নীড় পাতা » ফিচার » খোলা জানালা » পর্যটক এবং নাগরিক ভাবনায় রাঙামাটি : সমস্যা ও সম্ভাবনা

পর্যটক এবং নাগরিক ভাবনায় রাঙামাটি : সমস্যা ও সম্ভাবনা

ফুরমোন থেকে শহর রাঙামাটি

দেশের সবচে বড় জেলা একই সাথে পার্বত্য এলাকার কেন্দ্রবিন্দু রাঙামাটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ, কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঝুলন্ত সেতু, ফুরমোন পাহাড়সহ ছোট বড় অসংখ্য পাহাড় উচু নিচু রাস্তা বুকে জড়িয়েও এই শহর মূলত কতটা এগিয়েছে পর্যটন শিল্পে। প্রতিবছর আগত শত শত পর্যটক কিনবা বসবাস শিক্ষা এবং কর্মসূত্রে এই শহরের সাথে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলো কী ভাবছে শহরের পর্যটন শিল্প নিয়ে, কেমনই বা তাদের অভিজ্ঞতা সমস্যা এবং সম্ভাবনা জানার চেষ্টা করেছিলাম তাদের ভাবনায়।

দেবজ্যোতি চক্রবর্তী দেবু , সহ-সম্পাদক, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ
১৭/১৮ বছর আগের স্কুলের শিক্ষাসফরে এলেও তখনকার স্মৃতি বলতে কেবল ঝুলন্ত সেতুটাই। এবছরই বিজয় দিবসের ছুটিতে অফিসের বার্ষিক সফরে আবার এলেন রাঙামাটি। পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসাটা পুরনো সাথে হ্রদের জলে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছেটা সাথেই নিয়ে এসেছিলেন এবার। গন্তব্য শহরের নতুন বিনোদন কেন্দ্র পলওয়েল পার্ক। হ্রদে ডুবে মুত্যুবরণ করা এক দম্পতির স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত ‘লাভ পয়েন্টে’র জন্য এই পার্ক বিশেষভাবে পরিচিত সেই সাথে গাছপালা না কেটেই পার্কেল সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে বলে বেশ সন্তুষ্ট প্রকাশ করলেন। লাভ পয়েন্টের পাশে নির্মানাধীন নতুন অডিটোরিয়ামের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পর্যটক হিসেবে জানিয়েছেন নিজেস্ব মতামতও। বলেছেন, পাথর দিয়ে হ্রদের পাড়ে বাঁধ তৈরি করার কথা তাতে হয়তো সৌন্দর্য ফুটে উঠবে আরও বেশি। বলছিলেন ওয়াকওয়েগুলো মজবুত করার কথাও।এই পার্কেন বিশেষ আকর্ষণ সুইমিংপুলের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে জানালেন গোপনীয়তার কথা। পুরুষদের জন্য ব্যবহারের উপযোগী হলেও জানালেন মহিলাদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষার যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। হ্রদঘেষা কটেজগুলো রাত্রিযাপনের জন্য চমৎকার উল্লেক করলেন তিনি। তবে হ্রদে নৌ ভ্রমনকালে চিপসের প্যাকেট পলিথিন জাতীয় দ্রব্য হ্রদে ভেসে বেড়ানোও চোখ এড়ায়নি তাঁর। পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আরও সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

মো. আজিম উদ্দিন ছোটন, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
জল সবুজ আর পাহাড়ের টানটা পুরনো। ঘুরাঘুরিটাও। তবে এই দফায় বেড়িয়েছিলেন নিজের ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের পরিবার নিয়ে ভ্রমনে। রূপের রানী রাঙামাটির প্রতি ভালোবাসার জায়গাটা টের পাওয়া যাচ্ছিলো গল্পেই। পাহাড়ি উচুনিচু রাস্তা জলরাশি ঝুলন্ত সেতু যে কাউকে বারবার টেনে আনবে এই জায়গায় এমনটাই মন্তব্য তার। পর্যটন ব্রিজ হয়ে সুবলং ঝর্না ছিলো তাদের গন্তব্য। দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে শীতল জলে বয়ে চলা বোটজার্নি মুগ্ধ করেছে বেশ। সেই সাথে সুবলং ঝর্নার জলের ধারা শব্দ এবং স্থানীয় মানুষের যাপিত জীবন দেখার আছে অনেককিছু। সুবলং হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয় যাত্রা। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার জায়গাটুকুও ক্ষণিকের জন্য ভালো লাগা ছুয়ে যায়। সৌন্দর্যম-িত এই জায়গাটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ আসলেও শহরটিও এখনো ততটা পর্যটনবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি বলে মনে হয়েছে তার। পর্যটন শহর হিসেবে যতটা গোছানো থাকা উচিত ছিলো ততটা গোছানো নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভালো মানের খাবার কিংবা ভালো মানের আবাসিক হোটলেরও রয়েছে সংকট। কিছু কিছু খাবার হোটেলে মূল্যতালিকা না থাকার কারণে দাম নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও জানালেন। খাবারের মান এবং দামে বিস্তর পার্থক্য। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের জন্য তেমনভাবে ভালো মানের সেবার ব্যবস্থা নেই। ভাল লাগার এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত এই শহরটি বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পকে আরো অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে যদি ভালো মানের সেবা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা করা যায়,এক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ এবং স্থানীয় জনগনের সচেতনতা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

বিউটি বড়ুয়া, শিক্ষিকা, চট্টগ্রাম
শৈশব কৈশোর রাঙামাটিতে কাটালেও শহর ছেড়েছেন সেই চব্বিশ বছর আগে। তবুও সময় সুযোগ পেলেই ঠিকই ছুটে আসেন শহরে। কখনো কখনো বছরে তিন চারবারও। শহর রাঙামাটি সম্পর্কে এক কথায় মন্তব্য রাঙামাটি হলো রূপের রাণী। তার নিজেস্ব স্বকীয়তা আছে বলেই পর্যটন শহর হিসেবে মানুষকে টানে রাঙামাটি। সে হিসেবে গড়ে উঠেনি বিনোদন কেন্দ্র। রাঙামাটি বিখ্যাত ঝুলন্ত ব্রিজের জন্য কিন্তু এই ঝুলন্ত ব্রিজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেনি কোনো বিনোদনকেন্দ্র হয়নি কোনো সংস্কারও। আকর্ষনের জায়গাটাও নেই বললেই চলে। পলওয়েল আরণ্যকে ইদানিং পর্যটক বাড়লেও মূলত খুব ছোট জায়গা। কিন্তু বন্ধের দিনে এসব জায়গার লোক সমাগমের সংখ্যাই বুঝিয়ে দেয় মানুষের বিনোদন চাহিদার জায়গাটা কী। শহরে যাওয়ার কিনবা উপভোগ করার জায়গা সংকটের কারণেই মূলত এসব জায়গায় ভীড়টা স্পষ্ট। কোথাও কোথাও হ্রদ ভ্রমণ বোটে করে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা থাকলেও সে অর্থে প্রচার প্রসার নেই। রয়েছে উপযুক্ত ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার অভাবও। ব্যক্তিগত অভিমত থেকে জানালেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় লেকের পাশে, পাহাড় এমন কিছু জায়গা বেছে নেয়া যায় যেখানে সুনিশ্চিত পরিকল্পনায় আরও আকর্ষনীয় বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন।

দেব জয়, শিক্ষার্থী, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ
পড়াশোনার খাতিরে এই শহরে আসলেও আবেগের জায়গাটাও স্পষ্ট। দীর্ঘ চারবছরের শিক্ষাজীবনের সাথে জড়িয়ে আছে এই শহর। দেবের মতে রায়ামাটি শহর নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচাইতে সুন্দর শহর। প্রাকৃতিকভাবে এমন খুব কম শহরই আছে বলে মনে করেন তিনি। এর প্রাকৃতিক এবং শান্ত পরিবেশ বসবাসের জন্য আরামপ্রদ হলেও রয়েছে সুযোগ সুবিধার অভাব। এবং সমস্যাও। ধারণক্ষমতার চাইতে বেশি মানুষ বসবাস করছে এই শহরে। নিয়ম নীতির বালাইহীন বহুতল ভবনগুলো এই শহরের সৌন্দর্যনষ্ট করছে। ভবন নির্মাণের সময় গতানুগতিকতা ছেড়ে দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীকে গুরুত্ব দিলে হয়তো শহরটাও ভালো দেখাবে বাড়বে পর্যটক আকর্ষনও। শহরটা প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর হলেও টানা তিনদিন ঘুরলে আর দেখার কিছু থাকেনা বলে মনে মন্তব্য এই শিক্ষার্থীর। পর্যটক আকর্ষন বাড়ানোর জন্য জায়ান্ট অ্যাকুরিয়াম তৈরি কিংবা নৃ-তাত্ত্বি¡ক জাদুঘরের আরও প্রচার প্রসার করা গেলে ভালো হত বলে মনে করেন তিনি। শিক্ষার্থী হিসেবে আরেকটু বিষয়ের অভাব তাকে নাড়া দিয়েছে খুব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ভালো কোনো বইয়ের দোকান নেই শহরে সংগ্রহ খুব কম নেই সমৃদ্ধ কোনো গ্রন্থাগারও। একজন শিক্ষার্থীর যা বিশেষ জরুরি।

মো. আল-মামুন ভূঁইয়া, শিক্ষার্থী, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
‘Visit Rangamati after Birth and before Death’- শহর রাঙামাটি নিয়ে এমন ভালোবাসাই লালন করেন আল-মামুন। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ঘুরে ফেলেছেন দেশের ৩২টা জেলা। দেশ দেশের বৈচিত্র্যটা টানে খুব। আর সেখানে রাঙামাটিকে মনেহয় বৈচিত্র্যের আধার। পাহাড়, হ্রদ নদী, ঝর্না, গিরিপথ, গ্রামীণ পাহাড়ি জীবন বৈচিত্র্যের সমারোহ এই শহরে। সন্ধ্যার শহীদ মিনার, বিকেলের বাতাস স্বচ্ছ হ্রদের জলে নৌকার চলাফেরা ও পাহাড়ের বুকে সূর্য ডোবা পৃথিবীর যে কোনো পর্যটন শহরের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এই সুন্দরতা। কিন্তু আফসোসের জায়গাটাও রয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, পর্যটন খাতটার দিকে আরেকটু নজর দিলে হয়তো বাড়তো বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা। রাস্তাঘাট আবাসিক পরিবেশের সুষম ব্যবহারে রয়ে গেছে ঘাটতি। পর্যটন নগরী হিসেবে এই শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় সবার প্রথম ভাবনা হওয়া উচিত একটা ময়লাও যেন যেখানে সেখানে ফেলা না হয়। রাস্তারগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন করলে ভালো হয়। পর্যটন কেন্দগুলো আরও মনোরম করে গড়ে তুললেই এই শহরে বাড়বে আরও পর্যটক এমনটাই ভাবনা এই শিক্ষার্থীর।

অধ্যাপক ডা. টিপু সুলতান, অধ্যক্ষ, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ
দীর্ঘ চাকরি জীবনের ইতি টেনেছেন রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হয়েই। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আছেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে। মায়া জড়িয়ে গেছেন এই শহরেরও। শহর ছেড়ে যাওয়ার আগে স্যারের সাথে কথা হলো স্যারের শেষ কর্মস্থল এই শহর নিয়ে। প্রকাশ করেছেন ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন খারাপ লাগার কথাও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ঠিকভাবে বিকশিত হতে না পারা এই শহরের জন্য। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানালেন একটা পর্যটন শহর হওয়া স্বত্বেও ঠিক দিন নির্দেশনার অভাবে কোনো জায়গায় যেতে হলে বারবার গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে কোন পথে যাবে। সেটা পর্যটন ব্রিজই হোক কিংবা পলওয়েল পার্ক। পর্যটকদের জন্য ভোগান্তিই বটে। মানুষ হ্রদের জলে ঘুরে বেড়াতে আসে অথচ শহর জুড়ে নেই পর্যাপ্ত পরিকল্পিত ঘাট কিংবা হ্রদের ঘুরার যথেচ্ছ ব্যবস্থা। হ্রদের বুকে জেগে থাকা বিভিন্ন পাহাড়ে নানা কটেজ গড়ে তুলে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে তবে সেখানে নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় বিষয়। নিরাপত্তার ব্যাপারটা নিশ্চিত করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই শহরটাকে আরো ঢেলে সাজানো যায় বলে মনে করেন তিনি। শহরে ঢোকার মুখেই সুন্দর উঁচু পাশাপাশি দুইটা পাহাড় , চাইলেই এই দুই পাহাড়ে করা যায় ক্যাবল কারের ব্যবস্থা। কত কত টাকা খরচ করে মানুষ দেশের বাইরে যায় ঘুরতে বৈচিত্র্যতার টানে অথচ আমাদের সুযোগ থাকা স্বত্বেও আমরা কাজে লাগাতে পারছিনা। কথা প্রসঙ্গেই আসে পাশাপাশি শহর হয়েই খাগড়াছড়ি বান্দরবান যতটা উন্নয়ন করছে রাঙামাটি পিছিয়ে আছে অনেকটা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা সরকার প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ হয়তো পারে এই শহরের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে শহরে এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থায় ভালো ভূমিকা রাখতে। শহরে মেডিকেল কলেজ হয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে সে হিসেবেও বাইরের শিক্ষার্থীরা যাতে এসে এই শহর থেকে ভাল কিছু নিয়ে ফিরতে পারে সে ব্যাপারটিও খেয়াল রাখা উচিত প্রশাসনের। শহর ছেড়ে গেলেও এই শহরের জন্য মায়া ভালবাসার জায়গা অক্ষুণœ থাকবে আবারও নিশ্চয় আসবেন এমনটাই জানালেন রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের কা-ারী ডা. টিপু সুলতান।

