নীড় পাতা » বান্দরবান » পাহাড়ে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’র সুর

পাহাড়ে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’র সুর

wagga-02বান্দরবানে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে মেতেছে পাহাড়ীরা। পাহাড়ের বৌদ্ধ ধর্মালম্বী মারমা সম্প্রদায়ের তরুন-তরুনী এবং শিশু-কিশোর’রা বুধবার কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার, রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার, স্বর্ণ মন্দির জাদী, রামজাদী মন্দির’সহ বিভিন্ন ক্যায়াংএ ক্যায়াংএ গিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মাঝে ছোয়াইং দেন। কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে দায়ক-দায়িকা’দের মধ্যে ধর্ম দেশনা দেন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উচহ্লা ভান্তে।

ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব’কে ঘিরে কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে হাজারো প্রদ্বীপ প্রজ্জলন করা হয়। চন্দন কাঠের জলে বুদ্ধমূর্তি’কে ¯œান করানো হয়। অনুষ্ঠানে মারমা সম্প্রদায় ছাড়াও বৌদ্ধ ধর্মালম্বী অন্যান্য সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষেরাও ভীড় জমায়।

স্থানীয় পুরাতন রাজবাড়িমাঠে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাচে-গানে মাতিয়ে তোলেছেন মারমা শিল্পী গোষ্ঠীর তরুন-তরুনীরা। চলে সুর আর ছন্দের প্রতিযোগীতা। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঢল নামে পাহাড়ী-বাঙ্গালী মানুষের। বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও ভীড় জমিয়েছিল অনুষ্ঠানস্থলে। চূড়ান্ত প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়া পাঁচজন পাহাড়ী তরুন-তরুনীকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। অন্যান্যদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৬৯ রিজিয়ন কমান্ডার ব্রীগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী, জেলা ও দায়রা জজ শফিকুর রহমান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান’সহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা।waigga-01

ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব আয়োজক কমিটির উদ্যোগে গৌতম বুদ্ধের স্মরণে আকাশে উড়ানো হয়েছে রং বেরঙের শতশত ফানুস বাতি। ফানুসে ফানুসে রঙিন হয়ে বান্দরবানের রাতের আকাশ। তিন মাস বর্ষাবাস (উপুস) থাকার পর পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। প্রচলিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্নিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিল। তাই আশ্বিনী পূর্নিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় শতশত ফানুস বাতি। পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়েরা নিজস্ব সামর্থ অনুযায়ী ফানুসবাতি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করা হয়।
Bandarban-Oyaggai-Poye-PiC_
মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস: আকাশে উঠার আগেই যে ব্যাক্তির ফানুস মাটিতে পড়ে যায় তাকে পাহাড়ীরা পাপী লোক হিসেবে চিহ্নিত করে। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে ফানুস উড়িয়ে পাহাড়ীরা নিজেদের পাপ মোচন ও পাপী মানুষ খোজে বের করে। একারণে ফানুস আকাশে উড়ানোর সময় পাহাড়ীরা মারমা ভাষায় “সাও দো” “সাও দো” বলতে থাকে। অর্থাৎ শুভ মুক্তি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় দুজন নিহত

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় সুভাষ তনচংগ্যা (৪৫) ও ধরনজয় তনচংগ্যা (৩৬) নামে দুইজন …

Leave a Reply