নীড় পাতা » ফিচার » অন্য আলো » পাহাড়ে চার সফল নারী

পাহাড়ে চার সফল নারী

cover-nariআফসানা বিলকিস : খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সফল নারী প্রশাসক আফছানা বিলকিস। তিনি ২০১৩ সালে ৮ ডিসেম্বর পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর থেকে উপজেলার পাহাড়ি-বাঙালির শান্তি-সমপ্রীতি বজায় রাখতে আন্তরিক ছিলেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহকারী রির্টার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে সফলভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তি জীবনে তার দুই সন্তান রয়েছে। তার স্বামী নাজমুল হোসেন শাহিন। ডিজিকন টেকনোলজিস্ট প্রাইভেট কোম্পানির মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।
তিনি ১৯৮০ সালে ১৭ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। তার বাবা মো. মতিউর রহমান করিমগঞ্জ পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী শিক্ষক। আর মাতা শামছুর নাহার বেগম একজন সরকারি চাকুরীজীবী। ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিভাগে ১ম বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ২৫তম বিসিএস প্রশাসন বিভাগে বিসিএস পাশ করে ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৮ ময়মনসিংহ জেলায় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন। পরে পদোন্নতি হয়ে ২০১১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন এবং সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে ২০১৩ সালে ৮ ডিসেম্বর পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। নোরাড স্কলারশিপ নিয়ে ২ বছরের জন্য নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবেন বলে জানান। একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমি সব সময় নির্যাতিত মহিলাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাদের কল্যাণে কাজ করতে চায়। ভবিষ্যত কর্মজীবনে নারী ক্ষমতায়নে কাজ করার সুযোগ পেলে আন্তরিকভাবে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করছি।

শোভা ত্রিপুরা : শোভা ত্রিপুরা বর্তমানে তিনি মহালছড়ি উপজেলার চৌংড়াছড়ি মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার লেখালেখিতে আগ্রহ বেশি। স্বামী মংছেনচিং (মংছিন) ও সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। তাদের দুই মেয়ে প্রিয়াংকা পুতুল ও তুলি পিয়া।
লিখেছেন বিভিন্ন বিষয়ে। তার লেখা ছোট গল্প, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী, গান, উপন্যাস ইত্যাদি। বিভিন্ন শীর্ষ স’ানীয় পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশ পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা সমূহের মধ্যে রয়েছে ঝরাপাতা (কবিতাগ্রন’), ত্রিপুরা জাতির ইতিকথা, ত্রিপুরা জাতির রূপকথা, জাতক (বুদ্ধ জাতক), ত্রিপুরা জাতি, ত্রিপুরা জাতির ইতিবৃত্ত, আলোময়ীমা ত্রিপুরেশ্বরী ও স্বপ্নের ধূসর ছায়া (উপন্যাস)।
শোভা ত্রিপুরা ১৯৭৩ সালে ঢাকার বঙ্গভবনে কৃতি যুব সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালে নারী গ্রন’ প্রবর্তনা আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপসি’তিতে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার লেখিকা হিসেবে বিশেষ সম্মাননায় সংবর্ধিত হন। ২০১২ সালের ২৬ মার্চ মহালছড়ি উপজেলার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ কর্তৃক সাহিত্য অবদানের জন্য সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তিনি ১৯৮৫, ১৯৮৬ এবং ২০০০ সালে মহালছড়ি উপজেলাসহ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে তিনি রাঙামাটি বনভূমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে রাঙামাটি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট হতে পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালে রাঙামাটি আদিবাসী ফোরাম কর্তৃক কবি হিসেবে সম্মাননা পদক লাভ, সিরাজগঞ্জ বিশ্ব কবিতা (সাহিত্য উৎসবে) সম্মাননা ও পদক লাভ এবং ঢাকা জাদুঘরে ছায়ানীড় টাঙ্গাইল কর্তৃক কবি সম্মাননা লাভ করেন। তিনি ঢাকা বাংলাদেশ ফোকলোর সোসাইটিরও একজন সদস্য। শোভা ত্রিপুরার অনেক পান্ডুলিপি এখনও অপ্রকাশিত অবস’ায় আছে। এ জন্য তিনি প্রকাশকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কাকলী খীসা: কাকলী খীসা পেশায় জনপ্রতিনিধি। বিপুল ভোটে মহালছড়ি উপজেলা পরিষদে দ্বিতীয়বারের মতো মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। নারীদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নেপাল, অস্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফর করার সুযোগ পেয়েছেন। সম্প্রতি ইউনাইটেড মুভমেন্ট হিউম্যান রাইটস ও ‘শান্তির প্রতীক’ নেলসন মেন্ডেলা স্মৃতি সংসদ থেকে সমাজ সেবাই বিশেষ অবদানের জন্য দুটি স্বর্ণপদক প্রদানের মনোনীত করা হয়েছে। তিনি ১৯৭৪ সনের ৪ জানুয়ারি মহাজনপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সুষমা রঞ্জন খীসা গ্রাম প্রধান (কার্বারি), মা প্রয়াত কানন বালা চাকমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি হলেন দ্বিতীয়।
সর্বস্তরের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
হাসিনা বেগম: হাসিনা বেগম খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৭১ সালে উপজেলাধীন তবলছড়ির ভাগ্যপাড়া তুলাতলী গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নাম মো. সাহেব আলী এবং মা অজিফা খাতুন। তার পিতা একজন শিক্ষক ও মা তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বার।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের স’ানীয় ওয়ার্ড কমিটি ও পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত হন। গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
হাসিনা বেগগের স্বামী মো. দুলাল মিয়া পেশায় পল্লী চিকিৎসক। তাদের এক পুত্র ও তিন মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সমাজ কল্যাণ’ বিষয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে মনোয়ারা বেগমকে পরাজিত করে মাটিরাঙা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের আগ্রহের কারণেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। অতীতেও নারী কল্যাণে নিজের ভূমিকা রাখার কথা দাবি করে বলেন, আগামীতেও নারীদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন। তিনি নারী নির্যাতন রোধসহ নারী সমাজের উন্নয়নে কী কী করণীয় আছে তা সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নারীদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করবেন বলেও জানান।

( আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে চমৎকার এই প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে চট্টগ্রামের দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের ৮ মার্চ ২০১৪ সংখ্যায়। পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম এর পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতাসহ)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি’র প্রচারপত্র বিতরণ

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূক প্রচারণা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার …

Leave a Reply