নীড় পাতা » বান্দরবান » পার্বত্য চট্টগ্রামে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

যেন জীবনের সঙ্গে লড়াই

পার্বত্য চট্টগ্রামে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

ফাইল ছবি

দেশের সমতল এলাকাগুলোতে সুপেয় পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলেও এক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলে দেখা মিলে সুপেয় পানির! তবে ঝিরি, ঝরণা ও সংরক্ষিত বন উজাড়ের ফলে দিনদিনই সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে দেশের এ প্রত্যন্ত জনপদে।

মূলতঃ গ্রীষ্মের শুরুতেই তীব্র পানি সংকট দেখা দেয় পার্বত্য জেলাগুলোতে। এসময় বান্দরবান জেলা শহরসহ পাহাড়ি গ্রামগুলোর মানুষের পানি সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি  গ্রামগুলোতে নিরাপদ সুপেয় পানির অভাবে পানিবাহিত রোগেরও দেখা দিয়েছে বিভিন্ন সময়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বান্দরবান জেলার দুর্গম থানচি, রোয়াংছড়ি, রুমা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিলে এসব এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দারা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করেন। আবার পানি নিরাপদ না হওয়ার ফলে জীবন ঝুঁকি নিয়ে পানি সংকট মোকাবিলা করতে বাধ্য সবাই। পাহাড়ের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এমন অসংখ্য গ্রাম। যেখানে এখন পর্যন্ত চলছে ‘পানির অপর নাম জীবন’ এর সঙ্গে লড়াই।

শুকিয়ে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঝিরি-ঝরণা

প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা, অবৈধভাবে ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন, অপরিকল্পিত জুম চাষ, বন-জঙ্গল উজাড় ইত্যাদি ও ভৌগলিক কারণে পাহাড়ে পানির উৎস বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় এসব সমস্যার সমাধান জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। নাহলে দেখা যাবে, একসময় পাহাড়ে পানির উৎস উধাও হয়ে যাবে।

বান্দরবান শৈলপ্রপাতের উপরের গ্রাম দুর্গম সরণপাড়ায় বসবাসরত ডেভিড বম জানিয়েছেন, ‘অনেক দূর থেকে তাদের পানি সংগ্রহ করতে হয়। কয়েক কিলোমিটার হেঁটে থ্রুং কাঁধে নিয়ে পানি আনতে অনেক পরিশ্রম হয়। গ্রীষ্মকালে কাছের ঝিরি, ঝর্ণার পানি শুকিয়ে যাওয়াতে পানির জন্য তাদের দূরের পথ পাড়ি দিতে হয়।’

রোয়াংছড়ি উপজেলার তাড়াছা গ্রামের গ্রামপুলিশ চিং সা মং মারমা জানিয়েছেন, ‘তাদের এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। পাহাড়ি সাঙ্গু নদীর পানির ওপর নির্ভর করে গ্রামটির মানুষ পানির চাহিদা পূরণ করেন। বর্ষাকালে নদীর পানি ঘোলাটে হয়ে গেলে তাদের খাবার পানির সংকট বেড়ে যায়।’

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সহোরাব হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ের পানি সংকট নিরসনে ঝিরি ঝরণাগুলো কাজে লাগিয়ে জিএএসএফ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। যেখানে পানি পাওয়া যাচ্ছে সেখানে টিউবওয়েল, রিংওয়েল হচ্ছে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই : মনিস্বপন

‘এই সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই। দেশ ভালো নেই, দেশের মানুষ ভালো নেই। গনতন্ত্র নেই, …

Leave a Reply