নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » পাহাড়ি ৫২, বাঙালি ২৩

পাহাড়ি ৫২, বাঙালি ২৩

UZ-COver-09সম্প্রতি শেষ হওয়া ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৫ টি উপজেলার মধ্যে ১৮ টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ১৭ টি উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৭ টি উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে পাহাড়ী প্রতিনিধিরা। বিপরীতভাবে বাঙালীরা নির্বাচিত হয়েছেন চেয়ারম্যান পদে ৭টি,পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ৮ টি করে পদে।
তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের যথাক্রমে ১০টি,৮টি ও ৭ টি উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষন করে এমন তথ্যই জানিয়েছে ‘আদিবাসী’ অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশন।
পাহাড়ের ২৫ টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ৭ টি উপজেলায় চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাঙালী প্রতিনিধিরা। ১৮ পাহাড়ী চেয়ারম্যানের মধ্যে ১১ জন চাকমা জনগোষ্ঠী এবং ৭ জন মারমা জনগোষ্ঠীর সদস্য। নির্বাচিত এই ১৮ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ১৪ জনই আঞ্চলিক বিভিন্ন দলের সমর্থিত প্রার্থী আর ৪ জন জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। মজার ব্যাপার হলো,জাতীয় রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত এই ৪ জনই মারমা জনগোষ্ঠীর ! আবার একমাত্র নারী চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বরকল উপজেলার মনি চাকমা,তিনি আবার পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম নির্বাচিত নারী চেয়ারম্যানও।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানের ২৫ টি পদের বিপরীতে পাহাড়ী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে ১৭ টিতে আর বাঙালী প্রার্থী মাত্র ৮ টিতে। পাহাড়ী ১৭ জনের মধ্যে ৮ জন চাকমা,৫ জন মারমা এবং ত্রিপুরা,¤্রাে,তঙ্গচঙ্গ্যা ও বম থেকে ১ জন করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী ১৭ ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে ১৩ জন আঞ্চলিক পাহাড়ী দলগুলোর এবং ৪ জন জাতীয় রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থী।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও পাহাড়ী প্রার্থীদের ফলাফল বেশ ভালো। এখানে ২৫ টি পদের বিপরীতে ১৭ টিতেই বিজয়ী হয়েছেন পাহাড়ী নারীরা। এদের মধ্যে ৯ জন চাকমা,৫ জন মারমা এবং ত্রিপুরা,তঙ্গঙচ্গ্যা ও বম থেকে ১ জন করে নারী বিজয়ী হয়েছেন।
এর আগে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত ৩য় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাহাড়ের ২৫ উপজেলার মধ্যে ১৫ টি বিজয়ী হয়েছিলেন পাহাড়ী প্রার্থীরা। তবে সেবার বিজয়ী ১৫ জনের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থিত প্রার্থী এবং বাকী ৬ জন ছিলেন আঞ্চলিক দুই দল জনসংহতি(এমএনলারমা) ও ইউপিডিএফ প্রার্থী। সেবার সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

কাপেং এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে,‘দেশের আদিবাসী জনগণ,বিশেষ পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও ভূমি সমস্যা সমাধান নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতিবাচক অবস্থানে অখুশি। এবং পার্বত্য চুক্তির সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায়ও তারা অসন্তুষ্ট। এইসব কারণেই জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো উপজেলা নির্বাচনে খারাপ ফলাফল করেছে’ বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদনে।
একই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে,সমতলের তিন উপজেলা,মৌলভীবাজারের জুড়ি,দিনাজপুরের ঘোরাঘাট এবং চাপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে তিনজন ‘আদিবাসী’ নারী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান কুজেন্দ্রের

কভিড-১৯ মহামারী উত্তরণে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য …

Leave a Reply