো হলেও ব্যবহার না হওয়ায় এসিগুলোও ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ইউনিট চালু করার উদ্যেগ না নেয়ায় সিসি ইউনিট ভবিষ্যত কি হবে তা নিয়ে ও সংশয় দেখা দিয়েছে পার্বত্যবাসীর মাঝে। 02

রাঙামাটি সদর হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, হৃদরোগ চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় রাঙ্গামাটির এই সিসি ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেয়। ২০০৭ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করার পর ২০০৯ সালে গণপুর্ত অধিদপ্তর জেনারেল হাসপাতালের পাশে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সিসি ইউনিটের আধুনিক ভবন নির্মান শেষ করে। ২০০৯ সালের ১২ আগষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এ ভবন উদ্বোধনও করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে করোনারী কেয়ার ইউনিটের কার্যক্রম এখনও চালু করা যাচ্ছেনা। ফলে পরিত্যক্তই পড়ে আছে ৩ কোটি টাকার ভবন। 03

অথচ সিসি ইউনিট চালু করার প্রাক্কালে প্রতিশ্রুতি ছিল, পার্বত্য এলাকার হৃদরোগের চিকিৎসা পেতে রোগীদের আর বাইরে যেতে হবে না। বান্দরবান,খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির রোগীরা হাসপাতাল সংলগ্ন এই সিসি ইউনিট থেকে সহজেই হৃদরোগের চিকিৎসা নিতে পারবেন। হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য হাপাতালের সিসি ইউনিটে সার্বক্ষনিক ডাক্তার নিয়োজিত থাকবেন এবং চিকিৎসা সুবিধা দেবেন। কিন্তু এতোদিনেও এই সেবা চালু না হওয়ায় পাহাড়ের মানুষ নিরাশার দোলাচলে দুলছে।

রাঙামাটির তবলছড়ির বাসিন্দা এডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন,এক বছর আগে আমার বাবা’র শ্বাসঃকষ্টের কারণে আমরা তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়। যদি করোনারি কেয়ার ইউনিটটি চালু থাকতো তাহলে হয়তো আমরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেতাম এবং বাবাকেও সুস্থভাবে ফিরে পেতাম। আমরা চাই আমার বাবার মতো আর কেউ যেনো এইভাবে মারা না যায়। দ্রুত করোনারি কেয়ার ইউনিটটি চালু করার দাবিও জানান তিনি। শুধু এই আইনজীবিই নয়,রাঙামাটিসহ পার্বত্য তিন জেলার মানুষের দাবি দ্রুত করোনারি কেয়ার ইউনিটটি চালু করার। 04

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানালেন নানা সীমাবদ্ধতার কথা। তিনি বলেন,ইউনিটটি চালু করার জন্য যে পরিমান জনবল প্রয়োজন তা আমাদের নেই,লোক নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এর কোন অগ্রগতি আছে বলে জানা নেই। তিনি বলেন হৃদরোগ চিকিৎসার সিসি ইউনিটের শুধু মাত্র ভবন নির্মান হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নার্স,যন্ত্রপাতিসহ আনুষাঙ্গিক সুবিধা না থাকায় এ ইউনিটের কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, এ ইউনিট চালু করতে হলে বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ চিকিৎসক, নার্স, ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সুবিধা, ও পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। এই করোনারী ইউনটটি চালু করা গেলে এখানকার কোন রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাহিরে যেতে হবে না বলেও জানান তিনি। 05

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবান সীমান্তে দু’টি মাইন ধ্বংস

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে কৃষকের উদ্ধার করা দুইটি স্থল মাইন ধ্বংস করেছে সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল। …

Leave a Reply