নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » পর্যটক শূণ্য পর্বতনন্দিনী বান্দরবান

পর্যটক শূণ্য পর্বতনন্দিনী বান্দরবান

BBN-Pic-123পর্যটক শূণ্য হয়ে পড়েছে পর্বতনন্দিনী বান্দরবান। প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে ধস নেমেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। পর্যটনের ভরামৌসুমেও পর্যটক শূণ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে পাহাড়ের পর্যটন স্পটগুলো। লোকসান গুনছে আবাসিক হোটেল-মোটেল, গেষ্টহাউজ এবং রেষ্টুরেন্ট মালিকরা। দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র বান্দরবানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

জেলা পর্যটন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বান্দরবানে হোটেল-মোটেল, রেষ্টুরেন্ট, পরিবহন এবং পর্যটন স্পটগুলোর সংস্কার-রক্ষণা বেক্ষনে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। নতুন বছরের শুরুতে প্রতিবছর জেলা সদরের ৪৫টি হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, শতাধিক ট্যুরিস্ট গাড়ি এবং পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকে ভরপুর থাকে। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় সবগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা। গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা। এভাবে আরো কিছুদিন চললে লোকসানের কারণে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকার এবং বিরোধীদল’কে ক্ষতিকারক কর্মসূচীগুলো পরিহারের দাবী জানান ব্যবসায়ীরা।Bandarban-Tourism-PiC_2

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জানুয়ারী থেকে মার্চ মাস পর্যটনের ভরামৌসুম। প্রতিবছর এই সময়ে বান্দরবানে প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে পর্যটকেরা ছুটে আসে পাহাড়ে। ঢল নামে পর্যটন স্পটগুলোতে দেশী-বিদেশী পর্যটকের। কিন্তু রাজনৈতিক অচলাবস্থায় অবরোধ’সহ রাজনৈতিক ক্ষতিকর কর্মসূচীগুলোর কারণে এখন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক, স্বর্ণ মন্দির, শৈল প্রপাত, রিজুক ঝর্ণা, কিংবদন্তি বগালেক এবং নীলগিরিসহ বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো।

পর্যটন রিসোর্ট হলিডে ইন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন জানান, দুবছর ধরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ধংসের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়েছিল পর্যটন শিল্প। গতবছরের নভেম্বর থেকে পর্যটন ব্যবসায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে শুরু করে। কিন্তু আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধস নেমেছে পর্যটন ব্যবসায়।

পালকি গেষ্ট হাউজের ম্যানেজার মোহাম্মদ মিটু বলেন, পর্যটনের ভরামৌসুমেও পর্যটক শূণ্য হয়ে পড়েছে বান্দরবান। কয়েকদিন ধরে গেষ্টহাউজের প্রতিটি খালি রয়েছে। অগ্রীম বুকিং করা রুমের টাকাও ফেরত নিচ্ছেন পর্যটকেরা। সহসা রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে এই শিল্প ধংস হয়ে যাবে।

বান্দরবান হিলসাইড রিসোর্ট (মিলনছড়ির) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মনসুর বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের পর্যটন শিল্পের ক্ষতির পরিমাণ বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে এলেও এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয় সম্ভব নয়। বিশেষভাবে বিদেশী পর্যটকরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এদিকে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে পর্যটকদের উপর নির্ভরশীল কোমর তাঁত এবং হস্ত শিল্পের সঙ্গে জড়িত পাহাড়ীরাও।

স্থানীয় ব্যবসায়ী থুইনকেল বম জানান, দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমন না থাকায় তাঁতে তৈরি কাপড়-পোষাক এবং বাঁশের তৈরির হস্ত শিল্পের জিনিসপত্র বিক্রি একদম কমে গেছে। তাঁত-হস্ত শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় এগারো হাজার মানুষ আর্থিক সংকটে ভূগছেন। বিক্রি না থাকায় উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতেও।Bandarban-Tourism-PiC_1

পরিবহন শ্রমিক মোহাম্মদ মনসুর বলেন, পর্যটকবাহী একশ থেকে দেড়শটি জীপসহ অন্যান্য ট্যুরিস্ট গাড়ী রয়েছে। পর্যটক না আসায় এসব গাড়ীর শ্রমিকরা ভীষন কষ্টে আছে।

জেলা প্রশাসনের ডেপুটি নেজারত এইচএম আল মুজাহিদ জানান, পর্যটন মৌসুমের কথা চিন্তা করেই পর্যটন স্পটগুলোতে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যে পর্যটকদের ভ্রমনের সমস্ত আয়োজনের পরও রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটন স্পটগুলো জনশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply