পাহাড়ের ভাজে ভাজে মৃত্যুকূপ !

pahar-01খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ। টানা কয়েক দিনের বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় বেশ কয়েকটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। অথচ ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসনের কোন ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তবে রবিবার স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি প্রশাসনের নজড়ে আনলে বিকালে নিরাপদে সরে যেতে প্রচারনা চালানো হয়। এদিকে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরানো সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান পৌর কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, টানা বর্ষনের কারণে খাগড়াছড়ি শহরের মোল্লাপাড়া, সবুজপাগ, শালবল, ধর্মঘর মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝুকিঁ নিয়ে বসবাস করছে কয়েক হাজার মানুষ। ইতিমধ্যে ডিসি বাংলো পাহাড়, সবুজবাগ, ধর্মঘরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধস দেখা দেয়ায় এ সব বসবাসকারীরা আতংকে ভুগছেন। এদিকে শহরের বেশ কয়েকটি স্পটে পাহাড় কেটে বা পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ বেড়েই চললেও পাহাড় কেটে বাড়িঘর নির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অপর দিকে পাহাড়ে পাদদেশে বসবাসকারীরা বলছে, থাকার জায়গা না থাকায় জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে তারা পাহাড়ের পাদদেশে বাস করছে।pahar-02

মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা ভূইয়ার বাসা সংলগ্ন প্রায় ৩০ ফিট উচ্চতার পাহাড়ের কিছু অংশ টানা বৃষ্টিতে ধস নেমেছে। ঐ পাহাড় ঘেঁষে রয়েছে প্রায় ৫ থেকে ৬টি পরিবার। মোস্তফা ভূইয়া জানান, শনিবার পাহাড়ের কিছু অংশ ধসে পরেছে। পাহাড় সংলগ্ন ঘরটির মানুষগুলোকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বুঝে নিরাপদে সরে যাবেন বলেও জানান তিনি। ১৮ পরিবার এলাকার বাসিন্দা নোয়ারা বেগম বলেন, টানা বৃষ্টিতে ঘরের সামনের অংশ ধসে পরেছে। বাচ্ছাদের নিয়ে ভয়ে ভয়ে রাত কাটে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই বলে এখনো এখানে থাকছি। পৌরসভা কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একবারো খোঁজ খবর নেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। সবুজ বাগ এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, ‘প্রতিনিয়ন পাহাড় কেটে কেটে ঘর বাড়ী উঠছে। আর বৃষ্টি পরলেই বালি মাটির পাহাড় ঝুকিঁপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পাহাড় ধসে পরেছে। পাহাড় কেটে বানানো ঘরের উপর পাহাড় ধসে পরেছে।’ তবে পাহাড় ধসে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশংকায় থাকলেও এসব মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের যেমন উদ্যোগ নেই, ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকাও প্রশাসনের কাছে নেই। এদিকে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরানো সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান খাগড়াছড়ি পৌর প্রশাসন।pahar-03

খাগড়াছড়ির পৌরসভার মেয়র মোঃ রফিকুল আলম বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিঁপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরে যেতে আমরা প্রচার চালাচ্ছি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে জেলা প্রশাসন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা প্রশাসনের তেমন কোন ভূমিকা দেখছিনা। তবে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরে মাইকিং করানো হচ্ছে। নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। এদিকে পাহাড় কেটে যারা ঘর তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply