নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » পরাজিত দীপংকর দেখছেন জীবনের উল্টোপীঠও

পরাজিত দীপংকর দেখছেন জীবনের উল্টোপীঠও

dipankar coverসংসদ সদস্য হিসেবে জীবনের শুরুতেই নিজদল আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকলেও নিজে ছিলেন বিজয়ী সংসদ সদস্য। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ৫ম জাতীয় সংসদে তাই সক্রিয়ও ছিলেন নানাভাবে। এরপর ৯৬ সালে দল বিজয়ী হয়েছে,সাথে তিনিও। ২০০১ সালে দল পরাজিত এবং সেই সাথে তিনিও। ২০০৮ সালে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যই নয়,পেয়েছেন পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বও। আর ৫ বছর পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে নিজ দল বিজয়ী,অথচ তিনি পরাজিত !

নিয়তির নির্মম পরিহাস কিংবা অদ্ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা,যাই বলা হোক না কেনো,রাজনৈতিক জীবনে তাই শুধুই মুদ্রার এপিঠ বা ওপীঠ নয়,যেনো সব পীঠই,সব ভাবে দেখা হয়ে গেলো রাঙামাটির তিনবারের বিজয়ী সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারের।

সারাদেশে আওয়ামী লীগের ভূমিধ্বস বিজয়েও নির্বাচনকালিন সরকারের একমাত্র ব্যতিক্রম দীপংকর তালুকদার পরাজিত হলেন আঞ্চলিক রাজনীতির ঘোরপাকে। তার এই পরাজয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা যতোটা হতোদ্যম হয়েছেন,ব্যক্তিগতভাবে তিনিও কম হননি। ফলে নির্বাচনের মাত্র দুইদিন পর ৭ জানুয়ারি রাঙামাটি ছেড়ে যাওয়া দীপংকর তালুকদার গত একমাসেও ফিরেননি রাঙামাটিতে।

নির্বাচনী হতাশা কাটাতে ঢাকায় অবস্থান নাকি দলীয় কোন পদ পদবী পেতে চেষ্টায় ব্যস্ত আছেন তিনি তা জানতে বা জানাতে নারাজ দলটির নেতাকর্মীরা। কিন্তু ‘দাদানির্ভর’ রাঙামাটির রাজনীতিতে দাদার শূণ্যতা গত এক মাসে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে এবং প্রতিনিয়তই পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দাদা’র সান্নিধ্য না পাওয়ায় হতাশ তারা,তবে সময়ের সাথে সাথে দাদার প্রতি অভিমানও কমছে অনেকের। দাদার পরাজয়ের কারণ খুঁজে ফেরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চায়ের কাপে কিংবা দলীয় কার্যালয়ের খোশগল্পে দাদাহীনতার গল্পই আওড়াচ্ছেন শুধু। যদিও সিনিয়র নেতাদের ব্যাখ্যা,দাদা ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন,বাসা পরিবর্তন করতে হয়েছে একাধিকবার,নতুন বাসা গুছিয়ে উঠতে সময় লাগছে। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা নেতাদের ব্যাখ্যা মানতে নারাজ।
তাদের বক্তব্য,নিবার্চনে পরাজিত হওয়ার পর নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য দাদা’র যেখানে রাঙামাটি অবস্থান করা জরুরী ছিলো,তিনি তা না করে অভিমানে কিংবা তদ্বিরের জন্য ঢাকায় বসে থাকা সমীচিন নয়। এমনকি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়,রাজস্থলী উপজেলায় সহসভাপতি মংক্য মারমাকে হত্যা,রাঙামাটি শহরে দুই দলীয় কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ বিভাগের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের অবনতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দাদা দীপংকর তালুকদারের অনুপস্থিতিতে বিব্রত এবং এলোমেলো আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন ধরে দাদার ছায়ায় থেকে নেতৃত্বগুন প্রায়ই হারিয়ে ফেলা জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা হতোদ্যোম প্রায়।

তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে,দাদা দীপংকর তালুকদার শীঘ্রই রাঙামাটি আসছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি আসবেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বসবেন এবং পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ দীপংকর আবারো মাঠ দাপিয়ে বেড়াবেন।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মুছা মাতব্বরও জানালেন,দাদার সাথে আমাদের নিয়মিত কথা হয়,তিনিও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। আসলে দলীয়,পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কিছু কাজে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন,শীঘ্রই তিনি রাঙামাটি আসছেন। নেতাকর্মীদের হতাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে স্বাভাবিক কিছু হতাশা তো থাকবেই,তবুও দাদা এলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, দীপংকর তালুকদার ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সদস্য, ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিষয়ক সম্পাদক,৭৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে ছাত্রলীগের প্রতিনিধি হিসেবে গমন,৭৫ এ বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর সক্রিয় প্রতিবাদ করে দীর্ঘ নয় বছর ভারতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে,৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে ৩ র্পাবত্য জেলার আওয়ামী লীগের পক্ষে সমন্বয়কারী ছিলেন। আওয়ামীলীগের জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদকের পাশাপাশি তিনি একই সঙ্গে যুবলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্যও ছিলেন। ৯১ সাল থেকে রাঙামাটি আসনে টানা তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে আসছেন। এর মধ্যে ৯১,৯৬ এবং ২০০৮ সালে বিজয়ী ও ২০০১ ও ২০১৪ সালে পরাজিত হয়েছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনায় নারীর মৃত্যু

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেবী আক্তার (৪০) নামে এক …

Leave a Reply