নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » পর্যটকশূণ্য রাঙামাটি শহর!

পর্যটকশূণ্য রাঙামাটি শহর!

212121jpgহ্রদ-পাহাড়ের শহর রাঙামাটি এবার একেবারেই পর্যটক শূণ্য। প্রতিবছর ঈদ,পূজা বা যেকোন ছুটিতে হাজারো পর্যটকের পদভারে মুখর যে শহর, সেই রাঙামাটি এখন নিস্তব্দ,নীরব। শহরের কোথাও দেখা মিললোনা উল্লেখযোগ্য পর্যটকের। আর এই পর্যটক শূণ্যতার জন্য দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আর আগামী ২৫ অক্টোবর বিরোধীদলের ঘোষিত আল্টিমেটামের ফলে সৃষ্ট অনিশ্চয়তাকেই দায়ি করেছেন পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাঙামাটি শহরের বেশ কয়েকটি পর্যটন স্থাপনায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,যেকজন হাতেগোণা পর্যটক আছেন,তাদের বেশিরভাগই স্থানীয়। রাঙামাটির বাইরে থেকে যারা এসেছেন তারাও একধরণের অনিশ্চয়তা নিয়েই দ্রুত ভ্রমন শেষে ফিরে যাওয়ার তাড়ার কথাই জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেড়াতে আসা ভারতীয় নাগরিক অভিষেক গাঙ্গুলি জানিয়েছেন,রাঙামাটি অনেকটা কেরালার মতোই। এখানকার মানুষগুলো খুবই ভালো এবং অতিথিপরায়ণ। রাঙামাটি শহরও বেশ পরিচ্ছন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকার ধামরাই থেকে আসা আব্দুল আজিজ জানালেন,পর্যটন শহর রাঙামাটি তার খুবই ভালো লেগেছে। তবে ঝুলন্ত ব্রীজের জন্য দশ টাকা টিকেট নেয়া এবং পর্যটকদের জন্য কমপ্লেক্সে বসার এবং খাবারের কোন ব্যবস্থা নেই। তিনি পর্যটনকে আরো আকর্ষণীয় করার জন্য সরকারি উদ্যোগ নেয়ার জোর দাবি জানান।

রাঙামাটি শহরের ঝুলন্ত ব্রীজ,সুভলং ঝর্ণা,রাজবনবিহার সহ সর্বত্রই দেখা দেখে পর্যটক শূণ্যতা। পর্যটক শূণ্যতার কারণে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শংকার কথা জানালেন পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা।

বিগত পনের বছর ধরে রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতরে পাহাড়ীদের হাতে তৈরি পোষাক ও বিভিন্ন উপকরণ বিক্রি করেন আলো চাকমা। তিনি জানালেন,এবছর পর্যটক খুবই কম। পর্যটক না এলে ব্যবসা খারাপ হয় এবং নিজেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে জানান তিনি। তিনি দেশের রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতি দেশের স্বার্থে ক্ষতিকর কর্মসূচী না দেয়ার আহ্বান জানান।

কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারি টূরিস্ট বোটের ঘাট ইজারাদার রমজান আলী জানালেন,ভেবেছিলাম ঈদের ছুটিতে ব্যবসা ভালো হবে,কিন্তু এখন পর্যন্ত যে অবস্থা তাতে আমরা খুবই হতাশ। তিনি বলেন আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে বিরোধীদলের কর্মসূচীর কারণে যে শংকা তৈরি হয়েছে সেই কারণে রাঙামাটির বাইরে থেকে পর্যটকরা আসেননি বলে মনে হচ্ছে।

রাঙামাটির পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক মোঃ আখলাকুর রহমান জানালেন,আমাদের মোটেল আগামী ১৮ থেকে ২১ অক্টোবর তিনদিন বুকিং আছে। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে এই বুকিং ফিক পর্যন্ত বহাল থাকবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এবার রাঙামাটির স্থানীয় পর্যটকরা বেশিরভাগ কমপ্লেক্সে ঘুরতে আসছে বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পাহাড়ের বুকে সবুজের সমারোহ ওয়াগ্গা চা বাগান

পার্বত্য চট্টগ্রামের অপরূপ সৌন্দের্যে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা চিরমুগ্ধ। কেননা প্রকৃতি যেনো এখানে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে সবটা উজাড় …

Leave a Reply