নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পাহাড়ে তরমুজ চাষে বিপ্লব

পাহাড়ে তরমুজ চাষে বিপ্লব

tormuj-pic-01বান্দরবানে পাহাড়ের ঢালুতে বাড়ছে তরমুজ চাষ। তরমুজের ব্যাপক ফলন স্থানীয় কৃষিতে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। কিন্তুঅসময়ের বৃষ্টিতে আলীকদম, লামা উপজেলাসহ জেলা সদরের ভাগ্যকুল, কাইচতলীতে তরমুজ চাষের ক্ষতিও হয়েছে বেশ। আর ভালো ফলনের পরও নায্যমূল্য বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় তরমুজ চাষীরা। ফলে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনছে পাহাড়ী-বাঙ্গালী তরমুজ চাষীরা।

আলীকদম উপজেলার জানানি পাড়ার তরমুজ চাষী নূরুল ইসলাম জানান, মাতামহুরী নদীর চরে প্রায় দুই একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কিনতে না চাওয়ায় বাধ্য হয়ে ৭০ হাজার টাকায় তরমুজ ক্ষেত্র বিক্রি করে দিয়েছে। অসময়ের বৃষ্টিতে লাভের পরিবর্তে উল্টো দশ হাজার টাকা লোকসান গুনেছি। অথচ গতবছরও প্রায় দেড় লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি।

লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষী থোয়াই চিং ও মিনু মারমা বলেন, প্রায় পাঁচ একর জমিতে পাহাড়ের ঢালুতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। তবে অসময়ের বৃষ্টিতে গাছের গোড়া সবগুলো মরে যাওয়ায় তরমুজ বেড়ে উঠতে পারেনি। ক্ষেতের তরমুজগুলো অধিকাংশই লাল হয়নি, ভিতরের অংশে সাদা রঙের রয়ে গেছে। যে কারণে নায্যমূল্য বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় চাষীরা। BBN tormuj-01

কৃষি বিভাগ জানায়, আলীকদম, লামা এবং সদর উপজেলাসহ জেলার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড তরমুজ চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে, প্রায় দশ হাজার মেট্টিকটন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার মাতামুহুরী নদীর চরেও তামাকের পরিবর্তে বর্তমানে হাইব্রিড তরমুজ চাষ হয়েছে। জেলায় টপইল্ড এবং গ্লোরি দুই জাতের তরমুজ চাষ ব্যাপকহারে বেড়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে স্থানীয় চাষীরা।
বীজ বপনের ৯০ থেকে একশ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। পাহাড়ের আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় ঢালুতে জমিতে হাইব্রিড জাতের তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ আলতাফ হোসেন জানান, স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় হাইব্রিড তরমুজ চাষে যুগছে স্থানীয় চাষীরা। মাতামহুরী নদীর চরেও তামাক চাষের পরিবর্তে ব্যাপকহারে তরমুজ চাষ হচ্ছে। কিন্তু আগাম বৃষ্টির কারণে এবছর তরমুজ চাষীরা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে লাভ কম হলেও লোকসান গুনতে হবে না চাষীদের। আগামীতে তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বান্দরবান জেলায়। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাহাড়ের ঢালুতে চাষ করা বান্দরবানের তরমুজ বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য তরমুজ চাষের সাথে সংশ্লিষ্টদের।Bandarb-Tormus-Pic_3

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply