নীড় পাতা » ফিচার » খোলা জানালা » পাহাড়ে নববর্ষ ও বৈসাবি : কিছু প্রশ্নের বিলম্বিত উত্তর খুঁজছি

পাহাড়ে নববর্ষ ও বৈসাবি : কিছু প্রশ্নের বিলম্বিত উত্তর খুঁজছি

P-Chyএখন থেকে দুই দশকেরও বেশী সময় আগে আমি প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়ি আসি, রক্তক্ষয়ী বেদনাভরা লোগাং সংঘাতের পর। তখনকার সময়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের অগ্রগন্য রাজনৈতিক তাত্ত্বিক এবং আইনজ্ঞ এডভোকেট মোহাম্মদ লোকমানের (বর্তমানে প্রয়াত) সাথে। সম্ভবত তিনি আমার বাবার শিক্ষক ছিলেন। তখন ফটিকছড়িতে আমিসহ সমমনাদের যৌথ উদ্যোগে ‘অক্ষর সাহিত্য গোষ্ঠি’ নামের একটি ছোট্ট সাহিত্য সংগঠন গড়ার সুবাদে তাঁর সাথে আমরা বেশ ক’জন তরুণের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিলো। বন্ধুতার আলাপে তাঁর কাছেই প্রথম জাতীয়তাবাদ, বিপ্লব, রাজনীতি, শ্রেণী সংগ্রাম, সমাজ পাল্টে দেবার মন্ত্র আর গণমানুষের সাহিত্য ও বৃদ্ধিবৃত্তি’র মতো কঠোর-কঠিন শব্দগুলোর সাথে পরিচিত হই।
তিনি একদিন বললেন, ‘পত্রিকা দেখেছো, আজ?’ পাহাড়ে বড়ো ধরনের সংঘাতের খবর উঠেছে। চলো, আমরা একদিন পাহাড়ে যাই। বয়োবৃদ্ধ এই জ্ঞানপিপাসু মানুষটিকে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে নিয়ে যাবার দায়িত্ব পড়লো, আমার ওপর-ই।
বুকে তখন অনেক বেশী সাহস আর উত্তেজনা ছিলো। সবেমাত্র কলেজে পা দিয়েছি। উত্তর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘নাজিরহাট ডিগ্রী কলেজ’-এর বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হবার অল্প কিছুদিন পর-ই উঠি হোস্টেলে।
শিক্ষার্থী জীবনের আবাসিক সময়গুলোর শুরুতেই পরিচয় গড়ে উঠলো স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আর্কিমিডিস চাকমা (মহালছড়ি’র সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং গুমের শিকার) এবং শুভ্রজ্যোতি চাকমা’র (বর্তমানে রাঙামাটি সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউটের গবেষণা কর্মকর্তা) সাথে। নাজিরহাট কলেজে নব্বই দশকের প্রথমভাগে প্রচুর পরিমাণ পাহাড়ী বন্ধু-বান্ধব পড়তেন।
সঙ্গত কারণেই আমি তাঁদের কাছে জানতে চাইলাম, লোগাংয়ের পরিস্থিতি এবং এডভোকেট মোহাম্মদ লোকমানকে নিয়ে কীভাবে যাওয়া যেতে পারে সেখানে।
১৯৯২ সালের ১০ এপ্রিল। যেদিন খাগড়াছড়ি’র পানছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী লোগাংয়ে ঘটেছিলো অমানবিক বেদনাবহ এক রক্তঝরা সংঘাত। এখন ঠিক মনে পড়ছেনা, সম্ভবত সে দিনের আর ক’টা দিন পরই ছিলো চাকমাদের ‘বিজ’ু, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ এবং ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’।
