নীড় পাতা » ফিচার » অন্য আলো » পাখির বন্ধু সঞ্জয়

পাখির বন্ধু সঞ্জয়

52ed44901e7f7-Untitled-14মানুষের ঘর আছে। ঝড়-বৃষ্টি, সূর্যের উত্তাপ আর শীত থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় আছে। অথচ পাখির তা নেই। পাখির এমন কষ্ট দেখে স্থির থাকতে পারেননি এক যুবক। গাছে গাছে পাখির বাসা বনানোর কাজে লেগে গেলেন। তাঁর নাম সঞ্জয় রুদ্র।
খাগড়াছড়ির শালবন এডিসি হিলের বাসিন্দা সঞ্জয় রুদ্র পেশায় নরসুন্দর। শহরের মধুপুর বাজারের ছোটো একটি সেলুনে কাজ করেন। অবসর পেলে ছুটে যান প্রকৃতির কাছে। শোনেন পাখির কলকাকলি। এই ভালোবাসার টানেই সাড়া দিতে হলো তাঁকে।
সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খেটে আয় হয় মাত্র ২০০ টাকা। সংসারে সাতজন সদস্য। অভাবের সংসার হলেও নিজের আয়ের থেকে সঞ্জয় পাখির জন্য সামান্য কিছু তুলে রাখেন। জমানো টাকা দিয়ে কেনেন মাটির কলসি। তারপর সেসব বেঁধে দিয়ে আসেন গাছের ডালে। ছয় মাস ধরে এই কাজ করছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় আটটি গাছে পাখির বাসা বানিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে রিকশায় চড়ে কিছুদূর গেলেই শালবন এডিসি হিল। এখানে রাস্তার দুই ধারে আম, কাঁঠাল, জলপাই, পেয়ারাসহ নানা রকম ফলের গাছ। কান পাতলেই শোনা যায় পাখির কিচিরমিচির। ভালো করে তাকালে কয়েকটি গাছের ডালে বাঁধা মাটির কলসিও চোখে পড়ে। সঞ্জয়ের বাসাও এই এলাকায়। সম্প্রতি সেখানে গেলে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
সঞ্জয় প্রথম আলোকে বলেন, ‘চোখের সামনে রোদ-বৃষ্টিতে কষ্ট পেতে দেখি পাখিগুলোকে। দেখতে খুব খারাপ লাগে। বাসার আশপাশের গাছগুলোতে বাসা করে দিয়েছি এ জন্য। এখন এসব বাসায় নানা রকমের পাখি আসে।’
সময় পেলেই সঞ্জয় পাখির বাসা পরিচর্যা করেন। এলাকাবাসীর মধ্যে প্রচারণাও চালান পাখির প্রতি সদয় আচরণ করতে।
গাছে পাখির বাসা বানাচ্ছেন সঞ্জয় রুদ্রসঞ্জয় বলেন, নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে পাখি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ৪০-৫০ টাকায় একটা মাটির কলসি পাওয়া যায়। যে কেউ চাইলেই এভাবে পাখির জন্য বাসা বানিয়ে দিতে পারেন।
শালবন এডিসি হিল এলাকায় গেলে এখন শালিক, ঘুঘু, দোয়েল ও টিয়া পাখির দেখা মিলবে। সঞ্জয়ের বেঁধে দেওয়া বাসায় ডিমও দিচ্ছে পাখিগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দারা সবাই চেনেন সঞ্জয়কে। এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত বলেও তাঁরা মনে করেন।52ed444061a8f-Untitled-13
খাগড়াছড়ির পাখি পর্যবেক্ষক উহলাপ্রু মারমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবার উচিত এভাবে পাখির জন্য কিছু করা। তাহলে প্রকৃতিতে পাখিরা বাঁচবে, আর আমরাও সুন্দরভাবে বাঁচতে পারব। সঞ্জয়ের দেখানো পথ ধরে মাটির কলসি অথবা কাচ কিংবা প্লাস্টিকের তৈরি বোতল গাছের ডালে রেখে বাসা বানানো যায়।’
সঞ্জয়ের প্রতিবেশী অজয় কান্তি ধর বলেন, ‘সঞ্জয় খুব ভালো মানুষ। তাঁর এই পাখি প্রেমের কথা আমরা সবাই জানি। এমন কাজে আমরাও ভবিষ্যতে সহযোগিতা দেব।’
সঞ্জয়ের এই কাজে উৎসাহ দেন পরিবারের সদস্যরাও। দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র বড় ছেলে রাহুল রুদ্রর (৭) কাছে বাবা একজন অন্য রকম মানুষ। জানতে চাইলে সে বলে, ‘বাবার মতো আমারও পাখি খুব পছন্দ। আমিও বড় হয়ে পাখির জন্য কাজ করতে চাই। পাখি রক্ষায় কাজ করতে চাই।’

(দৈনিক প্রথম আলোর ‘আলোকিত চট্টগ্রাম’ পাতায় ২ ফেব্রুয়ারি’২০১৪ তারিখে ছাপানো হয়েছে খাগড়াছড়ি থেকে নীরব চৌধুরীর পাঠানো এই দুর্দান্ত ফিচারটি। দৈনিক প্রথম আলো’র প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতাসহ প্রতিবেদনটি পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম এর ‘ অন্যআলো’ বিভাগে  প্রকাশ করা হলো পাঠকের জন্যই )

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি’র প্রচারপত্র বিতরণ

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূক প্রচারণা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার …

Leave a Reply