নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » পাহাড়ি ছড়া ও ঝর্নাগুলো সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে

পাহাড়ি ছড়া ও ঝর্নাগুলো সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে

DSC09437অবাধে বন জঙ্গল নিধন ও মানুষের বসবাসের জন্য ব্যাপক ঘরবাড়ি তৈরি, জুমচাষ, অবাধে সেগুন গাছের বাগান করাসহ মানুষের নানামুখী আগ্রাসনের শিকার হয়ে পাহাড়ি ছড়া ও ঝর্নাগুলোর অস্তিত্ব ও সৌন্দর্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

সরকারিভাবে সংরক্ষণের অভাবে পাহাড়ি ছড়া ও ঝর্নাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে পরিবেশবাদিদের অভিযোগ। ছড়া ও ঝর্নাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কঠোর আইনের প্রয়োগ যেমনি দরকার তেমনি প্রয়োজন মানুষকে সচেতন করার জন্য নানামুখী উদ্যোগ।

রাঙামাটি জেলার মধ্যে বরকল উপজেলায় সব চাইতে বেশি বড় বড় পাহাড়, পাহাড়ি ছড়া ও ঝর্না রয়েছে। উপজেলা সদরের দক্ষিণে ১১৮৩ ফুট দাবন্যা চাব পাহাড়। উত্তরে ১৮৬৮ ফুট ফালিট্যা্ঙ্গংা চুগ পাহাড়। দু’পাহাড়ের মাঝখানে বহমান কর্ণফুলি নদী।

উপজেলা সদরের পাশে বান্দরী ছড়া, তু›দ্রুংছড়া ও ছালচিয়ে ছড়া নামে তিনটি বড় বড় পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। এসব ছড়ার উৎপত্তিস্থল অনেক দুরে। আকার আকৃতি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অনেক বড়। তাছাড়াও ছোট ও মাঝারি আকারের অসংখ্য ঝর্না রয়েছে এ উপজেলায়।

উপজেলার সুবলং ঝর্নার বেশ পরিচিতি পেলেও বাকি ছড়া ও ঝর্নাগুলোর সম্পর্কে মানুষ এখনো জানে না।

সুবলং ঝর্নার চাইতেও অনেক বড় ও মনোমুগ্ধকর ঝর্না রয়েছে। কিন্তু সেগুলো যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে ভ্রমণ পিপাসুদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।

উপজেলার সদরের পাশে ও সদরের বাইরের অসংখ্য ছড়া এবং ঝর্ণাগুলোর চারপাশে অবাধে বন জঙ্গল নিধন, জুমচাষ, বসতবাড়ি নির্মাণ, ছড়ার দু’ধারে সেগুন গাছের বাগান সৃষ্টি করার কারণে পাহাড়ি ছড়া ও ঝর্ণাগুলোর করুণ অবস্থা দাঁড়িয়েছে।
ছোট বড় ও মাঝারি অনেক পাহাড়ি ছড়া ও ঝর্নাবেষ্টিত এ উপজেলায় এক সময় ঐসব ছড়া ও ঝর্নার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা অনেক পর্যটক মুগ্ধ হতেন।

কিন্তু, ভরা বর্ষা মৌসুমেও পাহাড়ি ছড়া ও ঝর্ণাগুলোতে পানি নেই। এখন শুধু ধুধু পাথর আর বালি পড়ে রয়েছে ছড়া ও ঝর্নাগুলোতে। পানি না থাকায় চারিদিকে শুধু হাহাকার। নীরবে ছড়া ও ঝর্নাগুলোর করুণ আর্তনাদ কেউ শুনতে পায় না।

আগের মত আর ছড়া ও ঝর্নাগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করতে পারছে না পর্যটকদের। এখন আর তাদের পদচারণা পড়ছে না উপজেলায়।

এক সময়ে এই পাহাড় ছড়া ও ঝর্না দুর্গম প্রত্যন্ত উপজেলার মানুষদের ছিল গর্বের ও অহঙ্কারের। কিন্তু সেই গর্ব আর অহঙ্কার আজ কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে।

মানুষ নিজেদের বিবেকবোধকে বিসর্জন দিয়ে নিজেদের স্বার্থে ঝর্না ও পাহাড়ি ছড়াগুলোকে ধ্বংস করছে। ধ্বংস করছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে জলবায়ুর।

এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে প্রকৃতি ও মানুষের জীবনধারার ওপর। কিন্তু এসব জেনেও প্রকৃতির সৃষ্ট ছড়া, ঝর্ণা ও পাহাড়গুলোকে রক্ষার জন্য সরকার কিংবা পরিবেশবাদী সংগঠন ও সুশীল সমাজের মানুষ এগিয়ে না আসায় এসব প্রাকৃতিক সম্পদ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

এ ব্যাপারে জেলার পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লে¬াবাল ভিলেজের পরিচালনক জানান, অবাধে বন নিধন, জুমচাষসহ প্রকৃতিকে ধ্বংসের জন্য মানুষ নানা ধরনের কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। যার কারণে পাহাড় বিরাণ ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। নদীনালা, ছড়া ও ঝর্নার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব প্রকৃতি ও মানুষের জীবন ধারার ওপর পড়ছে। এসব রোধ করতে হলে কঠোর আইনের প্রয়োগ দরকার।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খুলছে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্র, সাজেক নিয়ে ধোঁয়াশা

দীর্ঘ ৫ মাস পর খুলে দেয়া হচ্ছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। আগামী ২৮ আগস্ট …

Leave a Reply