ঘটনাটি’র ভয়াবহতা আমাকে খুব বেশী ছুঁয়ে না গেলেও প্রয়াত এডভোকেট মোহাম্মদ লোকমানকে ভালোই পীড়িত করেছিলো বলে মনে হয়। তিনি আমাকে যতো দ্রুত সম্ভব ততো শিগ্গির লোগাং যাবার তাগাদা দিয়েই যাচ্ছিলেন। তাঁর চাপাচাপিতেই ১৯৯২ সালের ১৬ অথবা ১৭ এপ্রিল তিনিসহ আমরা বেশ কয়েকজন (এর মধ্যে অচেনাই ছিলো অনেকে) যাত্রা করলাম পানছড়ি’র লোগাংয়ের উদ্দেশে। অনেক বাধা-বিপত্তি আর কূট-কৌশলের সিঁড়ি ডিঙিয়ে শেষ বিকেলে পৌঁছলাম, দুঃস্বপ্নের জনপদ লোগাংয়ে।
সেই বছর পাহাড়ীরা বিজু-সাংগ্রাই এবং বৈসু; স্বাভাবিকভাবে পালন করেনি। উৎসবের পরিভাষাকে পাল্টে দিয়েছিলো প্রতিবাদের রঙ। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিশ্ব মিডিয়ায় ঘটনাটি ঝড় তুলে, সর্বত্রই বিদ্ধ হচ্ছিলো তীব্র সমালোচনার তীর। তৎকালীন বিএনপি সরকারকে বিশ্ব বিবেকের কাছে বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়েছিলো লোগাং সহিংসতার ইস্যুতে।
সেই দুঃসময়ে দুঃসাহসী আন্দোলনের অপ্রতিরোধ্য ঢেউ তুলেছিলো, পাহাড়ী ছাত্ররা এবং তাঁদের সংগঠন ‘পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ’। একই বছরের শেষদিকে ভারতে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল ‘বিজেপি’ নেতৃত্বে ‘পবিত্র বাবরি মসজিদ’ ভেঙ্গে তাঁর স্থলে কথিত ‘রাম মন্দির’ বানানোর অশুভ অপচেষ্টার জিগির উঠেছিলো। সেই জিগিরের বিধ্বংসী ধর্মান্ধ লীলায় দেশের বিভিন্নস্থানে হিন্দুদের বসত-বাড়ী, মঠ-মন্দির এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর-লুঠপাট এবং অগ্নিসংযোগের মতো অবর্ণনীয় বীভৎসতা চালানো হয়।
দুটি ঘটনাতেই স্বাধীন বাংলা ভূখন্ডের জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মনে দেশপ্রেম’র মতো আত্মিক অনুভুতিতে চরম চিড় ধরে। জান-মালের নিরাপত্তা আর ভবিষ্যত শংকায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন অসংখ্য মানুষ। দেশছাড়া অনেকগুলো স্বজনের উত্তরাধিকার বহন করছি, আমিও।
পাহাড়ীদের মতো সে বছর, বাঙ্গালী হিন্দুরাও প্রধানতম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘দূর্গাপূজা’ বর্জন করতে চেয়েছিলো। কিন্তু সরকারের নানামুখী কারিশ্মায় পুলিশ-বিডিআর বেষ্টিত সেই পূজায় কোন প্রাণের স্পন্দন যেমন ছিলো না, ছিলো প্রতিবাদী কালো ব্যানার। কোথাও কোথাও সরকারী উদ্যোগে টানানো প্রতিবাদী ব্যানারও সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো।
সেসব দুঃসময় যেনো বার বার ফিরে আসে প্রিয় বাংলাদেশ আর তার ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে। এইতো রামু-পটিয়া-নন্দীরহাট’র সাম্প্রদায়িক ক্ষত ঢাকা পড়েছে সিরামিক-টাইলস্-ইট আর সিমেন্টর আস্তরনে। পুরো ২০১৩ সাল জুড়েই জ্বলেছে সমতলের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মন আর শরীর।
কিন্তু কার্যকর কোন প্রতিবাদ কী গড়ে উঠেছে। বরং ভুলে গেছি সব, প্রিয় স্বদেশের সম্মান আর নাড়ির টানে।
শোভাযাত্রার পর শোভাযাত্রা। চাকমা-মারমা-ত্রিপুরা-বাঙালীদের পৃথক শোভাযাত্রা। সরকারী-বেসরকারী শোভাযাত্রা। কেনো এতো বিভক্তি? খাগড়াছড়িতে মারমাদের দ্বিধাবিভক্ত শোভাযাত্রার প্রতিযোগিতা।
কর্পোরেট পুঁজিতে প্রতিযোগিতা, লটারী, জলখেলী আর ‘গরয়া’র বিচারের দায়িত্বে শহুরে বোদ্ধার হুংকার।
নিরামিষ ‘পাঁজন’র স্থান দখল করে নিলো বৃহদাকার মাংসাশি প্রাণ। দাংদুক, মেছং, ফ্লুং, হেংগংরং, বাঁশ খড়ম, ‘ধ’ , ‘ঘিলা’র স্থানে মডার্ন মিউজিক আর ফ্যাশন শো। দুই দশক পর হঠাৎ পাহাড়ে জমকালো ‘বৈসাবি উৎসব’ আয়োজন দেখে সত্যিই আমি টাসকি খেয়েছি।
হয়তো রক্ষণশীল অথবা অনাধুনিক মানুষ হিসেবে, এসব আমার খারাপই লাগলো। কিন্তু তাই বলে কী, এই মহান উৎসবে জাতীয় জীবনের কোন এজেন্ডা থাকতে পারেনা? সমতলের তুলনায় যে জনপদে অনেক বেশী সাংস্কৃতিক-ধর্মীয়-ভাষাগত-খাদ্যরুচি এবং পরিধেয়’র বৈচিত্র্য বিদ্যমান; সে জনপদে তো সবাই মিলে একটি শোভাযাত্রা হতে পারতো। হতে পারতো ‘পাহাড়ী-বাঙ্গালী’র যৌথ সম্মিলন। সাহস নিয়ে আওয়াজ তোলা যেতো, ‘আমরা সবাই মানুষ, ‘বাংলা নববর্ষ কিংবা বৈসাবি’; আমাদের প্রাণের উৎসব।
আমরা সবাই জানি, পতিত স্বৈরাচার এরশাদ শাহীর ‘হিটলারতন্ত্র’র বিরোধীতার পথ ধরেই মঙ্গল শোভাযাত্রা পেয়েছে ভিন্নমাত্রা।
গত বছরের পুরোটা সময়জুড়ে মাটিরাঙ্গার তাইন্দং, সাতক্ষীরা, নীলফামারী, দিনাজপুর এবং তারও আগে রামু-পটিয়া-নন্দীরহাটে ঘটে যাওয়া নিপীড়নের শিকার মানুষগুলোর জীবনে নববর্ষ কিভাবে প্রতিফলিত হয়েছে; আমরা কেউ জানি কী?
‘বাংলা নববর্ষ’ এবং ‘বৈসাবি’ তো এই বাংলার অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্যিক আয়োজন। আমরা জানি সমতলের মতো পাহাড়েও চেনা-অচেনা অনেক সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ও অ-রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। সরকারের কর্মকর্তাদের মধ্যেও এমন অশুভ চিন্তা লালনকারী অসংখ্য মুখ রয়েছে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অপরাধকে রাজনৈতিকীকরণ এবং সাম্প্রদায়িকীকরণের অপচেষ্টার আগুনে ঘি ঢালার লোকেরও কমতি নেই।
দেশ স্বাধীনের এক দশকের ব্যবধানেই আমরা দেখেছি, কী নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে; হাজার বছরের শ্রেষ্ট্র মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে এবং উন্নয়নে আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার জিয়াউর রহমানকে। প্রাণনাশের অপচেষ্টা করা হয়েছে একজন বিরোধীদলীয় নেতাকেও। বঙ্গবন্ধু উত্তর বাংলাদেশে রোপিত অন্ধত্বের বীজ, যেনো আজ মহীরুহে পরিণত। গত দুই দশকে ধর্মীয় উগ্রতা আর রাষ্ট্র-দেশ আর রাজনীতির সাম্প্রদায়িকীকরণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা যেনো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।
এই অসভ্যতার শিকারে সবচেয়ে বেশী পর্যুদস্ত হচ্ছে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরাই। আর এই সংখ্যালঘুরাই এই ভূখন্ডে সেই ব্রিটিশ কিংবা তারও আগে থেকে শিক্ষা-সেবা এবং সংস্কৃতিতে বেশীমাত্রায় অবদান রেখে আসছিলেন। শুধু তাই নয়, হিন্দু-মুসলমান সর্ম্পক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক মৈত্রী এবং লোকায়ত উৎসবের সর্বজনীনতা ধরে রাখা এবং প্রজন্মান্তরে সঞ্চারের দায়িত্বটুকুও তাঁরাই পালন করেছিলেন।

 তাই আমি চাই পাহাড়ে অথবা সমতলে; যেখানেই উৎসব হোক, সে উৎসব যেনো জাতীয় জীবনের সুখ-দুঃখকে প্রতিফলিত করে। শহুরে উৎসবী ঢাক-ঢোলের আওয়াজে যেনো ম্লান হয়ে না যায় দরিদ্র আর প্রান্তিক মানুষের প্রত্যাশা। এক্ষেত্রে পাহাড়ের সংখ্যাগুরু বাঙ্গালী মুসলমান-হিন্দু এবং চাকমাদেরকেই সর্বাগ্রে এগিয়ে আসা চাই। কারণ সংখ্যালঘুরা, তাবৎ পৃথিবীর সব দেশেই সংখ্যাগুরু দ্বারাই প্রভাবিত।

আজ এতো দীর্ঘ বয়ান দিতে গেলাম, সেই এডভোকেট মোহাম্মদ লোকমানের স্মৃতি কাতরতায় বিধ্বস্ত হয়ে। ১৯৯২ সালের লোগাং সহিংসতায় তিনি অতিশয় বেদনা প্রকাশ করলেও উৎসবের প্রতিবাদী অবয়বকে তিনি ধারণ করেছিলেন অকৃত্রিমভাবেই। তাঁর পরামর্শ আর শাণিত দ্রোহে সেদিন ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রাম নগরের অনেকগুলো পূজামন্ডপে আমরা বন্ধুরা উড়িয়েছিলাম প্রতিবাদের ব্যানার।
‘লোগাং সহিংসতা’ কিংবা ‘রামু-সাতক্ষীরা’ বাংলাদেশের যেই প্রান্তেরই কথা বলিনা কেনো, সংস্কৃতি ঋদ্ধ সমাজই স্থায়িত্বশীল হয়। অপ-সংস্কৃতি নির্ভর দেশ-সমাজ সব সময়ই ক্ষয়িষ্ণু এবং বহুধাবিভক্ত।
ব্যক্তিগত জীবনে পাহাড়-সমতলের অগাধ বন্ধুতায় সিক্ত আমি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী জীবন এবং তার পরের দেড় দশকেরও বেশী সময় পাহাড়ের সংবাদকর্মে নিযুক্ত থাকার সুবাদে পার্বত্যাঞ্চলের নানা জন-জাতির এগিয়ে যাওয়া আর পিছিয়ে যাওয়ার খবরও কমবেশী জানা হয়েছে।
পাহাড়ে ‘বাংলা নববর্ষ বরণ ও বিদায়’ এবং ‘বৈসাবি (বৈসু-সাংগ্রাই-বিজু)’ শেষ হলো। খাগড়াছড়ি শহরের মহালছড়ায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া মৃদু অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা বাদ দিলে এবারের বৈসাবি ছিলো, গত দেড় দশকের মধ্যে সেরাম আনন্দঘন।
এবার আমি নিজেও অতিথি সান্নিধ্যের কারণে অনেকটা ঘরকুনোই ছিলাম। যেতে পারিনি কোন দূর পাহাড়ী গ্রামেও।
তবে খবর পেয়েছি, শহরে বৈসাবি আর গ্রামের বৈসাবিতে অনেক হেরফের ঘটেছে। শহরের পার্বণে আড়ম্বড়তার উৎপাত প্রত্যক্ষ করলেও গ্রামের মানুষ যেনো বলী হয়েছেন, শুধুই শোভাযাত্রার।
শোভাযাত্রা শেষে তাই হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখেছি, ‘গরয়া’ শিল্পীদের খাবার আর গাড়ীভাড়ার সন্ধানে।

প্রদীপ চৌধুরী : পাহাড়ের সংবাদকর্মী

( খোলা জানাল বিভাগে প্রকাশিত সকল মন্তব্য প্রতিবেদন ও কলাম’র অভিমত বা মন্তব্যের দায় একান্তই লেখকের, এর সাথে পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম এর সম্পাদকীয় নীতিমালার কোন সম্পর্ক নেই)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply