নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » পর্যটকে মুখর হ্রদ পাহাড়ের শহর রাঙামাটি

পর্যটকে মুখর হ্রদ পাহাড়ের শহর রাঙামাটি

parzatan-pic-coverটানা অবরোধ-হরতাল আর রাজনৈতিক অস্থিরতার পর আবারো পর্যটক আসতে শুরু করেছে পার্বত্য অরন্যসুন্দরী শহর রাঙামাটিতে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে আসছেন পাহাড়ী এই শহরে। পাহাড় আর হ্রদের শহর রাঙামাটি যেনো আবারেআ উৎসবে মেতে উঠছে। পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে শহর রাঙামাটি। বিশেষ করে সরকারী ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে সবচে বেশি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় এবং পর্যটকরা রাঙামাটিতে আসতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা। শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে এখন বুকিং আছে বেশ ভালোই। অভিজাত আবাসিকস্থল পর্যটন মোটেল,হোটেল সুফিয়া,হোটেল গ্রীণ ক্যসেল, এবং মোটেল জর্জ প্রায় সব রুম বুকিং আছে।

রাঙামাটি শহরের বনরূপায় অবস্থিত হোটেল নীডস হিল ভিউ’র ব্যবস্থাপক মো:শাহ আলম বলেন,আগের তুলনায় এখন মোটামুটি রুম বুকিং চলছে। আশাকরি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মন্দাভাব কাটিয়ে উঠা যাবে।

এদিকে রাঙামাটি শহরের স্থানীয় ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম খোকন বলেন,রাঙামাটিতে পর্যটকদের পদচারনা বেড়ে যাওয়া মানে পর্যটন এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই উপকৃত হওয়া। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা কয়েকজন সাংবাদিক জানালেন- রাঙামাটি অত্যন্ত সুন্দর একটি শহর। এই শহরটিতে নিয়ে আরো গোছালো এবং পরিকল্পিত চিন্তা ভাবনা করা হলে এর পর্যটন সম্ভাবনা শতভাগ কাজে লাগানো যাবে। দেশের বিভিন্ন্ স্থান থেকে আসা পর্যটক এবং শহরবাসী নানা কাজের ব্যস্ততার মাঝে একবিন্দু অবসরে ছুটে যাচ্ছেন রাঙামাটিতে পর্যটকদের জন্য মনোমুগ্ধকর কাপ্তাই হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ছাড়াও পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায় হ্রদের ধারে দুই পাহাড়ের মাঝখানে স্থাপিত আর্কষনীয় ঝুলন্ত সেতু,সুভলং,বালুখালী,রাজবন বিহার পৌর পার্ক,কাপ্তাই নেভী ক্যাম্প উপজাতীয় জাদুঘর,চাকমা রাজবাড়ী কিংবা টুকটুক ইকো ভিলেজে অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে।
ঢাকা থেকে প্রথম রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত আহসানুজ্জামান ফাহিম বলেন,বেড়ানোর জন্য রাঙামাটি অসাধারন একটি স্থান। এখানকার কাপ্তাই হ্রদের অপরূপ সৌন্দর্য দুচোখ ভরে গেছে।

প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে বাস-মাইক্রো-জিপ আর নানা গাড়ীতে আসছেন পর্যটক। তবে ছুটির দিনগুলোতে এই সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে গেছে।

রাঙামাটি সরকারী পর্যটন কর্পোরেশনের ইজারা নেয়া পর্যটন নৌ-যান ঘাটের ইজারাদার রায়হান চৌধুরী বলেন, আগের তুলনায় পর্যটক আসতে শুরু করেছে তবে শুক্রবার-শনিবার প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে।

অনেক পর্যটক মন্তব্য করেন সরকারী বা বেসরকারী উদ্যেগে হোক এ পর্যটন স্পটগুলোকে যদি আরো নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয় তাহলে ভবিষ্যতে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে র্ঙাামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক আকলাকুর রহমান বলেন- দীর্ঘদিনের অবরোধ-হরতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ারপর এখন প্রতিদিন কমবেশি পর্যটক রাঙামাটিতে ভ্রমন করেছেন। আমাদের এখন মোটেলে ১৩-১৫ এবং ২১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বুকিং আছে।

শহরে পর্যটকদের আবারো মুখরতা প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে পাহাড়ী এই শহরের পর্যটন ব্যবসায়। হোটেল মোটেল ব্যবসায়ী কিংবা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মুখ তাই এখন প্রশান্তির হাসি। তারা চান,দুষ্ট রাজনীতি যেনো আর তাদের জীবিকায় নতুন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে পুলিশ কনস্টেবলের ‘আত্মহত্যা’, নেপথ্যে ‘প্রেম’

রাঙামাটিতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা …

Leave a Reply