নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » সৌরবিদ্যুতে আলোকিত হবে পাহাড়

সৌরবিদ্যুতে আলোকিত হবে পাহাড়

alooooদুর্গম পাহাড়ের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানো কঠিন ও অসম্ভব প্রায়,সেইসব এলাকাগুলোর মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে  পার্বত্যাঞ্চলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সোলার সিস্টেম বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ’  প্রকল্পর কাজ শুরু হবে শীঘ্রই।  পার্বত্য সচিব ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান  নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণেই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা।

এ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে তিন জেলার ২৬ উপজেলায় ৬ হাজার ৩০০ সোলার সিস্টেম বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার ৩০০ হলো হোম সিস্টেম আর দুই হাজার কমিউনিটি সিস্টেম। একেবারে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় আগে ব্যবস্থা করা হবে। সোলার সিস্টেম বসানোর জন্য মোট খরচ ধরা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। পুরোটাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগানো হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পর তা ২৪ নভেম্বর অনুমোদনও হয়েছে । প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ায় ২০১৮ সালের মধ্যেই সোলার সিস্টেম বসানোর কাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। এর ফলে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড কর্মকর্তারা। পরে ধাপে ধাপে অন্য উপজেলায়ও সোলার সিস্টেম বসানো হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন জেলায় দুই ধরনের সোলার প্যানেল বসানো হবে। একটি হোম সিস্টেম, অন্যটি কমিউনিটি সিস্টেম। হোম সিস্টেমের প্রতিটি প্যানেল হবে ৬৫ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন। বাছাইকৃত প্রতিটি পরিবারে একটি হোম সিস্টেম দেওয়া হবে। এ পদ্ধতি শুধু পরিবারের জন্য। অন্যদিকে একেকটি কমিউনিটি সিস্টেম হবে ১২০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন।

উন্নয়ন বোর্ড সূত্র আরো জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের কমিউনিটি সেন্টারগুলো স্থানীয়দের মিলনস্থল। বর্তমানে এসব সেন্টারে কেরোসিনের হারিকেন, কুপি বাতি বা মোমবাতির আলোয় ধর্মীয় সভা, উপাসনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে এবং ব্যাটারির সাহায্যে সাদাকালো টেলিভিশন দেখে মানুষ। বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়। এ ব্যবস্থার কারণে বাতাসে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বেশি। এতে পরিবেশ দূষিত হয়। কেরোসিন ব্যবহারের ফলে ব্যয় বেশি। বাড়িঘর থেকে বাজারের দূরত্ব ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। ফলে কেরোসিন আনতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় তাদের। কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রম নিয়মিত করা সম্ভব হয় না।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমিউনিটি সোলার সিস্টেম চালু হলে সন্ধ্যার পর সেখানে আলো সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে সহজেই। যারা একটু সচ্ছল তারা ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ  বলেন, যাদের হোম সিস্টেম দেওয়া হবে তাদের কাছ থেকে ‘টোকেন মানি’ নেওয়া হবে, নাকি বিনা পয়সায় দেওয়া হবে তা পরে নির্ধারিত হবে । বোর্ড দুই ধরনের প্রস্তাবই রেখেছে । তিনি বলেন, সোলার সিস্টেম নষ্ট হয়ে গেলে স্থানীয়রা নিজ খরচায় ঠিক করবে। এতে সরকারের ভূমিকা থাকবে না। স্থানীয়রা যাতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা জমা রাখে সে জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের ওপর পাড়ে হ্রদের তীরে অবস্থিত বালুখালীর বাসিন্দা ও কাপ্তাই বাঁধের কারণে স্থানচ্যুত জসীমউদ্দীন বলেন, আমাদের পরিবার কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে ভূমিচ্যুত। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস, এতোবছরেও আমরা বিদ্যুৎহীন। এখন সরকারের এই পদক্ষেপ যদি বাস্তবায়িত হয়,তাহলে হয়তো আমাদের দু:খ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

সম্প্রতি রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সভাকক্ষে ‘ পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীষক এক মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান ও পার্বত্য সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, এটি একটি ইউনিক প্রকল্প। এর মাধ্যমে আমরা পার্বত্য এলাকার যেসব স্থানে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানো বেশ কঠিন ও অসম্ভব প্রায়, সেইসব স্থানের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবো। তিনি প্রকল্পটি সফল হলে আরো বৃহৎ আঙ্গিকে করার স্বপ্নের কথাও জানান সেদিন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply