নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প

পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প

পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা ৪৫ মিনিটের পর দু’বার ভূমিকম্প অনুভূত করেন স্থানীয়রা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ দপ্তরের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৫ দশমিক ৯; যা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় মাত্রার ভূ-কম্পন।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য বলছে, গত ৫ মাসে এটিই সর্বোচ্চ মাত্রার ভূ-কম্পন পৃথিবীতে। পাঁচ মাস আগে একই উৎপত্তিস্থল থেকে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন হয়েছিলো।

এদিকে হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্পের ঝাকুনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ঘরবন্দি মানুষ। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও অনেকেই ভূমিকম্প অনুভূতের বিষয়ে আতঙ্কিত হয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

রাঙামাটি জেলা শহরের আলমডকইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা জিয়াউল হক জানিয়েছেন, হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হলে দৌঁড়ে বাসার ছাদে গিয়েছেন।

জেলা শহরের রিজার্ভবাজার এলাকার বাসিন্দা ইয়াছিন রানা সোহেল জানিয়েছেন, ‘বিকেলে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে জেগে উঠলাম। করোনার এই আতঙ্কের দিনে হঠাৎ ভূমিকম্প রাঙামাটির মানুষকে আরও বেশি আতঙ্কিত করে তুলেছে।’

রাঙামাটি আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যচিনু মারমা জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে ভূমিকম্প অনুমান করার কোনো যন্ত্র নেই। ঢাকায় কেন্দ্র অফিস বিষয়টি জানাতে পারবেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ৫৫ মিনিট নাগাদ পূর্ব নেপালে মাঝারি মাপের কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৭। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১২০ কিলোমিটার পূর্বে সিন্ধুপালচক জেলায় কম্পনের উত্‍পত্তিস্থল ছিল বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য রাঙামাটি জেলার ভারত সীমান্তবর্তী বরকলে ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে ১৭ দিনের ব্যবধানে ১৮ বার ভূ-কম্পন হয়েছে। এর প্রথম দফা ভূমিকম্প ১৩ জানুয়ারি এবং সর্বশেষ ৩০ জানুয়ারি সংঘটিত হয়। ১৩ ও ৩০ জানুয়ারি পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রামসহ পার্বত্য তিন জেলায় কয়েক দফা ছোট-বড় ঝাকুনি অনুভূত হলেও ওই সময়ের মধ্যে শুধু বরকলেই ১৮ বার ভূকম্পন হয়।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে তার মধ্যে পার্বত্য জেলাগুলোর অবস্থান ১ নম্বরে চিহ্নিত হয়েছে। বারবার ভূমিকম্পের ফলে রাঙামাটির বরকল উপজেলার অধিকাংশ সরকারি স্থাপনার পাকা দালানসহ কয়েকটি উঁচু পাহাড়ের মাঝখানে ফাটল দেখা দিয়েছিল সেই সময়টাতে।

ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৩ জানুয়ারি ভোররাতে বরকলে সংঘটিত মাঝারি ধরণের ভূমিকম্প প্রায় ২৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। ওই সময় তিন দফায় মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী এবং চট্টগ্রামের আমবাগান ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব ও ঢাকা ভূকম্পন কেন্দ্র থেকে ২৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। রাঙামাটির বরকল উপজেলার কাছাকাছি এর উৎপত্তিস্থল হওয়ায় রাঙামাটির মানুষ ভূমিকম্পের মাত্রা অধিক অনুভব করে। ভূমিকম্পের মাত্রাটি ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৯। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৬ প্রতিবছরই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply