নীড় পাতা » ব্রেকিং » পাহাড়ধস মোকাবিলায় রাঙামাটির প্রস্তুতি কেমন?

আগাম প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত

পাহাড়ধস মোকাবিলায় রাঙামাটির প্রস্তুতি কেমন?

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও করণীয় সংক্রান্ত প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন, রাঙমাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ত্রিদিব কান্তি দাশ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ আধিদপ্তরের উপপরিচালক পবণ কুমার চাকমা, রাঙামাটি সেনা জোনের স্টাফ আফিসার মেজর নাজমুল ইসলাম, গণপূর্ত ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ সূচনা বক্তব্যে বলেন, প্রায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে রাঙামাটিতে ব্যাপক ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়। এ বছর যাতে তেমন কোনো ঘটনা না ঘটতে পারে তাই এই প্রস্তুতি সভা। গত দুবছর অনেক আগেই আমরা অনেক সচেতনতামূলক কাজ করেছি, সভা করেছি। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন, করোনার কারণে জনসমাগম পরিহার করতে হচ্ছে। তাই এবার ত্রাণ সহায়তা প্রদানের সময় প্রত্যেককে পাহাড়ধস মোকাবিলায় করণীয় সতচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করা হবে। বিগত বছরের ন্যায় এবারও সকল প্রস্তুতিতো থাকছেই।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা বলেন, এবার যেহেতু স্কুল বন্ধ আছে, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেকে আশ্রয় কেন্দ্র করা যেতে পারে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. খোরশেদ আলম বলেন, রাঙামাটি শহরে ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেগুলোও ব্যবহার কারা যেতে পারে। এসময় জেলা প্রশাসক সকল বিদ্যালয়কে প্রস্তুত রাখার জন্য তাকে চিঠি ইস্যু করার জন্য অনুরোধ জানান।

স্কাউট নেতা নুরুল আফছার ঝুঁকিতে বসবাসরত সকল বাড়িতে নাম্বার বসানোর প্রন্তাব করেন। এতে ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে সুবিধা হবে দাবি করেন তিনি বলেন, এতে যাদের কোনো ক্ষতি হবে না তারা ত্রাণের জন্য দাবি জানাতে পাববে না।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ত্রিদিব কান্তি দাশ বলেন, অতীতেও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ক্ষতিগ্রস্ততের পাশে ছিল, এবারও থাকবে।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক রতন কুমার নাথ বলেন, এবার অনেক আগে ইউএনডিপির সহায়তায় জেলায় ৫শ’ স্বেচ্ছাসেবকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলার কয়েকটি উপজেলার ফায়ার স্টেশনের জনবল বর্তমানে জেলা অফিসে নিয়োজিত থাকায় উদ্ধার কাজ চালাতে কোন সমস্যা হবে না। তবে কিছু সনাতনী সরঞ্জাম ব্যবস্থা করতে পারলে আরও দ্রুত উদ্ধার কার করা যেত বলে দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক চাহিদাপত্র জমা দিতে বলেন। তিনি নিজস্ব ফান্ড, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার মাধ্যমে সেগুলোর ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

সড়ক যোগাযোগের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, গত কয়েক বছরে সড়কের যে ক্ষতি হয়েছে তা সংস্কার করা হয়েছে। সড়ক উন্নয়নের মেঘা প্রকল্পের সকল কাজ শেষে টেন্ডারও হয়ে গেছে। করোনার কারণে টেন্ডার উম্মুক্ত করা হয়নি। এ মাসেই এটা করা গেলে ঠিকাদাররা তাদের সরঞ্জাম নিয়ে আসবে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে সেগুলো কাজে লাগাতে যাবে বলে মত দেন তিনি।

আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক প্রসঙ্গে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এই সড়কটি ১৮ ফুট চওড়া করা হবে। পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্তা হবে। কিছু জায়গা আছে দুই পাহাড়ের সংযোগ স্থল, এমন ৪টি ব্রিজ হবে। মোট ৪টি গ্রুপে এ কাজের টেন্ডার শেষে কার্যাদেশও দেয়া হয়েছে। করোনার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। সহসাই কাজ শুরু হবে।

সেনাবাহিনী রাঙামাটি জোনের স্টাফ আফিসার মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ধস মোকাবিলায় ৪০ জন চৌকশ সদস্যদের নিয়ে একটি টিমকে অধিকতর প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৩ জুন প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসের ঘটনায় রাঙামাটিতে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটনা ঘটে। এর পরের বছর জেলার নানিয়ারচরে পাহাড়ধসে ১১ জনের মৃত্যু।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply