নীড় পাতা » ব্রেকিং » পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৮ বর্ষপূর্তি

পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৮ বর্ষপূর্তি

santuu

আজ ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তি। ১৯৯৭ সালে এদিন বাংলাদেশ সরকারের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির পর দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পার্বত্যাঞ্চল বিশ্ববাসীর কাছে মুক্ত হয়। শান্তির বার্তা নিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রাথমিকভাবে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। সরকারও তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। সাময়িকভাবে পাহাড়ে রক্তের খেলা, অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ হয়। কিন্তু বছর যেতে না যেতে প্রতিষ্ঠা হয় চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(্ইউপিডিএফ)। এরপর শুরু পাহাড়ে দুই আঞ্চলিক দলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। থেমে থেমে চলে দুই সংগঠনের হত্যা-পাল্টা হত্যা। ২০০১ সালে তিন বিদেশী অপহরণের মাধ্যমে শুরু হয় পাহাড়ে অপহরণ বাণিজ্য। পরে ২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি থেকে বের হয়ে আরেক আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস(এমএন লারমা) সৃষ্টি হয়। এরপর বিভিন্ন সময় তিন পক্ষের কর্মী, সমর্থক হত্যার মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলে।

তবে আপাত দৃষ্টিতে তিন পক্ষের কর্মী, সমর্থকদের হত্যা চললেও এসময় পাহাড়ে ১৯৯৭ সালের পূর্বের চাইতে অনেকটা শান্তি স্থাপন হয়। পাহাড়ে অর্থনৈতিক ¯্রােত বৃদ্ধি পায়। বিশ্ববাসীর কাছে পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটনও ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। এসময়ে পাহাড়ে প্রচুর যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ১৭ বছরে প্রচুর বিদ্যালয়, কলেজসহ সাধারণ মানুষের উন্নয়নে সরকারও প্রচুর কাজ করে গেছে।

কিন্তু চুক্তির এতো বছর পর এসেও চুক্তি বাস্তবায়ন না করার জন্য জেএসএস সরকারকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে চলছে দুই পক্ষের তর্কযুদ্ধ। এই ১৮ বছর জেএসএস চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে রাজপথে বেশিরভাগ সময় সক্রিয় ছিলো, পক্ষান্তরে ইউপিডিএফ সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ, পার্বত্যাঞ্চলে স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন করে গেছে। অন্যদিকে জেএসএস(সংস্কার পন্থী) পক্ষও চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে লিপ্ত রয়েছে।

পার্বত্য নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, কোনো সরকারই চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো এখনো বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় দেয়নি। চুক্তিতে পার্বত্যাঞ্চলকে বিশেষ অঞ্চল, উপজাতীয় বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ ও আঞ্চলিক পরিষদের সমন্বয়ে বিশেষ শাসনব্যবস্থার কথা উল্লেখ থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। আঞ্চলিক পরিষদের হাতে ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে চুক্তির এতো বছর পরও কতটুকু ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে? জেলা পরিষদে কয়টি বিভাগ হস্তান্তর করলো তা বড় বিষয় নয়। জেলা পরিষদ হস্তান্তরিত বিভাগসমূহকে সমন্বয়ের জন্য যে আইন সংশোধন, সংযোজনের কথা এখনো তা হয়নি। গত ২৩ বছর পরিষদের কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। তাই চুক্তির এতোবছর পরও পাহাড়ের মানুষের যতটুকু উন্নয়ন বা সুফল পাওয়ার কথা তা থেকে এখনো তারা বঞ্চিত।

তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজ বেগম চিনু বলেন, শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ের অশান্ত পরিবেশ শান্ত হয়ে আসে। চুক্তির পূর্বে তিনটার পর রাঙামাটি থেকে গাড়ি আসা-যাওয়া করতো না। পথে পথে চেক চলতো। মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারতো না। চুক্তির পর সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে যেকোনো এলাকায় যাতায়াত করতে পারছে। তবে কিছু উগ্র কুচক্রীমহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ঘোলা পানির মধ্যে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেছিল পার্বত্যবাসী। আশা করেছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিশেষ শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে এতদাঞ্চলের মানুষের শাসনতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে। এই শাসনতান্ত্রিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এতদাঞ্চলের পাহাড়ি-বাঙালি স্থায়ী অধিবাসীরা নিজেদের উন্নয়ন নিজেরাই নির্ধারণ করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি হবে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৮ বছরেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে আজ অবধি পার্বত্যবাসীর সেই শাসনতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব যেমনি নিশ্চিত হয়নি, তেমনি অর্জিত হয়নি পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সেই কাাক্সিক্ষত রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply