নীড় পাতা » ছবি » সজীব চাকমার সাক্ষাৎকার

সজীব চাকমার সাক্ষাৎকার

DSC02929পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে ইউপিডিএফ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। সম্প্রতি পাহাড় টোয়েন্টি ফোরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এই কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ মুখে রাজনৈতিক বক্তব্য দিলেও মূলতঃ এরা জনগনের স্বার্থে কোন কাজই করছে না । পাহাড়ে প্রতিনিয়ত সশস্ত্র সন্ত্রাস, হানাহানির কার্যক্রম চালাচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এরা নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যেহেতু এরা সন্ত্রাসী সংগঠন তাই এদের নিষিদ্ধ করা জরুরী বলেও মন্তব্য করেন জনসংহতি সমিতির এই নেতা।

সজীব চাকমা বলেন, চুক্তি নিয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে,কিন্তু এ ভিন্নমত দেখাতে গিয়ে যেভাবে খুন, অপহরন ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে তা কাম্য নয়। এটা কখনো গঠনমূলক রাজনৈতিক শুভ উদ্দেশ্য হতে পারে না।

‘ইউপিডিএফ বিভিন্ন সময়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং তারা নিয়মাতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে’- এমন দাবি প্রসঙ্গে সজীব চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দল নয়, এরা গণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ায়। এরা গণতান্ত্রিক দল হিসেবে যে দাবি করে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ইউপিডিএফ এর নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রামে ও খাগড়াছড়িতে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়ায়, আবার পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়।

জনসংহতি সমিতি ইউপিডিএফ এর নেতাকর্মীদের অপহরণ,হত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে ইউপিডিএফের এমন অভিযোগের জবাবে সজীব চাকমা বলেন- বাস্তবতাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই তারা এমন অভিযোগ করছেন। জনসংহতি সমিতি পার্বত্য সমস্যা সমাধানের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য অস্ত্রও জমাদান করেছে। জেএসএস এর যদি অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে অস্ত্র জমাদান করতো না। ইউপিডিএফ ১৯৯৭ সালে চুক্তির পরপরই পার্বত্য চুক্তি বিরোধিতার নামে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে জনসংহতি সমিতির এবং চুক্তি পক্ষের লোকজনকে হুমকি,অপহরণ,নির্যাতন ও হত্যা করতে শুরু করে। ইউপিডিএফ ১৯৯৮ সালে রাঙামাটির কুতুকছড়ি থেকে জেএসএস এর ৫ জন্য কর্মীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাস শুরু করে।

পার্বত্য চুক্তি যাতে বাস্তবায়ন না হয় এবং এখানকার বিদ্যমান সমস্যা যাতে জিইয়ে থাকে, এজন্য সরকারের কিছু ব্যক্তি তাদের কায়েমী স্বার্থ হাসিলের জন্য ইউপিডিএফকে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করে সজীব চাকমা বলেন, এ ধরনের স্বার্থবাদী লোক বিরোধীদল,সরকার ও প্রশাসন যন্ত্রেও থাকতে পারে।

পাহাড়ে অপহরণ ও অব্যাহত চাঁদাবাজি জনসংহতি সমিতিও করছে ইউপিডিএফের এমন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন- অপহরণ, হত্যা,গুম ও চাঁদাবাজি করছে ইউপিডিএফ, তাদের কার্যক্রমে পাহাড়ের মানুষ ভীত। তারা চুক্তির বিরোধিতা করে জনগনকে বিভ্রান্ত করছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ পাহাড়ের সাধারন মানুষই তাদের প্রতিরোধ করছে। এইসব কর্মকান্ডের সাথে জনসংহতি সমিতির কোন সম্পর্ক নেই।

সজীব চাকমা বলেন, রাঙামাটির সমতাঘাট,শুভলং, রাজদ্বীপ থেকে যাদেরকে অপহরণ করা হয়েছে তাদেরকে কারা অপহরন করেছে তা সবার জানা আছে। এছাড়াও বাঘাইছড়ির মারিশ্যার বারিবিন্দুঘাট হতে টেলিটকের পাঁচ কর্মী অপহরণ, রাঙামাটি সদরের কুতুকছড়ি হতে গ্রামীনফোনের তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করেছে কারা সকলে অবগত আছেন। অপহরণ, চাাঁদাবাজি সম্পর্কে কেউ বলতে পারবেনা জনসংহতি সমিতি এমন ঘটনা করেছে। পাহাড়ে ইউপিডিএফ অপহরণ, হত্যা, গুম ও চাঁদাবাজি করছে । পাহাড়ে ইউপিডিএফ কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি করছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তারা বছরে কত প্রকারের চাঁদা নেয়।

পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জনসংহতি সমিতির এই মুখপাত্র সজীব চাকমা বলেন,জনসংহতি সমিতি আশা করেছিল মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্র্ণ ভুমিকা পালন করবে। কিন্তু পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার কার্যকরভাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি। বিভিন্ন সময়ে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এখানকার যে অবনতিশীল পরিস্থিতি তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই হয়নি। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল, ভুমি কমিশন কার্যকর করা হয়নি এবং কাজও শুরু করতে পারেনি। তবে আমরা আশা করছি এ সরকারের সামনে যে কয়দিন সময় আছে তার মধ্যে চুক্তির আলোকে ভুমি কমিশন আইনের সংশোধনীগুলো পাস করা করা হবে। চুক্তির ধারা অনুযায়ী ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি হবে। অথচ এ বিষয়টিকে নিয়ে এখনো সন্তোষজনক কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সরকার বিভিন্ন সময়ে চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে এমন বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন,এখানে ধারা বা সংখ্যা গুনে চুক্তির বাস্তবায়ন মুল্যায়ন করা যাবে না। চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোই এখনো অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে। চুক্তির প্রত্যেকটি ধারাই গুরুত্বপূর্ণ।

চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো হচ্ছে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদকে কার্যকর করা। যেমন আঞ্চলিক পরিষদের কার্যবিধিমালা অনুমোদিত হয়নি। জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন না হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানসমুহ কার্যকর করা যাচ্ছেনা। নির্বাচন হওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা করা প্রয়োজন তা এখনো হয়নি। মাঝে মাঝে ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক হলেও কমিশন এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি। এদিকে ভুমি কমিশন আইনের বিরোধাত্মক ধারা সংশোধন করে এ কমিশনকে কার্যকর করার উদ্যোগও নেয়া হয়নি বলে তিনি জানান। অপরদিকে,ভারত প্রত্যাগত শরনার্থীদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তাও খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন সজীব চাকমা।

চুক্তি বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকারের বাকি সময়ের মধ্যে সরকারকে কোন আল্টিমেটাম দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সজীব চাকমা বলেন, পার্বত্য চুক্তি পাহাড়ে বসবাসকারী সকল মানুষের জন্য, এটা শুধু জেএসএস এর নিজস্ব বিষয় নয়। এটা এখানকার বসবাসরত সকলের জন্য যেমন গুরুত্বপুর্ন তেমনি দেশের জন্যও গুরুত্বপুর্ন বিষয়। সেহেতু চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্র্ণ ভুমিকা হচ্ছে বর্তমান সরকারের।
সরকারের বাকি সময়ে চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে যে সময়টা আছে তাতে সরকার চাইলে ভুমি কমিশন আইন এবং ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তির কাজ এবং অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের কাজ করতে পারে বলেও জানান সজীব চাকমা।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনসংহতি সমিতি নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে কিনা বা নির্বাচনে অংশগ্রহন না করলেও অন্য কোন দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সজীব চাকমা বলেন, জনসংহতি সমিতি যেহেতু গণমানুষের রাজনীতি করে সুতরাং নির্বাচনে গঠনমুলক ভুমিকা রাখবে। জোটবদ্ধ কিংবা এককভাবে জেএসএস নির্বাচন করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রস্তাব আসছে,এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনে জনসংহতি সমিতি প্রার্থী মনোনয়ন করুক বা না করুক নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভুমিকা রাখবে এবং চুক্তি বাস্তবায়নে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে তাদেরকেই সমর্থন দিবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে ফিরতি রথযাত্রা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ফিরতি রথযাত্রা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। ফিরতি রথযাত্রা উপলক্ষে শহরের শ্রীশ্রী গীতাশ্রম মন্দির থেকে …

One comment

  1. আমরা পাহাড়ে শান্তি চা্ , যে কোন মূল্যে শান্তি ষ্থাপন করা নেতাদের দায়িত্ব,

Leave a Reply

%d bloggers like this: