নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি

পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি

pic-00সংসদে উত্থাপিত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী ৩ টি বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। শনিবার জাতীয় জাদুঘরের সম্মুখে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাজের মানব বন্ধন কর্মসূচী থেকে এই দাবি তোলা হয়। ১৭ নভেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থাপিত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল প্রত্যাহার ও জেলা পরিষদসমূহের নির্বাচনের দাবিতে নাগরিক সমাজ এই প্রতিবাদী মানববন্ধন-এর আয়োজন করে।

চলচিত্র নির্মাতা রাশেদ রাইন সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  জানানো হয়েছে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ পংকজ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সংহতি বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য খুশী কবীর, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং, আইইডি নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খান, নারী নেত্রী চঞ্চনা চাকমা প্রমুখ। মানববন্ধন কর্মসূচীর সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব মীর। নাগরিক সমাজের দাবিনামা পাঠ করেন এ্যাডভোকেট নীলুফার বানু।

রাজনীতিবিদ পংকজ ভট্টাচার্য্য বলেন, একতরফাভাবে সংসদে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল উত্থাপন করে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে লংঘন করেছে। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে সেখানকার বিষয়ে কোন আইন প্রণয়ন করতে গেলে অবশ্যই আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন জুম্ম জনগণ দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্য দিয়ে এই অধিকার অর্জন করেছে। কিন্তু সেখানকার জনগণের ইচ্ছার বিপরীতে সরকার দলীয় লোকদের পুনর্বাসনের জন্য বিল সংসদে উত্থাপন করেছে।

আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং বলেন, আঞ্চলিক পরিষদের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংসদীয় স্থায়ী কমিটির জেলা পরিষদ বিল নিয়ে সংলাপ ও বৈঠক চলছিল। কিন্তু সরকার হঠাৎ করে আঞ্চলিক পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংসদের চলতি অধিবেশনে এই ৩টি সংশোধনী বিল উত্থাপন করে। তিনি বলেন এইভাবে বার বার প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করে পার্বত্যবাসীকে সরকার আবার অতীতের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথে হাঁটতেই বাধ্য করছে। এর পরিণাম শুভ হবেনা উল্লেখ করে কেএসমং আরো বলেন সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে সরকার দলীয় লোকেরা পরাজিত হওয়ার কারণে সরকার এখন জেলা পরিষদসমূহ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য খুশী কবীর বলেন, সরকার পার্বত্য অঞ্চলের সব কিছুকেই নিজেদের কব্জায় নিয়ে যেতে চায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ করতে গেলে, পরিদর্শন করতে গেলে একটি বিশেষ মহল আমাদের উপর হামলা চালায়। সরকার সেখানে সামরিকীকরণ অব্যাহত রেখেছে অভিযোগ করে খুশী কবীর বলেন আদিবাসীদের স্বার্থ লংঘন করার জন্যই এই জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, সরকারের সর্বস্তরে দলীয়করণ চলছে। পার্বত্য জেলা পরিষদের এই দলীয়করণ চালু রয়েছে। ৫এর জায়গায় ১১ কিংবা ১৫ এইভাবে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে সরকার তার দলের লোকদেরকে পুনর্বাসন করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহকে সরকার দলীয়করণ থেকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারের কোন কার্যকর প্রতিষ্ঠান নেই। পাহাড়ের জনগণ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল জেলা পরিষদ অর্জন করেছে। কিন্তু ১৯৯২ থেকে সেই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদসমুহের নির্বাচন হচ্ছেনা। তিনি অবিলম্বে চুক্তি মোতাবেক ৩৩টি বিভাগ জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান।

আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, সরকার আদিবাসীদের অধিকার বার বার খর্ব করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না করে সরকার পাহাড়ী আদিবাসীদের সাথে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন সংগ্রামের মাধ্যমে আদিবাসীদের অধিকার আদায় করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হবে সেটাই সাংবিধানিক পদ্ধতি। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সরকারের থাকবেন সেটাই সংবিধিবদ্ধ নিয়ম। কিন্তু সরকার তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহকে পরিচালনা করতে চান। যা সংবিধান সম্মত নয়।

মানববন্ধন কর্মসূচী থেকে সরকারের উদ্দ্যেশে ৪ দফা দাবী পেশ করা হয়। দাবী সমূহ হলো-১৭ নভেম্বর ২০১৪ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশোধনী সংক্রান্ত ৩ টি বিল অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক স্থায়ী বাসিন্দাদেও নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহকে জনসপ্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে, অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলি, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক, ঐক্য ন্যাপ, বাংলাদেশ আদিবাসী অধিঅকার আন্দোলন, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, জন উদ্যোগপার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সংহতি জ্ঞাপন করে বলেও জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

Leave a Reply