ললিত সি চাকমা, উন্নয়নকর্মী এবং স্বত্ত্বাধিকারী, রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট
রাঙামাটির পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং পর্যটকদের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ উদ্যোগ নেয়া দরকার ছিলো তার থেকে এখনো আমরা অনেক পিছিয়ে আছি বলে মনে করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সাস’ এর নির্বাহী পরিচালক এবং রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টের স্বত্ত্বাধিকারী ললিত সি চাকমা। অতিসম্প্রতি বেশ কিছু পর্যটন এলাকায় পরিচিত হলেও সেসবের বৈচিত্র্যতার জায়গায় বেশ ফাঁক রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে প্রাইভেট সেক্টরের কিনবা সরকারিভাবে স্থানীয় উদ্যোক্তারা সে অর্থে সাহায্য সহযোগিতা পেলে হয়তো তারাও উৎসাহিত হতো এই জায়গাগুলোতে বৈচিত্র্যরতা আনার। পর্যাপ্ত সাহায্য সহযোগিতার অভাবে হতাশ হয়ে পড়ছে স্থানীয় উদোক্তারা। যার ফলশ্রুতিতে পিছিয়ে পড়ছে এই এলাকার পর্যটন শিল্প এমনটাই মনে করেন তিনি। পার্বত্য এলাকার তিন জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেই পিছিয়ে রয়েছে এই শহর কারণ অন্য দুই শহরের তুলনায় সুযোগ সুবিধার জায়গা গুলোকে উন্নত করা যায়নি। একই সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসন স্থানীয় উদ্যোক্তাতাদের সে অর্থে সাহায্য সহযোগিতার করার কোনো নজিরও নেই। ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ এগুতে চাইলেও একটা সময় আর্থিক সংকট ধরা দিবেই। এই জায়গাটায় স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্যের খাত বাড়ানো খুব জরুরি। শহরটাকে আরও পর্যটনবান্ধব এবং আকর্ষনীয় করে তুলতে কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হতে হবে। অনেক বেশি কিছু করার দরকার নেই শহরটাকে শহরের রাস্তাঘাটকে পরিচ্ছন্ন রাখলেই পর্যটক আরও বেশি আকৃষ্ট হবে। দরকার পরিকল্পনা সৃজনশীল ভাবনা এক্ষেত্রে পর্যটকদের চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে নানাবিধ আধুনিক সুযোগ সুবিধাও প্রয়োজন মাফিক তৈরি করা যেতে পারে। সাম্পগ্রিকভাবে এই পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসনের আরও উদার এবং সহযোগিতার মনোভাবই কাম্য ললিত সি চাকমার।

জসিম উদ্দিন, উন্নয়নকর্মী
শহর রাঙামাটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজ রাঙামাটির সাথে দীর্ঘদিন সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের কর্মসূচি সমন্বয়ক জসিম উদ্দিন। শহরের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে পর্যটক ভাবনার জায়গা থেকে জানতে চেয়েছিলাম ঘাটতি এবং সম্ভাবনার কথা। অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে তিনি মনে করেন, পর্যটন শিল্পের চেহারা এবং আচরণ কোনোটাই এখনো সে অর্থে পর্যটকবান্ধব হয়ে ওঠেনি। তারপরও প্রতিবছর প্রচুর মানুষ ছুটে আসে এই শহরে কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিসেবা সৃষ্টি হয়নি। পর্যটকরা এই শহরের অতিথি। অতিথির সাথে কেমন আচরণ করা উচিত তাও আমরা এখনো হয়তো শিখতে পারিনি। হয়তো এই শহরে এখনো অনেক কিছু নেই তবুও দূর-দূরান্ত থেকে যে মানুষগুলো এই শহরে ঘুরতে আসে সুন্দর ব্যবহার এবং সততা দিয়ে তাদেরকে মুগ্ধ করতে পারি আমরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply