নীড় পাতা » পার্বত্য উন্নয়ন » পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

podda-01111বান্দরবানের আলীকদমে সরলমনা লোকজন দ্বিগুণ লাভের আশায় পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে বিমা পলিসির টাকা জমা দিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন। মাসিক প্রিমিয়ামের (কিস্তি) টাকা কোম্পানির পলিসি লেজারে না তুলে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন বীমা গ্রাহকরা। কোম্পানির শাখা কার্যালয়ে গিয়েও কোনো সুরাহা মিলছে না। সম্প্রতি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এসব অভিযোগ এনেছেন গ্রাহকরা। গ্রাহকরা বলছেন, বীমা পলিসি নামে এতোদিন তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।
গ্রাহকরা জানান, গত ২০০৭ সালে উপজেলার খুইল্যা মিয়া পাড়ার আবু বক্কর মাস্টারের বাড়িতে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা কক্সবাজারের চকরিয়ার মো. কবির হোসেন ও নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বিমা গ্রাহক সংগ্রহে সভা করেন। এ সভায় কোরআন-হাদীসের আলোকে বিমা পলিসি পরিচালনার কথা বলে মাসিক ১০০ টাকার পলিসি ১০ বছরে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের দ্বিগুন অর্থাৎ ২৪ হাজার টাকা এককালীন পাবেন বলে জানানো হয়।
এদিকে জমানো অর্থ ইসলামী শরীয়া মতে পরিচালিত হওয়ার কথা শুনে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে বিমা গ্রাহক হন এলাকার কিছু সরলমনা মানুষ। ২০০৭ সালের মাঝামাঝি থেকে গ্রাহকরা কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট আবু বক্কর মাস্টারের কাছে মাসিক ১০০ টাকা পলিসির টাকা জমা শুরু করেন। বিমা পলিসির টাকা আবু বক্কর মাস্টারের ভগ্নিপতি সর্ম্পকের মো. কবির হোসেন’র (কক্সবাজার জোনাল হেড কোয়ার্টারের চকরিয়া ব্রাঞ্চের কমিশন এজেন্ট) মাধ্যমে কোম্পানিকে জমা হত।
বীমা গ্রাহকরা বলেন, এতোদিন গ্রাহকদের পলিসির টাকা জমা নেওয়া হলেও চলতি বছরের জুন মাস থেকে আবু বক্কর মাস্টার গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রীমিয়ামের টাকা জমা নিচ্ছেন না। গ্রাহকরা আবু বক্কর মাস্টারের সাথে যোগাযোগ করলে চকরিয়া ব্রাঞ্চের কমিশন এজেন্ট কবির হোসেন টাকা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান। পরে গ্রাহকরা কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নানা ছলচাতুরীর কথা বলেন।
চকরিয়া ব্রাঞ্চের কমিশন এজেন্ট কবির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আবু বক্কর মাস্টার আলীকদম ব্রাঞ্চের ম্যানেজার। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে তার কোড নম্বর- ৭৮২১। তবে আবু বক্কর মাষ্টার বলেন, তিনি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ম্যানেজার নন। পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে তাকে ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার বলছেন। এ বিষয়ে পদ্মা লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেবেন বলে জানান তিনি।
আলীকদম প্রেস ক্লাবের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম বলেন, বীমা গ্রাহকরা বিষয়টি জানানোর পর পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কক্সবাজার জোনাল অফিসের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর জহিরুল ইসলাম হাজরার সঙ্গে দুইবার বৈঠক করি। বৈঠকে চকরিয়া অফিস থেকে আলীকদম ব্রাঞ্চের বিমা গ্রাহকদের পলিসি লেজার ও প্রিমিয়াম রেজিস্টার আনা হয়। লেজারে গ্রাহকদের মাসিক সঞ্চয়ের একাধিক কিস্তির টাকা তোলা হয়নি। পলিসি রেজিস্টারে প্রিমিয়ামের কিস্তির টাকা না লেখার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভূক্তভোগি ফোরকান আরা বেগম (পলিসি নম্বর-১৪১১০০৩৯৪০-২) জানান, ‘সরলতা সুযোগ নিয়ে পদ্মা ইসলামী লাইফের কর্মকর্তারা কোরআন ও হাদীসের কথা বলে বিমা গ্রাহক করান। পদ্মা ইসলামী লাইফের বীমা পলিসি করি। মাসিক ১০০ টাকা করে ৮ বছর ধরে কিস্তি দিচ্ছি। কিন্তু গত জুন মাস থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
আরেক বিমা গ্রাহক কাশমিন নাহার (পলিসি নং- ১৪১১০০১২০০-৩) বলেন, পদ্মা ইসলামী লাইফের চকরিয়া জোনের ইনচার্জ জহির আমাদের সাথে দু’দফা বৈঠকেও কোন সমাধা দিতে পারেননি। পলিসির টাকা লেজারে না উঠানোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply