নীড় পাতা » ব্রেকিং » পর্যটন উন্নয়নে প্রয়োজন আন্তরিকতা

পর্যটন উন্নয়নে প্রয়োজন আন্তরিকতা

sachib‘পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করতে হলে এবং এর সত্যিকার বিকাশ চাইলে সব বিরোধীতার উপরে উঠে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে,পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভালোবাসতে হবে এবং এটা অত্যন্ত জরুরী। একই সাথে স্থানীয় মানুষের কৃষ্টি সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা থাকা ও আবেগ-অনুভূতিকে বিবেচনায় নিতে হবে।’

সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সম্মেলন কক্ষে কর্ণফুলি মিলনায়তনে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সামসুজ্জামান,রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো: সামসুল আরেফিন,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এসএম জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান। মতবিনিময় সভার শুরুতে আলোচ্য বিষয়ের উপর পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম সম্পাদক ফজলে এলাহী।

সভার শুরুতেই পার্বত্য সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন,পর্যটনের ক্ষেত্রে পার্বত্য অন্য দুইজেলার চেয়েও পিছিয়ে আছে রাঙামাটি। এখানে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি,অথচ সবচে বেশি সুযোগ এবং সম্ভাবনা আছে এই জেলাতেই। তাই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলাতেই পর্যটন উন্নয়নে কাজ শুরু করতে চাইছি। এই কারণেই ফজলে এলাহী’র একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্রধরে সৃষ্ট আলোচনাকে এগিয়ে নিতেই আমি এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করতে বলেছি। এবং এই মতবিনিময় সভা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ শুধু লেখা বা বলার জন্যই নয়,কাজের ক্ষেত্রে ও প্রায়োগিক হবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পেদাতিংতিং এর পরিচালক গৌতম দেওয়ান,সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অঞ্জুলিকা খীসা,গর্বা টুরিজম এর বাদশা ফয়সাল,রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নেসার আহম্মেদ,রাঙামাটি বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনউদ্দিন সেলিম,রাঙামাটি অটোরিক্সা চালক সমিতির সাধারন সম্পাদক শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান,চন্দ্রিমা রেস্টুরেন্ট এর মালিক শামসুল আলম,রাঙামাটির প্রবীন সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে,হিমালয়া প্রকল্পের মামানু,বাংলাদেশ এডভেঞ্চার ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মশিউর খন্দকার,রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল,বিটিভি প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল,রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশন এর ব্যবস্থাপক আলোকবিকাশ চাকমা।

সভায় বক্তারা বলেন, রাঙামাটি শহরকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে সুবিশাল কাপ্তাই লেক। এই লেককে ব্যবহার করে পর্যটনের যে বিপুল সম্ভাবনা,তা কাজে লাগাতে হবে। আর তা কাজে লাগাতে হলে মাস্টার প্ল্যান করে এবং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তবে পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে পাহাড়ের স্থানীয় মানুষের জীবন জীবিকা,কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন আলোচকরা। সভায় জানানো হয়, খুউব শীঘ্রই রাঙামাটির পর্যটন শিল্প বিকাশে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

এই সভার ফলোআপ করার জন্য আগামী জানুুয়ারি মাসে আরেকটি সভা করা হবে জানিয়ে পার্বত্য সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা,মতবিনিময় সভায় উঠে আসা কয়েকটি প্রকল্প প্রস্তাব দ্রত বাস্তবায়ন করার জন্য জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply