নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পানিতে ফুল ভাসিয়ে ‘ফুলবিঝু’

পানিতে ফুল ভাসিয়ে ‘ফুলবিঝু’

fulbiju-pic-012তখনও ভালো করে আলো ফোটেনি শহরে। সূর্য্যি মামাও জেগে উঠেনি নিজস্ব তেজে। এমন আলো আঁধারিতেই ঐহিত্যবাহী পোশাকে সেজে নদীর পাড়ে আসতে শুরু করেছে পাহাড়ী তরুণ-তরুণী। বছরের সবচে কাংখিত দিন ফুল বিজু বলে কথা। সূর্য পরিপূর্ণভাবে আলো ছড়ানোর আগেই যে গঙ্গাদেবীর উদ্দ্যেশে নদীতে ফুল ভাসাতে হবে।
শনিবার সকালে খাগড়াছড়ির খবং পড়িয়া এলাকায় চেঙ্গী নদীর তীরে চাকমা সম্প্রদায়ের ফুল বিজু উপলক্ষে বসে মিলন মেলা। নানান বয়সের মানুষ বন জঙ্গল থেকে সংগৃহিত ফুল নিয়ে হাজির হয় নদীর পাড়ে। কলা পাতা করে ভক্তি শ্রদ্ধাভরে গঙ্গাদেবীর উদ্দ্যেশে ফুল ভাসিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানী ভুলে নতুন বছরের শুভ কামনা করে। আর এরি মধ্য দিয়ে শুরু হলো পাহাড়ের ঐহিত্যবাহী ‘বৈসাবী’ উৎসব।

মূলত তিন সম্প্রদায়ের বাৎসরিক প্রধান উৎসবের নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে ‘বৈসাবী নামের সৃষ্টি। বৈ-তে ত্রিপুরাদের বৈসু, সা-তে মারমাদের সাংগ্রাই আর বি-তে চাকমা সম্প্রদায়ের বিজুকে বোঝানো হয়েছে।

চাকমা’রা আজ ফুল বিজু আর রবিবার মূল বিজু এবং সোমবার গজ্জাপয্যা দিন পালন করবে। মূল বিজুতে ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন। সেই সাথে সব বয়সী মানুষ নদী খাল কিংবা ঝরণায় গঙ্গা দেবীর পূজা করবে।
ত্রিপুরারা হারিবৈসু, বিযুমা ,বিচিকাতাল, এবং মারমারা পেইংচোয়ে, আক্যে ও অতাদা নামে আলাদা আলাদা নামে উৎসব পালন করবে।fulbiju-pic-0222

তাছাড়া তঞ্চঙ্গা, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো, খুমি, চাক, রাখাইনসহ বিভিন্ন জাতী গোষ্টী তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও অবস্থানকে বৈচিত্রময় করে তুলতে প্রতি বছর চৈত্রের শেষ দিন থেকে বৈসাবী উৎসব পালন করে থাকে।
এদিকে বৈসাবী উৎসবকে ঘিরে শহর ছেড়ে প্রত্যন্ত এলাকায় উৎসব উৎসব পরিবেশ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা চলছে পাড়া মহল্লায়। বলা যায় উৎসবে রঙিন এখন পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বেইলি সেতু ভেঙে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান প্রধান সড়কের সিনামা হল এলাকার বেইলি সেতু ভেঙে পাথর বোঝাই ট্রাক …

Leave a Reply