নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » পাহাড়ে প্রতিশোধের অপর নাম অপহরণ’

পাহাড়ে প্রতিশোধের অপর নাম অপহরণ’

Untitled-1fr3পার্বত্যাঞ্চলে প্রতিশোধ স্পৃহার নাম ‘অপহরণ’। ‘অপহরণ’ পার্বত্যাঞ্চলে এখন একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহ বা মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোথাও না কোথাও ঘটছে অপহরণ। অপহরণের শিকার হচ্ছেন পাহাড়ের রাজনীতিক থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া দিন মজুর, কৃষক পর্যন্ত। রাঙামাটির আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অনিল তঞ্চঙ্গ্যা অপহরণের এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো তার কোনো হদিস জানে না কেউ। রাত দুপুরে বসতবাড়ি, দিনের বেলায় হাটবাজার বা কর্মক্ষেত্রে থেকে কে কখন অপহরণের শিকার হচ্ছেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অপহরণের এক অজানা আতঙ্কে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে পার্বত্য জনপদে। আতঙ্কে ঘুম নেই পাহাড়ের মানুষের। এক গ্র“পের অপহরণ ঘটনা ঘটলে কয়েকদিন পর দেখা যায় আরেক গ্র“পের অপহরণ ঘটনা। এর ফাঁকে মাঝেমধ্যেই চলে গোলাগুলি; অতঃপর লাশ। গত ১২ মার্চ জেএসএস (এমএন লারমা) গ্র“পের রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীর্ঘ চাকমাসহ অপর তিন কর্মী নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা যেনো এই অপহরণ রাজনীতিকে আরো উস্কে দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত কয়েক মাসে রাঙামাটি থেকে শতাধিক মানুষকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে কয়েকজন লাশ হয়ে আবার কেউ মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এলেও খোঁজ নেই অনেকের। পাহাড়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অপহরণ ঘটনা ঘটে এই বছরের ১৬ ফেব্র“য়ারি। ওইদিন রাঙামাটিতে জেএসএসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থেকে ফেরার পথে লংগদুর কাট্টলি থেকে প্রায় সত্তর জন জেএসএস কর্মীকে অপহরণ কর্মীকে অপহরণ করা হয়। এদের মধ্যে জেএসএসের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী প্রথমে নয় জনকে ও পরে ৩৪ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকিদের এখনো উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন। আবার পাঁচদিনের ব্যবধানে লংগদুতে আরো ছয়জন অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গত ৮ জুলাই বাঘাইছড়িতে টেলিটকের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বি টেকনোলজির ৫ কর্মীকে অপহরণ করা হয়। প্রায় ১৮দিন পর তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।
এসব অপহরণের ঘটনার জন্য পাহাড়ে বিবাদমান তিন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, চুক্তিবিরোধী ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) ও জেএসএস(এমএন লারমা) পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছে। অপহরণ ঘটনার পর পরস্পরকে পাল্টাপাল্টি দায়ি করা হয়। তবে দ্ইু গ্র“পই অপহরণের সাথে সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে আসছে। অপহরণের শিকার বেশিরভাগ পাহাড়ি জনগোষ্ঠির মানুষ এবং এদের অধিকাংশই সাধারণ গ্রামবাসী, শিক্ষক, কৃষক ও দিনমজুর।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-তথ্য ও প্রচার স¤পাদক সজীব চাকমা বলেন, মূলত পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত ও জনসংহতি সমিতি নেতৃত্বশূন্য করার লক্ষ্যে এই অপহরণগুলো করা হচ্ছে। অপহরণের মাধ্যএইসব ঘটনা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ জনগণের মধ্যে চুক্তি বিষয়ে আতঙ্ক তৈরির জন্য তারা এই অপহরণগুলো করছে।
ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সংগঠক শান্তি দেব বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি জিইয়ে রেখে সরকার ফায়দা লুটতে চায়। সরকার ইচ্ছে করে সন্তু লারমাকে দিয়ে এই অপহরণ ঘটনা ঘটাচ্ছে। আবার জেএসএসের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে এসব ঘটনার পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক জাহাঙ্গীর কামাল বলেন, জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির জন্য এইসব অপহরণ ঘটনা ঘটছে।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির জন্য অপহরণ ঘটনা ঘটেছে। তবে গত ১২ মার্চ সুদীর্ঘসহ তাদের কয়েক কর্মীকে গুলি করে মারার পর তাদের সশস্ত্র গ্র“পও প্রতিশোধ স্পৃহায় মাঠে নেমেছে। তবে একসময় সব ঠিক হয়ে আসলেও ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত আবারো উস্কে দেয় এইসব অপকর্মকাণ্ডের।
এদিকে একের পর এক অপহরণ ঘটনায় পাহাড়ের জনজীবনের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে, সর্বত্র বিরাজ করছে অনিশ্চয়তা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা। থেমে যাচ্ছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। কিন্তু, সাধারণ পাহাড়ি বাঙালি কেউই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে ভয়ে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় যে, এসব অপহরণের অধিকাংশ ঘটনার জন্য থানায় কোনো মামলাও হয় না। কয়েকটি ঘটনায় মামলা হলেও অপহৃতদের উদ্ধার বা অপহরণে জড়িতদের আটক করতে পারেনি পুলিশ। আর অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঙালি ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদ সমাবেশ

ছাদেকুল হত্যার বিচার ও পার্বত্য এলাকা থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের …

Leave a Reply