নীড় পাতা » পার্বত্য পুরাণ » পাহাড়ের কবিতার বরপুত্র কবি মৃত্তিকা চাকমা

পাহাড়ের কবিতার বরপুত্র কবি মৃত্তিকা চাকমা

Rangamati-Mritika-Pic-2শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন। সুস্বাগতম বরেণ্য কবি মৃত্তিকা চাকমা। ১৯৫৮ সালের ১২ জানুয়ারি। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে আলোকিত ও শুভ একটি দিন।
সেদিন রাঙ্গামাটি জেলা সদরের বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের কাপ্তাই হ্রদ সংলগ্ন মুবাছড়ির কাবত্যাদোর নামে ছোট্ট একটি পাহাড়ি পল্লীতে জন্ম পাহাড়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ আমাদের বরেণ্য কবি ও সাহিত্যিক মৃত্তিকা চাকমার। বরেণ্য এ সাহিত্য পুরুষের জন্ম নি:সন্দেহে আলোকিত করেছে পাহাড়ের নিবু নিবু জ্বলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতকে। যা আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি মৃত্তিকার মতো একজন বাংলা ও আদিবাসী সাহিত্য পুরুষের আবির্ভাব মেঘেঢাকা পাহাড়ের সাহিত্য জগতকে তুলে এনেছে আলোর পাহাড়ে। কবি মৃত্তিকা চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম।
এক সময় পাহাড়ের আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগত ছিল আলোর অন্ধকারে। চারণ কবি শিবচরণ ছিলেন শিরোমণি। পরবর্তী পর্যায়ে অনেকে চেষ্টা করেছিলেন জগতটিকে ফুটিয়ে তুলতে। কিন্তু নানা অপশক্তির হিং¯্র কালো থাবা আর আগ্রাসন বারেবারে দাবিয়ে দেয় প্রতিভাধরদের শানিত সব প্রচেষ্টাকে। ফলে ওই সময়ে অন্ধকার থেকে আলোর জগতে উঠে আসতে পারেনি পাহাড়ের আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গন।
আমরা দেখেছি স্বাধীনতা পরবর্তী কিছু আদিবাসী তরুণ আধুনিক কিছু সংগীত নিয়ে আদিবাসী সাংস্কৃতিক ধারাকে এগিয়ে নিয়ে আসেন। আদিবাসী অনেক তরুণ প্রতিভাধর অনুপ্রাণিত হন সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে প্রাণ দিতে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিকুল পরিস্থিতিতে শাসকগোষ্ঠীর দমণপীড়ন এবং ভিন্ন সংস্কৃতির আগ্রাসন বারেবারে মরিয়া ছিল তা দাবিয়ে রাখতে। আশির দশকের পরবর্তী কিছু সাহসী ও প্রগতিশীল সাহিত্যপ্রেমী আদিবাসী তরুণ এগিয়ে আসেন পাহাড়ের আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে। অনেকগুলো সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংগঠনের জন্মও হয় তখন। সেগুলোর মধ্যে ‘জুম ঈসথেটিক্স কাউন্সিল’ (জাক) নিঃসন্দেহে অগ্রগামী। যে কারণে বর্তমানে পাহাড়ের আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতটি দাপিয়ে এসেছে। এজন্য জগতটিতে লিপিবদ্ধ শিশির চাকমা, ঝিমিত ঝিমিত চাকমাসহ অনেকের নাম। তাদের মধ্যে কবি, সাহিত্যিক ও নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা অন্যতম একজন। পাশাপাশি প্রগতি চাকমার মতো আরও অনেক তরুণ কবি ও সাহিত্যিকও পাহাড়ের আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে বিচরণ করছেন আলোর দ্বীপশিখা জ্বালিয়ে। যা কখনও অস্বীকার করা যাবে না।
মৃত্তিকা চাকমা নিঃসন্দেহে বরেণ্য। শুধু কবিতা নিয়ে নয়, গল্প, নাটক ও গান নিয়েও পাহাড়ের আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতকে আলোকিত করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে অনেকগুলো কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছে তার। যা জাতীয় পর্যায়ে সমাদৃত। তার রচিত মঞ্চ নাটক একজুর মানেক, গোঝেন, বান, দেবংসী আহ্ধর কালা ছাবা, মহেন্দ্রর বনবাস, জোঘ্য, হককানির ধনপানা, একাত্তর তরুণী, ভুত, থবাক গ্রন্থ আকারে প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে একাধিকবার। ব্যাপক আকারে সমাদৃত হয়েছে সেগুলো।
তার প্রকাশিত কবিতার বই ‘দিকবন সেরেত্তুন, মন পরাণী, এখনো পাহাড় কাঁদে, অ্যাংকুর, মোনো উগুরে মেঘচাগ পাঠক ও লোক সমাজে সমাদৃত ব্যাপক আকারে। মৃত্তিকা চাকমা যে সাহসী ও দায়িত্বশীলতায় পাহাড়ের আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতকে আলোর পাহাড়ে নিয়ে এসেছেন এবং এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তার সেই ভূমিকা জাতির উন্নয়নে চলার পথে পাথেয়। এজন্য তার নাম লেখা রবে যুগে যুগে।
তার ৫৫ তম জন্মদিন হোক শুভ, সুন্দর ও সুখময়। আসুক আরও শত সুন্দর শুভ জন্মদিন তার। এটাই শুভ কাম্য…

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জেসমিন সুরভী’র কবিতাগুচ্ছ

নির্মম কি নির্মম এই পৃথিবী, কি নির্মম এই বাস্তবতা? কত যে কত নিকৃষ্টতা, কোথায় যে …

One comment

  1. I like sush type of activities.To build up Jummo culture,As a son of Jummo all of the Jummo students should follow it.It’s me nirupam chakma who is also a performer of stage drama.so ilike this pege, and want’s to be a writter on this pege..

Leave a Reply

%d bloggers like this: