নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » পাহাড়ে জয়ের নিশান উড়ছে জনসংহতি’র

পাহাড়ে জয়ের নিশান উড়ছে জনসংহতি’র

JSS flag coverপার্বত্য রাঙামাটিতে এখন যেনো জয়ের নিশান’ই উড়ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির। গত ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে সবশেষ উপজেলা নির্বাচনে জুরাছড়ির আসনও দখল করলো জুম্ম জনগণের ‘জাতির পিতা’ এমএন লারমার হাতে গড়া দল জেএসএস। রোববার জুরাছড়িতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জেএসএস প্রার্থী উদজয় চাকমা স্বতন্ত্র প্রার্থী সুরেশ কুমার চাকমাকে প্রায় তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এর আগে রাঙামাটিতে দ্বিতীয় দফা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বাঘাইছড়িতে জেএসএস সমর্থিত প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা ও বরকলে জেএসএস সমর্থিত পাহাড়ের প্রথম নারী চেয়ারম্যান বরকলের মেয়ে মনি চাকমা জয়লাভ করেন। গত ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন জেএসএসের সহসভাপতি সাংসদ ঊষাতন তালুকদার। প্রথমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে উপজেলা পরিষদে তিনটি উপজেলায় প্রার্থী দিয়ে তিনটিতেই জয়লাভ করেছে দলটি। এনিয়ে নেতাকর্মীরাও রয়েছেন খোশমেজাজে। সকলের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, জেএসএস অতীতে যে ভুল করেছে এবার তা তারা করতে নারাজ। নির্বাচনের বিভিন্ন কৌশল কাজে লাগিয়ে তাঁরা জয় ছিনিয়ে আনছে। আগে একটি আসন থেকে কয়েকজন নির্বাচন করলেও এখন বিষয়টি সরাসরি জেএসএসের নেতৃবৃন্দ দেখাশোনা করছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে সরকার পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নানা তালবাহানা করায় পাহাড়ি জনগণ এতে ক্ষিপ্ত। তাঁরা জানান, বছরের পর বছর জুম্ম জনগণ বিভিন্ন জনগণকে নেতা বানালেও তাঁরা পাহাড়ি জনগণের স্বার্থ দেখেনি। বরঞ্চ কিভাবে এই জাতিকে ধ্বংস করা যায় তাই করে গেছেন। অর্থনৈতিক, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন সরকার এই জাতিকে মানসিক অত্যাচার করেছে। এখন তাদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে পাহাড়ি জনগণের প্রিয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ব্যালটের মাধ্যমে জয়যুক্ত করছে। এছাড়া প্রার্থী বাছাইয়ে জেএসএস চমক দিচ্ছে বলে জানায় তাঁরা। পাহাড়ি ও প্রগতিশীল বাঙালিদের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিকেই প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে বলেও জানায় তাঁরা। এছাড়া নির্বাচনে জেএসএসের নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রগুলোতেও প্রায় শতভাগ ভোট সংগ্রহের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীর জয়ের ভিত মজবুত করছে।

তবে ভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে তাদের বিরোধী সংগঠনগুলোর। পরপর জেএসএসের প্রার্থী জয়লাভের পেছনে পেশিশক্তি ও অস্ত্রবাজিকে দায়ী করছেন তাঁরা। বিরোধীদের মতে, নলতন্ত্রের মাধ্যমে কেন্দ্র দখল করে ভোট সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাধারণ পাহাড়িরাও অস্ত্রের কাছে জিম্মি বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।JSS Monogram

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা দলের ধারাবাহিক জয়ের ব্যাপারে বলেন, প্রথমত, আমাদের দল ঘনিষ্টভাবে জনগণের কাছাকাছি যেতে সক্ষম হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে যোগাযোগও আগের চাইতে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনে মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষের কাছে শান্তির কথা বলেছি। চুক্তি নিয়ে আমাদের আন্দোলন সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। এছাড়া প্রার্থীল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পাহাড়ি-বাঙালি সবার গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যার ফলে পাহাড়ি ভোটের পাশাপাশি বাঙালি ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে।

অস্ত্রবাজির মাধ্যমে জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, অস্ত্রবাজির মাধ্যমে জয়লাভ করতে পারলে তবে ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থীরাও জয়লাভ করতে পারতো। তিনি বলেন,পরাজিত হলে এরকম কথাই সবাই বলে।

আগামী ৩১মার্চ রাঙামাটিতে শেষ ধাপে চারটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে লংগদু ছাড়া রাঙামাটি সদর, বিলাইছড়ি ও রাজস্থলীর তিনটিতেই জেএসএসের নিজস্ব প্রার্থী রয়েছে,লংগদুতে একজন প্রার্থী প্রতি রয়েছে গোপন সমর্থন। উপজেলা নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রথম তিনটি উপজেলাতেই জয়লাভ করে এখন সবশেষ তিনটি আসনে জেতার জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছে। অন্যান্য প্রার্থীর চাইতে ভিন্ন কৌশলে তাঁরা প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীরাও আশাবাদী শেষ তিনটি আসনেও জয়লাভ করে উপজেলা নির্বাচনের ষোলকলা পূর্ণ করবেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply