নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে আলাদা নীতিমালা হওয়া দরকার’

‘পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে আলাদা নীতিমালা হওয়া দরকার’

রাঙামাটিতে তিন পার্বত্য জেলার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জনপ্রতিনিধির পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের গতি সারা দেশ থেকে কেন পিছিয়ে তা নিয়ে আলোচনা করে। যেসব সমস্যা শুনে তা সমাধানের চেষ্টার আশ্বাস ও কিভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন মতবিনিময় সভার অতিথিবৃন্দ ও সভাপতি।

মতবিনিময় সভার বিশেষ অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পার্বত্যাঞ্চলকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, তার যে ভাবনা আছে শান্তির জন্য, সে উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে এই অঞ্চলের ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়ররা এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে, সে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য। সমস্যা আমাদের আছে, সমাধান একদিনে না হোক, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারলে পরবর্তীতে আমরা সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। এই এলাকার উন্নয়ন করতে হলে সমতলের মতো করে ভাবলে চলবে না। পার্বত্যাঞ্চল বিশেষায়িত এলাকা, সেরকম থোক বরাদ্দ দিয়ে এর উন্নয়ন করতে হবে। সমতল এলাকায় এক কিলোমিটার কাজ করতে যে খরচ, এই এলাকায় সে পরিমাণ কাজ করতে তার দ্বিগুণ অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে, কারণ এখানে খরচ বেশি এবং সে ভাবেই পরিকল্পনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যদি এগিয়ে যায় তাহলে এখানেও উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে।

যে উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হবে, যদি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে মত বিনিময় করে সে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, তাহলে কোন উপজেলায় সমস্যা থাকার কথা নই, এই সমন্বয়টা করাটা তেমন কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করছি। উন্নয়ন তো হচ্ছে বর্তমান সরকারের আমলে তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হচ্ছে।

এক জনপ্রতিনিধি বলেছেন এক ছাদের তলা থেকে যদি পুরো উন্নয়ন কাজটা হয় তাহলে ভালো হয়। আমিও এক মত এই বিষয়ে করা যেতে পারে। তবে সে জন্য পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের যে বরাদ্দ আসে, তার বাইরে গিয়ে সে বরাদ্দ পার্বত্য মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে। তাহলে সে বরাদ্দ নির্দিষ্ট উপজেলা বা ইউনিয়নে পৌঁছে দিব। বর্তমান এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সিনিয়র সচিব আমার খুবই কাছের মানুষ। এই সময় যদি আমি এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন করতে না পারি, সে ব্যর্থতা আমারই হবে।

আর মতবিনিময় সভার সভাপতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় আমার শিক্ষা ও চাকুরী জীবনের ১৮বছর পার করেছি। এই অঞ্চলের উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যানদের দুঃখ, কষ্ট আমি বুঝি। এখানে কোন কলকারখানা নেই, রিক্সা নেই যে প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স ফি আদায় করবে। এখানে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অনেক সময় ইউপি চেয়ারম্যানরা নিজের বেতন ভাতাও তুলতে পারেন না। ঠিক একইভাবে পৌর মেয়র কাউন্সিলরাও সমতল এলাকার মত তাদের ভাতা তুলতে পারেন না। আর অনেক সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা তাদের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করে ফেললেও তাদের ভাতা তুলতে পারেন না কারণ তাদের আয়ের সুযোগ কম। আইন মোতাবেক জেলা পরিষদ গঠন করা হলেও তাদের আয়ও সীমিত তা দিয়ে শুধু অফিস পরিচালনা ব্যয় করা হয়। আর বাকি উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়। সরকারি কর্মকর্তারাও এডিবির টাকায় বেতন নিয়ে থাকে। পার্বত্য অঞ্চল আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এলাকা। যেহেতু এলজিইডি জনসংখ্যা অনুপাতে উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়ে থাকে, সেহেতু এলাকায় জনসংখ্যা কম হওয়ায় বরাদ্দও কম হয়ে থাকে। এই এলাকার জন্য উন্নয়নে নীতিমালা পরিবর্তন হওয়া দরকার। সমতলের মতো একই নীতিমালার মধ্যে থাকলে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভাগুলো এগিয়ে যেতে পারবে না। জনপ্রতিনিধিদের সরকারি বাসভবনগুলোর মেরামতের প্রয়োজন হলে আমাদের কাছে চাহিদাপত্র পাঠালে আমরা সে অনুপাতে বরাদ্দ দেব। পাশাপাশি এলজিইডি এবং পাবলিক হেল্থ এর বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, সেসব প্রকল্প যেন জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে হয় সেটি আমরা দেখবো।

মতবিনিময় সভায় জনপ্রতিনিধিদের উল্লেখিত সমস্যাগুলো সমাধানে আরো কথা বলেন,অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে পুলিশের ত্রাণ সহায়তা

মহামারী করোনাভাইরাস ( কভিট-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের লক্ষে রাঙামাটির কাপ্তাই থানা পুলিশ প্রতিনিয়ত …

Leave a Reply