নীড় পাতা » ফিচার » খোলা জানালা » পাহাড়ের স্বপ্নের মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কি স্বপ্নই থেকে যাবে……?

পাহাড়ের স্বপ্নের মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কি স্বপ্নই থেকে যাবে……?

Sarwarইদানিং বিভিন্ন স্থানে সভা সমাবেশ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র নিরস্ত্র দু’ভাবেই সক্রিয় এক বা একের অধিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল এবং তাদের পক্ষপাতদুষ্ট সুশীল শ্রেণির কর্তাব্যক্তিরা যেভাবে রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়ে আছেন, তাতে আর যাই হোক না হোক – একটা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর সুশীল মুখোশের আড়ালের শিক্ষা বিরূপ আর প্রগতি বিরুদ্ধ চেহারাটা উন্মোচিত হয়েছে ঠিকই! যারা কোনো না কোনোভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রস্তাবিত সর্বস্তরের আপামর জনসাধারণের জন্য বৃহত্তর সুফলদায়ী দুটি বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন অব্যাহতভাবে! এতে করে কোনও বিশেষ পক্ষের বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার সম্ভবনা থাকলেও, অত্রাঞ্চলের একটা বিশাল সংখ্যার পাহাড়ি বাঙালি জনগোষ্ঠীর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে..!

শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর যদি পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু’র কন্যার আন্তরিকতা পূর্ণ সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হয়-তবে রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগটাও এই চুক্তির একটি ইতিবাচক সুফলপ্রদ দিক এবং সময়োপযোগী হিসেবে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিকও বটে..! কারণ দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবেই অস্থির অশান্ত করে রাখা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করাটাও চাট্টিখানি কথা ছিলো না ! শুধু আ’লীগের আন্তরিকতার কারণেই এই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, তা’ও একটা সময় নিয়ে! একদিনের একমুর্হূতের চেষ্টায় নয়..! তাই’ পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরিবেশ পরিস্থিতি আর ভবিষ্যতে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটা’ও যেমন তেমন কথা না! তার ওপর যাদের চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার’কে সাহায্য সহযোগিতা করার কথা তারা সহযোগিতার বদলে অসহযোগিতা করছেন’ বিভিন্ন মামুলি অজুহাতে বিরুদ্ধাচার করছেন বিভিন্ন ভাবেই ! এতে কি অবিশ্বাস সন্দেহ আর ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে না…? এর দায় কার……? যেমন’ শিক্ষার মৌলিক অধিকার হরণ করতে রাজনৈতিক কুট কৌশল আর ষড়যন্ত্রের প্রয়োগ করাটা খুব বেশি বুদ্ধিমানের কাজ তো না ! উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অধিকার সবারই আছে ! তাই আমাদেরই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই অধিকার’কে আমরা চাইলেই তো আর চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের রাজনৈতিক অজুহাত দেখিয়ে কেড়ে নিতে পারি না ! পরিপূর্ণ আন্তরিকতা নিয়ে চুক্তিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার পাশাপাশি-আমাদের ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগটা তো ‘আমাদেরকেই তৈরি করে দিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মই আমাদের চরম ধিক্কার আর ঘৃণাভরে মনে করবে আমাদের জন্ম মৃত্যুর দিনে! এটা আমরা আশা করি না…!

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন বেশ লম্বা সময়সাপেক্ষ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসী বিশ্বস্ততার ব্যাপার। যা দু এক দিনের হাম্বিতাম্বিতে হয়ে যাওয়া সম্ভব না। চুক্তির বেশিরভাগ শর্তাদি বাস্তবায়িত এবং বাস্তবায়িত হওয়ার পথে আছে। এখানেও আলাপ আলোচনার অবারিত সুযোগও খোলা আছে। কোনও ব্যাপারে আপত্তি থাকলে সেটা’ও আলোচনার টেবিলেই সমাধানযোগ্য ! আর যেখানে পার্বত্যচট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত, ১৯টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত আর ৫টি ধারা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে – সেখান চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা চুক্তিটি বাস্তবায়নে আওয়ামী সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও উপযুক্ত যুক্তিযুক্ত কারণই হতে পারে না !

রাজপথে আন্দোলনের হুমকিতে অথবা সশস্ত্র সংগ্রামের পথে ফিরে যাওয়ার অথবা পাহাড়ে আগুন জ্বালানোর হুমকিতে – এ সমস্যা সমাধান কি সম্ভব? পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে অঞ্চলভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো এবং এখানকার নেতৃস্থানীয় সুশীল সুধী সমাজপতিদের যে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে- তাতে তাদের প্রকৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটা স্পষ্টতর ধারণা করা যায়। যা অনভিপ্রেত! তারা যতই বলুক না কেন- ‘পার্বত্যাঞ্চলের পরিবেশ পরিস্থিতি এখনো এধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি নয়’ অথবা ‘কতিপয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মতামত না নিয়ে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হলে পাহাড়ে আগুন জ্বলবে’ তাদের এজাতীয় বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিক এবং যৌক্তিক ভেবে নেয়ার কোনও কারণ নেই…!!!

রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতাকারিদের উদ্দেশে একটা বিনীত অনুরোধ রাখছি, শুধুমাত্র আপনাদের আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে, উন্নত প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষার সুযোগটা নষ্ট করে না দিয়ে – পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি’র পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আ’লীগ সরকারকে সাহায্য সহযোগিতা করার পাশাপাশি – জেলায় মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলোও দুর করতে এগিয়ে আসুন দয়া করে।

লেখক : মোস্তফা নওশাদ সারোয়ার, সিনিয়র সহ-সভাপতি, রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ।

( লেখায় প্রকাশিত সকল মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সাথে পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডট কম এর সম্পাদকীয় নীতিমালার কোন সম্পর্ক নেই।)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

Leave a Reply