নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » পাহাড়ে আঞ্চলিক দলের অঞ্চলভিত্তিক দাপট বাড়ছে !

পাহাড়ে আঞ্চলিক দলের অঞ্চলভিত্তিক দাপট বাড়ছে !

UZ-total-COverচতুর্থ উপজেলা নির্বাচন পাহাড়ের অঞ্চলভিত্তিক রাজনীতির,জটিল সমীকরণ আর বাঁক’কে যেনো আরো একবার সামনে নিয়ে এসেছে। সারাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আর বিএনপির দোর্দন্ড প্রতাপ যেনো মিইয়ে গেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। পাহাড়ের জটিল রাজনীতির বাঁকে বাঁকে বরাবরই খেই হারাতে হয় জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে। ফলে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রবল দাপুটে দলগুলোর ইচ্ছে বা ভালো লাগা মন্দ লাগার উপরই অনেকাংশে নির্ভর পাহাড়ে জাতীয় রাজনীতির চর্চা।

সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনের সময় জাতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে কোথাও ভ্রাতৃপ্রতীম নির্বাচনী লড়াই হলেও,আবার কোথাও কোথাও অজ্ঞাত কারণে প্রার্থীও দেয়নি জাতীয় দলগুলো। অবশ্য প্রার্থী না দেয়ার কারণ হিসেবে যোগ্য নেতৃত্ব না থাকা নয়,ভয়ের সংস্কৃতিকেই মুখ্য কারণ দেখিয়ে দায় এড়িয়েছে জাতীয় দলগুলো ।

তবে জাতীয় দলগুলোর সাথে দ্বৈরথ এর পাশাপাশি আঞ্চলিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার বিরোধও প্রকট হয়ে উঠে এবারকার উপজেলা নির্বাচনে। কোথাও গোপন সমঝোতা আবার কোথাও প্রবল চ্যালেঞ্জ এর মধ্যেই নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলো পাহাড়ের তিন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি,ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)।

উপজেলা নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, রাঙামাটি ও বান্দরবানের দাপুটে আঞ্চলিক দল সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি খাগড়াছড়িতে চেয়ারম্যানতো দূরের কথা,কোন পুরুষ বা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও জয়ী হয়নি। আবার খাগড়াছড়িতে প্রভাবশালী ইউপিডিএফ বান্দরবান কিংবা রাঙামাটিতে ভালো ফলাফল করতে পারেনি। রাঙামাটির কাউখালি,নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়িতে সংগঠনটির ভালো অবস্থান থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কাউখালিতে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদটি পাওয়া ছাড়া আর কোন অর্জন নেই ইউপিডিএফ’র।

অন্যদিকে জনসংহতি সমিতি( এমএনলারমা) এর আগের বার দীঘিনালা,মহালছড়ি ও বাঘাইছড়িতে চেয়ারম্যান পদটি দখলে রাখলেও এবার তারা শুধুমাত্র মহালছড়িটি ধরে রাখতে সক্ষত হয়েছে,বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা হারিয়েছে, আর নতুন নানিয়ারচর উপজেলায় নির্বাচিত হয়েছে।

অন্যদিকে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেয়া সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি এবারই প্রথম সরাসরি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং পাহাড়ের ২৫ টি উপজেলার মধ্যে ৮ টি উপজেলায় চেয়ারম্যান,৭টি উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান এবং ৭ টি উপজেলায় নারী ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী হয়ে বেশ ভালো ফলাফলই করেছে।

আবার ক্ষমতায় থেকেও সবচে খারাপ ফলাফল করেছে আওয়ামী লীগ। দলটি বান্দরবানে ১টি উপজেলায়ও চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হতে পারেনি। সদর উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ও রুমা উপজেলায় নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়ই তাদের সাফল্য।
অথচ সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জেলায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বর্তমান পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন টানা ৫ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর।
খুউব ভালো কোন সুখবর নেই দলটির রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়িতে। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি’ই একমাত্র উপজেলা যেখানে বিজয়ী আওয়ামীলীগ,আর রাঙামাটিতে মারমা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কাউখালি ও রাজস্থলী উপজেলায় বিজয়ই দলটির ভরসা ২৫ উপজেলার নির্বাচনে।
সেই বিবেচনায় ভোটের ফলাফলে জাতীয় দলের মধ্যে সবদিকেই এগিয়ে বিএনপি। ক্ষমতায় না থেকেও ৭ উপজেলায় চেয়ারম্যান,৬ উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান আর ৯ উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিয়ে সামগ্রিক ফলাফলে এগিয়ে বিএনপি। বান্দরবান সদর উপজেলায় বিজয়ের পাশাপাশি রাঙামাটি সদর ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় প্রধান প্রতিদ্বন্ধিও দলটির প্রার্থী। এছাড়া কাপ্তাই,লংগদু,রামগড়,মাটিরাঙা,লামা,আলীকদম এর মতো গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলো দখলে নিয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থাতেই আছে দলটি। বিএনপির একাধিক চেয়ারম্যান আবার পুনর্নির্বাচিতও হয়েছেন,বান্দরবান সদর,লংগদু তার উজ্জল উদাহরণ।

তবে উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল পাহাড়ের রাজনীতিতে আবারো একটি নয়া মেরুকরণ দাঁড় করাবে বলে মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি এই নির্বাচন আঞ্চলিক দলগুলোর অঞ্চলভিত্তিক রাজনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলবে,তেমনি জাতীয় রাজনীতির সাথে আঞ্চলিক রাজনীতির সংঘাত ও বৈরিতাকে আরো জটিল করবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাদশার ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে

যাযাবর জীবন; মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও মানুষের ভাষা বোঝে। সব সময় চুপচাপ থাকা পঞ্চাশোর্ধ মানুষটি অনেকের …

Leave a Reply