নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পাহাড়ে ‘ছেছমা’ পিঠার ঘ্রান

পাহাড়ে ‘ছেছমা’ পিঠার ঘ্রান

pitha-01পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠীর নানান ধরনের পিঠার মধ্যে ‘ছেছমা’ পিঠা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটা মূলত: মারমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পিঠা হলেও ইদানিং ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠি নির্বিশেষে সবার কাছেই পিঠাটির আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে। কেবল ‘ছেছমা’ নয়; স্বাদে-গন্ধে ও দেখতে অতুলনীয় নানান পাহাড়ী পিঠা কদর দিনদিন বাড়ছেই।pitha-02
খাগড়াছড়িতে স্থানীয়ভাবে ‘ছেছমা পিঠা’ বান্দরবানের মারমাদের কাছে ‘ছাইস্ববক্ মু’ নামে বিশেষ পরিচিত। নাম তার যে যাই বলুক; এ পিঠার চাহিদা ও জনপ্রিয়তা সর্বজন বিদিত। অনুষ্ঠান আয়োজন হলেই ছেছমা পিঠার নাম আসে আপ্যায়নের মেন্যুতে আগে। এ পিঠা; খেতে মরিয়া থাকেন সব ধরণের পিঠা পেটুক ও বিলাসীরা। মারমাদের আরো নানান পিঠা রয়েছে। এসব পিঠার নামকরণ বা ইতিহাস নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য জানা না থাকলেও এটুকু বলা যায়, পিঠার বস্তু বা উপকরণের ভিত্তিতেও অনেকগুলো পিঠার নাম হয়েছে।pitha-03
খাগড়াছড়িতে নির্ধারিত কোন দোকানে মারমা পিঠা বিক্রি না হলেও বিশেষ করে শীতের মৌসুমে রাস্তার ধারে, পাড়া গাঁয়ে মারমাদের বিচিত্র পিঠা দেখা যায়। মারমা নারী-কিশোরীরা খুবই কম মূল্যে পিঠা বিক্রি করে থাকেন। শীত এলে অনেকে খুশি হন; বাড়তি আয় রোজগারের আশায়। সুস্বাদু এই পিঠা পর্যটকদের কাছে ইদানিং বেশ জনপ্রিয়।pitha-05
পিঠা বিক্রেতা চাছিং মং মারমা, আপ্রুশি মারমা জানান, বিশেষ করে শীতকালে আমরা এই পিঠা তৈরি করে থাকি। প্রতিদিন ৮ থেকে ৯শ টাকার পিঠা বিক্রী করি। এতেই সংসার চলে যায়।
মারমা গবেষক ও মুক্তিযোদ্ধা মংসাথোয়াই চৌধুরী বলেন, বিনি চাল, গুড় আর নারকেল দিয়ে তৈরি এই পিঠা অনেক সুস্বাদু। দেখতে অনেকটা পাটিসাপটা পিঠার মতো। খেতে অনেক মজা। তাই এটি সবার কাছে জনপ্রিয়। এছাড়াও মারমারা আরো অনেক পিঠাই তৈরি করেন। যেমন ছেছমা, কদা মু, কেইন্দা মু, রেপ্রিমু, ছিলামু, ফাকামু, গুংমু।
আপনিও বেড়াতে গেলে মারমা জনগোষ্টী নিশ্চয়ই আপ্যায়ন করাবেন ছেছমা, কদা মু, কেইন্দা মু, রেপ্রিমু, ছিলামু, ফাকামু, গুংমু প্রভৃতি পিঠা দিয়ে। মারমাদের ঐহিত্যবাহী আরো নানা পিঠা পায়েস প্রচলিত আছে।pitha-04

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

Leave a Reply