নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৮ বর্ষে পদার্পন আজ

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৮ বর্ষে পদার্পন আজ

peace-treaty-pic-01আজ ২ ডিসেম্বর। পার্বত্য চুক্তির ১৭ বছর পূর্তি। পাহাড়ি জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সত্তরের দশকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে পাহাড়ে শুরু হয় সশস্ত্র আন্দোলন। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে রক্তস্নাত সবুজ পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি, বারুদের গন্ধ আর চরম অশান্ত পরিস্থিতির পর সংগঠনটি ১৯৯৭ সালের আজকের দিনে সরকারের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়।

সরকারের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির আহবায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অধিবাসীদের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও বর্তমান আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১০ ফেব্রুয়ারী খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনুষ্ঠনিক অস্ত্র সমার্পণ করেন সন্তু লারমা। আর খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামসহ ৪টি স্থানে অস্ত্র সমার্পণ করেন ১হাজার ৯শ ৬৮ জন শান্তিবাহিনীর সদস্য। পাহাড়ে আসে শান্তির বারতা।

এদিকে সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত সেই চুক্তি দীর্ঘ বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় চুক্তি স্বাক্ষরকারী বিভক্ত দুই অংশের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। আর এই ক্ষোভের সর্বশেষ বহিৃপ্রকাশ ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে সন্তু লারমার অসহযোগ আন্দোলনের ডাক। অন্যদিকে চুক্তির বিরোধীতা করে আত্বপ্রকাশ ঘটা ইউপিডিএফ শুরু থেকে এই চুক্তিকে কালো চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখান করেন। তাছাড়া বাঙ্গালী সংগঠনগুলো এই চুক্তিকে একপেশে চুক্তি বলে উল্লেখ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(এমএন লারমা) সভাপতি ও সাবেক গেরিলা নেতা সুধাসিন্ধু খীসার মতে সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নের কথা মুখের বুলি ছাড়া অন্য কিছু নয়। তিনি বলেন, আজ দীর্ঘ ১৬টা বছর পার হয়ে গেছে এখনো কিন্তু বাস্তবায়নে সরকারের কোন অগ্রনী ভূমিকা দেখছিনা। সরকার আমাদের সাথে প্রতারণ করছে। আর তাঁর বড় প্রমাণ জেলা পরিষদের সংশোধনী বিল পাশ। এটি সম্পূর্ণ চুক্তি বিরোধী। তিনি আরো বলেন, যদি খুব দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে হয়তো আবার অশান্ত হবে পাহাড়।

তবে গত অক্টোবর মাসে খাগড়াছড়ি সফরকালে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী সরকারের অবস্থান তুলে ধরে জানান, পার্বত্যবাসী যেন কোনভাবে মনে না করে সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে কোনভাবে অবহেলা করছে। শান্তি চুক্তির মাধ্যমে সরকার যে যে অঙ্গীকার করেছে এই মেয়াদে সব অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। আর মেয়াদ শেষ হলে স্থানীয়রা দেখতে পারবেন সরকারের প্রদত্ত সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়েছে।

চুক্তি বিরোধী সংঘটন নামে পরিচিত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা চুক্তিকে ডেড লেটার উল্লেখ করে বলেন, সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির স্বাক্ষরিত চুক্তি তামাশা ছাড়া অন্য কিছু নয়। আর চুক্তির মূল বিষয়গুলো সরকার কখনো বাস্তবায়ন করবেনা।
পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মজিদ বলেন, এই চুক্তি একপেশে চুক্তি। চুক্তিতে একটি পক্ষ লাভবান হবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে বাঙ্গালীরা। আমরা এই চুক্তি কোনভাবে মানতে পারিনা। তবে যে চুক্তিতে পাহাড়ী বাঙ্গালীদের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে সেই চুক্তি মানবেন বলেও জানান তিনি।

১ মে থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
গত শনিবার ঢাকার এক অভিজাত হোটেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৭ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সরকার যদি চুক্তি বাস্তবায়নে সময়সূচি ভিত্তিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন না করে তাহলে ১ মে থেকে অসহযোগ আন্দালন শুরু করা হবে।
সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে। ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। ৯টি ধারা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যা সত্য নয়। মূলত ৭২টি ধারার মধ্যে ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। অবাস্তবায়িত রয়েছে ৩৪টি ধারা। আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে ১৩টি ধারা। তার মানে চুক্তির দুই তৃতীয়াংশ ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

খাগড়াছড়িতে চুক্তির বর্ষপূর্তিতে পক্ষে বিপক্ষে নানান কর্মসূচী
ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির ১৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএন লারমা) বিক্ষোভ সমাবেশ এবং বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ চুক্তির বিরোধীতা করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করবে বলে জানা গেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র মাধ্যমে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ৪৫ টাকা মূল্যে পেঁয়াজ …

Leave a Reply