নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » পর্যটক শূণ্য বান্দরবান

পর্যটক শূণ্য বান্দরবান

BBN-Picপর্যটক শূণ্য হয়ে পড়েছে বান্দরবান। প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানসহ পাহাড়ে ধস নেমেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। বর্ষবরণ উৎসবেও পর্যটক শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে পাহাড়ের পর্যটন স্পটগুলো। লোকসান গুনতে গুনতে বান্দরবান হোটেল রুপসী বাংলা’সহ কয়েকটি হোটেল-রেষ্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। মালিকানা পরিবর্তণের ঘটনাও ঘটেছে। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে হরতাল-অবরোধে শুধুমাত্র বান্দরবানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলার পর্যটন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, বান্দরবানে হোটেল-মোটেল, রেষ্টুরেন্ট, পরিবহন এবং পর্যটন স্পটগুলোর সংস্কার-রক্ষণা বেক্ষনে প্রতিমাসে কমপক্ষে প্রায় তিন কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষবরণ উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছর জেলা সদরের ৪৫টি হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, শতাধিক ট্যুরিস্ট গাড়ি এবং পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকে ভরপুর থাকে। কিন্তু দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সবগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। লোকসানের কারণে হোটেল রুপসী বাংলা বন্ধ হয়ে গেছে। বান্দরবান গেস্টহাউজসহ কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পরিবর্তণ এসেছে। এভাবে আরো কিছুদিন চললে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের না খেয়ে মরতে হবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকার এবং বিরোধীদলকে ক্ষতিকারক কর্মসূচীগুলো পরিহারের দাবি জানান তিনি।
নতুন বর্ষকে বরণ এবং পুরনো বছরকে বিদায়ী জানাতে বান্দরবানে এই সময়ে প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে পর্যটকের আগমন ঘটে। ঢল নামে পর্যটন স্পটগুলোতে দেশী-বিদেশী পর্যটকের। কিন্তু হরতাল-অবরোধের কারণে এখন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক, স্বর্ণ মন্দির, শৈল প্রপাত, রিজুক ঝর্ণা, কিংবদন্তি বগালেক এবং নীলগিরিসহ বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো। পর্যটন রিসোর্ট হলিডে ইন এর ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন জানান, বছরের শুরু থেকে দফায় দফায় হরতাল-অবরোধে ধংসে দ্বারপ্রান্তে এখন পর্যটন শিল্প। সহসা রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে এই শিল্প সম্পূর্নই ধংস হয়ে যাবে। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং রিসোর্টের আনুসাঙ্গিক খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছে। BBN-Pic

ট্যুর অপারেটর অব বাংলাদেশ (টোয়াব) সভাপতি ও বান্দরবান হিলসাইড রিসোর্ট মালিক হাসান মনসুর বলেন, চলমমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের পর্যটন শিল্পের ক্ষতির পরিমাণ বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে এলেও এই ক্ষতি আগামী কয়েক বছরেও পুষিয়ে নেয় সম্ভব নয়। বিশেষভাবে বিদেশী পর্যটকরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে পর্যটকদের উপর নির্ভরশীল কোমর তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত পাহাড়ীরা।স্থানীয় ব্যবসায়ী থুইনকেল বম ও বনফুল টেক্সটাইলের মালিক মোহাম্মদ মিলন চৌধুরী জানান, দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমন না থাকায় তাঁতে তৈরি কাপড়-পোষাক বিক্রি একদম কমে গেছে। তাঁত শিল্পটির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় দশ হাজার মানুষ আর্থিক সংকটে ভূগছেন। বিক্রি না থাকায় উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতেও।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে পর্যটকের আগমন কমেছে। নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দে পর্যটকদের ভ্রমনের সমস্ত আয়োজনের পরও পর্যটন স্পটগুলো জনশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে পুলিশ কনস্টেবলের ‘আত্মহত্যা’

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে এক পুলিশ কনস্টেবলের ‘আত্মহত্যা’র খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি …

Leave a Reply