নীড় পাতা » পার্বত্য পুরাণ » ‘পরস্পরের ভাষা,সংস্কৃতিকে মূল্যায়ন না করার যে সংস্কৃতি,সেটা অনেকটাই কেটে যাবে’

‘পরস্পরের ভাষা,সংস্কৃতিকে মূল্যায়ন না করার যে সংস্কৃতি,সেটা অনেকটাই কেটে যাবে’

amalan-chakamaপিতা জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা ছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ,সাংবাদিক ও আইনজীবি। লেখক ও গবেষক হিসেবে স্বনামধণ্য তিনি। তারই জৈষ্ঠ্যপুত্র তরুন লেখক ও গবেষক অম্লান চাকমা। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে কর্মরত অম্লান চাকমা’র লেখালেখির হাতও বেশ চিত্তাকর্ষক। একসময় বেসরকার উন্নয়ন সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা তার লেখায় বাস্তবতা ও গবেষনার সন্নিবেশ ঘটিয়ে করেছে আরো তীক্ষ্ন ও বাস্তবধর্মী। ব্যক্তিগত জীবনে ভীষণ বিনয়ী এই তরুন পড়ুয়া  এবং সজ্জনও ।
গত ১ নভেম্বর রাঙামাটি শহরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘প্রথম  আদিবাসী লেখক সম্মেলন-২০১৪’ এ অংশ নিয়েছেন এই তরুণ লেখক। সেখানেই তার সাথে কথা হয় পাহাড়২৪ প্রতিবেদক বিজয় ধর’র। সেই আলোচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

‘তিন পার্বত্য জেলায় দশ ভাষাভাষী আদিবাসী লেখক এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলো রয়েছে যরা বিশেষ করে বিভিন্ন দিবসে লিটন ম্যাগাজিন বা প্রকাশনা গুলোতে যারা লিখেন তাদেরকে আমরা যাতে একত্রিত করতে পারি এরকম চিন্তাভাবনা নিয়ে আদিবাসী লেখক সম্মেলনের আযোজন। এখানে আমরা যারা কমবেশি টুকটাক লেখালেখি করি, সেটা হচ্ছে বিচ্ছন্ন বিক্ষিপ্তভাবে, যেমন খাগড়াছড়ির লেখকরা খাগড়াছড়িতে লিখছেন বা অন্য জেলা বান্দরবানে যারা এ ধরনের কাজের সাথে তারা তাদের মতো করে লিখছেন । এবং রাঙামাটিতেও আমরা যারা আছি সেভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অনেক দিনের একটা ইচ্ছা ছিল যে, আমরা যারা লেখালেখি করি সবাই যদি একত্রিত হয়ে এক প্লাটফর্মে বসে কাজ করতে পারি তাহলে আমাদের লেখনি আরো সমৃদ্ধ হবে।’

এইভাবেই প্রথম আদিবাসী লেখক সম্মেলন নিয়ে নিজের আবেগ আর অনুভূতির কথা জানালেন অম্লান চাকমা।

তিনি বলেন,এই সম্মেলনের মাধ্যমে হয়তো আমি লেখালেখি নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবো। এখানে লেখক যারা এসেছেন, অনেককে আমি চিনিনা। হয়তো তাদের লেখা পড়েছি বা নামে চিনি। কিন্তু আজকের এ সম্মেলনের মাধ্যমে পরস্পর পরিচিত হলাম। সবার সাথে একত্রিত হওয়ার বা মিলনমেলার একটা বড় সুযোগ এসেছে তাই আমি এ সুযোগকে হাতছাড়া করতে চাইনি বলেই এখানে অংশ নিয়েছি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্প-সাহিত্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে এ তরুন লেখক বলেন,আমরা অতীত ইতিহাস থেকে শুরু করলে বলতে হয়, খুব একটা ভাল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি সেটা আমরা বলতে পারবো না। আমরা কিছু কিছু চর্চা করছি বা অনেকে ব্যাক্তিগত উদ্যেগে কাজ করছে বা অনেকে গবেষনা কাজে লিপ্ত আছেন। কিন্তু সেটা অত্যন্ত ছড়ানো ছিটানো ভাবে, পুরোপুরি গোছালো সেটা বলতে পারছিনা। তবে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর এর আগে একজন লেখকের মধ্যে লুকিয়ে ছাপিয়ে লেখার যে সীমাবদ্ধতা ছিল তা অনেকটা উন্মুক্ত হয়েছে।’

‘আমরা যদি খেয়াল করি চুক্তির পরবর্তী যে ম্যাগাজিন বা বিভিন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে তাতে অনেক কিছু বিষয় উঠে এসেছে যেগুলো চুক্তি পুর্ববর্তী সময়ে এসব বিষয়ে লেখার সুযোগ বা যদি বলি সমারিক শাসন বা জনসংহতি সমিতির আন্দোলনের যে সময় ছিল তখন কিন্তু আমাদের প্রকাশ্যে লেখার সুযোগ খুবই কম ছিল। এমনকি তখনকার সময়ে ম্যাগাজিনের নাম বা লেখকের নাম ছদ্মনামে প্রকাশিত হতো। বর্তমানে আমরা একটা ভাল অবস্থানে আছি । আমি বিশ্বাস করি এর ধারাবাহিকতা যদি থাকে, আজকে আমাদেরএই সম্মেলন মাধ্যমে যদি একটি ফোরামের মধ্যে আসতে পারি তাহলে আমাদের যে স্বপ্ন আছে তা পরিপূর্ণ রূপ দিতে পারবো।’

পার্বত্য এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রক্ষার্থে একজন লেখক হিসেবে কি করনীয় এমন প্রশ্লের উত্তরে অম্লান চাকমা বলেন,এখানকার পরিস্থিতি মাঝে মাঝে যে সংঘাতগুলো হয়, আমরা যেটা দেখি এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা, তাতে আমরা পরস্পরকে না জানার, না দেখার, না বোঝার, বা একের সংস্কৃতিকে অন্যজন মূল্যায়ন না করার যে সংস্কৃতি, এটা থেকে মূলত: অনেক সমস্যা সৃষ্টি থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে একটা কথা অবশ্যই বলতে হবে এখানে কোন কোন অশুভ শক্তি আছে, একটা কায়েমী স্বার্থবাদী মহল আছে, তারা চায়, পাহাড়ী-বাঙালীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত এ সমস্যা জিইয়ে থাকুক।’

‘এখন লেখকরা তাদের লেখনীর ক্ষমতা নিয়ে বা মননশীল লেখা দিয়ে বা উদার দৃষ্টিভঙ্গির লেখা নিয়ে, যদি চাকমারা চাকমাদের সংস্কৃতি,মারমারা নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরে এবং এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ,সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন কি ভুমিকা রাখে, এসব খোলামেলা বিষয় লেখনীর মাধ্যমে উঠে আসে সুতরাং পাহাড়ী-বাঙালীদের মধ্যে অলিখিত বা অজান্তের ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টির অবসান হবে।

অম্লান চাকমা বলেন,‘বর্তমানে একজনের ভাষা,সংস্কৃতিকে মূল্যায়ন না করার যে সংস্কৃতি চর্চা চলে আসছে সেটা অনেকটা কেটে যাবে। আমি মনে করি যদি আমাদের লেখনীর মাধ্যমে পাহাড়ী হোক বা বাঙালী হোক তাদের ভাল জিনিসগুলো ফুটিয়ে তুলতে পারি বা মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে অনাকাংখিত যে বিরোধ, তা অনেকাংশে কমে যাবে বলে বিশ্বাস করি।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জেসমিন সুরভী’র কবিতা স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

অচেনা ফেরিওয়ালা হরেক রঙের স্বপ্ন ফেরি করে হাঁটছে এ গ্রাম থেকে সে গ্রাম, ইটের শহর …

Leave a Reply