পর্যটক বান্ধব নয় যে পর্যটন শহর

suvlongপ্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি হিসেবে খ্যাত পর্যটন শহর রাঙামাটিতে নেই পর্যটন বান্ধব কোনো পরিবেশ। ফলে প্রতিবছর রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের এক প্রকার হতাশা নিয়েই ফিরে যেতে হয়। পাহাড়, ঝরনা আর এশিয়াখ্যাত কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য আসা পর্যটকরা রাঙামাটি এসে অনেকটা অতৃপ্তি নিয়েই ফিরে যাচ্ছে। আর এই জন্য অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও নগরায়নকেই দুষছেন সচেতন মহল।
দেশের বৃহৎ এই জেলার মুল শহরটি খুবই ছোট্ট। শহরে প্রবেশের মুখে আবর্জনার স্তুপ আর এই থেকে প্রতিনিয়ত ছড়ানো দুর্গন্ধে এক প্রকার নাভিশ্বাস উঠার উপক্রম হয় সকলের। মানিকছড়ির উঁচু পাহাড় পেরিয়ে যখন পর্যটকরা টেলিভিশন স্টেশনের কাছে আসেন। তখনই দুই পাশের পাহাড় দখল করে গড়ে উঠা ঝুঁকিপূর্ণ বসতি দেখেই পর্যটকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে এখানেই যেনো ছেদ পড়ে। আর একটু এগুলেই ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে যেনো দম বন্ধ হয়ে আসে। আর শহরে প্রবেশের মুখে এমন অবস্থা দেখে যে কারোই মনে খটকা লাগে এখানকার অবস্থা সম্পর্কে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্স পড়–য়া ছাত্র রাশেদ ইমতিয়াজ জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর রাঙামাটির রূপ-সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য বন্ধুরা সবাই মিলে রাঙামাটি আসি। কিন্তু শহরে প্রবেশের মুখে দুই পাশের দখল আর দুষনের অবস্থা দেখে প্রথমেই বুঝে নিয়েছিলাম। শহরটি পর্যটক বান্ধব নয়। পর্যায়ক্রমে শহরের ভিতর যতই ঢুকছি ততই হতাশ হচ্ছি। কারণ শহরটি এতই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে যে আর কয়েকবছর বাদে এখানে বেড়াতেই আসতে চাইবে না লোকজন। তারই সঙ্গী মায়মুনা তাবাচ্ছুম জানান, ভেবেছিলাম পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন আর পরিপাটিই হবে রাঙামাটির পরিবেশ। কিন্তু সব কিছু কেমন জানি অগোছালো আর অপরিকল্পিত। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটক বান্ধব করতে শহরকে বিলবোর্ড মুক্ত করাটাও জরুরী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লোকজন ঝুলন্ত সেতু, রাজবন বিহার, ডিসি বাংলো এলাকা সহ কয়েকটি হাতে গোনা স্পট দেখার পর এখানে দেখার আর তেমন কিছুই নেই। সন্ধ্যার পর পর্যটকদের জন্য বিনোদনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সারাদিন কাপ্তাই লেক কিংবা শহরের হাতে গোনা স্পটগুলো দেখার পর হোটেলের আবদ্ধ রুমে অলস সময় কাটানো ছাড়া যেনো উপায় থাকে না।
রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির নেতা নেসার আহম্মেদ জানান, সন্ধ্যার পর পর্যটকদের জন্য বিনোদনের তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় পর্যটকরা একদিন থেকেই চলে যান। বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সন্ধ্যার পর পর্যটকদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।
ঘড়ির কাটা দশটার ঘরে পৌছানোর আগেই যেনো এক প্রকার ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয় রাঙামাটি শহর। শহরের তবলছড়ি, কলেজ গেইট, আসামবস্তি নীরব নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। বনরূপা ও রিজার্ভ বাজারে হাতে গোনা কয়েকটি দোকান পাট খোলা থাকলেও অধিকাংশ দোকানই থাকে বন্ধ। ফলে প্রায়শঃ পর্যটকরা দশটার পর খাবারের জন্য বেকায়দায় পড়ে যান। চাঁদপুর থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের পরদিনই বেড়াতে আসা শরীফ চৌধুরী জানান, সন্ধ্যার পর পর্যটন এলাকায় এক ভুতুড়ে পরিবেশ। সাড়ে দশটার দিকে শহরের বনরূপা বাজারে গিয়ে কোনো খাবারের হোটেল খোলা পেলাম না। অগত্যা শুকনো খাবার খেয়েই রাত কাটাতে হলো।
হ্রদে বেড়ানোর নৌ-যানগুলোও সেই মান্দাতা আমলের। আধুনিক ছোঁয়াতো লাগেইনি। ইঞ্চিনও সেই পুরনো আর সেকেলে। ফলে এক ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে হয় তিন ঘন্টায়। এই বিষয়ে রাঙামাটি অভ্যন্তরীন নৌ-যান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মাঈন উদ্দিন সেলিম নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করে জানান, আমরা সময়মত নৌ-যানের পাটাতন পরিবর্তন করি,রং করি। ইঞ্চিনেরও কাজ করি। কিন্তু আধুনিক ইঞ্চিনের সংযোজনের বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই জানাননি তিনি।
শহরের যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ভাঙ্গারীর দোকান। রাস্তার পাশের দোকানগুলো গড়ে উঠেছে ফুটপাত দখল করে। ফলে শহরের সৌন্দর্য দিন দিন ¤্রয়িমান হচ্ছে।
এদিকে পর্যটক বান্ধব হিসেবে শহর গড়ে না উঠার বিষয়ে রাঙামাটি সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য-সচিব জিশান বখতেয়ার জানান, রাঙামাটিকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা জরুরী। এজন্য সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
রাঙামাটি পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, রাঙামাটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রাতের বেলায় যাতে শহরকে আলোকিত রাখা যায় সেজন্য শহরের প্রত্যেকটি অলিতে-গলিতে লাইট পোস্ট লাগানো হয়েছে। এছাড়াও শহরের অভ্যন্তরে কিছু স্পট সৌন্দর্য্য মন্ডিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। শহরকে পর্যটন ব্ন্ধাব করার জন্য পরিকল্পনা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply