নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » পথে বসছে দীঘিনালার পোল্ট্রি খামারিরা

পথে বসছে দীঘিনালার পোল্ট্রি খামারিরা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পোল্ট্রি ডিলারের একক সিন্ডিকিটের অভিযোগ করেছে খামারিরা। খামারিদের অভিযোগ, লতা জাফর ওরফে মুরগী জাফর সিন্ডিকেটের কারণে পথে বসার পালা হয়েছে তাদের। নিয়ম নীতির বালাই নেই, জাফর সিদ্ধান্তেই চলছে পোল্ট্রি ব্যবসা। সিন্ডিকেটের গ্যাঁড়াকলে পরে উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক খামারীর অধিকাংশই এখন সরকারী, বে-সরকারী সংস্থার ঋনের জালে আটকা পরেছে। সমস্যা উত্তরনের পথ খোজতে খামারিরা সম্প্রতি ঘরোয়া সভাও করছেন; কিন্তু কিছুতেই সমাধান হচ্ছেনা প্রভাবশালি সিন্ডিকেটের কারণে। তবে উপজেলার ডিলার জাফর খামারিদের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন।
খামারিরা জানায়, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার পিস ব্রয়লার মুরগী বিক্রয় হয়। এসব মুরগী পালন হয় প্রায় ৩ শতাধীক খামারিদের খামারে। এর সম্পূর্ন যোগানদাতা বোয়ালখালী নতুন বাজারের ডিলার একক সিন্ডিকেটের হোতা মোঃ জাফর। বাচ্ছা সরবরাহ এবং খাদ্যও জাফরের কাছ থেকে নিতে হয়। সর্বশেষ মুরগী বিক্রয় উপযোগী হওয়ার পর পাইকারী দরে জাফরের কাছেই বিক্রয় করতে হয়। পরে জাফর সেগুলো উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের নিকট বিক্রয় করে থাকেন। খুচরা বিক্রেতারাও জাফরের নিকট একইভাবে জিম্মি হয়ে পরায় জাফরের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারাও খামারিদের নিকট থেকে সরাসরি মুরগী ক্রয় করতে পারেননা। একাধীক খামারি জানায়, ৫০০ বাচ্চা একমাস খামারে রেখে বিক্রয় উপযোগী করার পর ২/৩ হাজার টাকাও আয় হয়না; আবার প্রায় সময় লোকশান গুনতে হয়। আর জাফর কমপক্ষে প্রতি মুরগী থেকে ৫০ টাকা ব্যবসা করেন।
জামতলি এলাকার পোল্ট্রি খামারি ফজর আলি অভিযোগ করে জানান, কোন নিয়ম-নীতির বালাই নেই, জাফরের একক নিয়মে চলছে দীঘিনালার পোল্ট্রি ব্যবসা। ফলে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে জাফর আর খামারীরা পথে বসছে। ফজর আলি আরো জানান, বাচ্ছা দেওয়ার সময় মূল্য জানানো হয়না। জিজ্ঞেস করলে বলা হয় বেশি ধরা হবেনা। খাদ্য নেওয়ার সময়ও মূল্য জানা যায়না; এমনকি খাদ্যের বস্তাতেও মূল্য লেখা থাকেনা। সর্বশেষ বিক্রয় উপযোগী হওয়ার পর মুরগী নিয়েও মূল্য জানায়না। শুধু বলে, ‘বাজার দর ধরা হবে।’ যখন টাকার প্রয়োজন হয় তখন হিসাবে বসলে দেখা যায় বাচ্চার মূল্য ধরেছে অন্যান্য উপজেলার চেয়ে প্রতিটিতে ১০থেকে ১৫ টাকা বেশি, খাদ্যের মূল্যও ধরা হয়েছে বস্তা প্রতি ২০০ টাকা বেশি এবং মুরগীর মূল্য ধরা হয় প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কম। চূড়ান্ত হিসাবে ডিলার ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পাওনা থাকেন। তখন সে বুঝায়, ‘এবার দাম কমে যাওয়ায় লোকসান হলেও সামনে লাভ হবে, আবার বাচ্চা নিয়ে যান।’ একই অবস্থা হয় পরেও। এভাবেই জাফরের নিকট আটকা পরেছে উপজেলার খামারিরা। কবাখালি এলাকার খামারি নুরুল আমিন বলেন, ‘নীল চাষীদের মতো আটকে রেখেছে জাফর সিন্ডিকেট। বাহিরের উপজেলা থেকে বাচ্চা ও খাদ্য আনলে বাজারে মুরগী বিক্রয় করা যায়না। কারণ জাফর সিন্ডিকেটের নিষেধাজ্ঞার কারণে কেউ ক্রয় করেনা। আর মুরগী বিক্রয় উপযোগী হলে রেখে দেওয়ায় যায়না, তখন বাধ্য হয়ে আরো কম দরে জাফরের কাছেই বিক্রি করতে হয়।’ নুরুল আমিন আরো জানান, এর বাহিরেও বাহিরের উপজেলার কোন পোল্ট্রি খামারে মড়ক দেখা দিলে সেখান থেকে কম দরে মুরগি নিয়ে আসে জাফর সিন্ডিকেট। মৃত মুরগী উপজাতীয় একটি গোষ্ঠির নিকট বিক্রয় করা হয়; জীবিতগুলো খোলা বাজারে। এরকম চালান আসার পরই উপজেলার পোল্ট্রি খামারে মড়ক শুরু হয়। অথচ বাহিরের কোন উপজেলা থেকে ব্রয়লার মুরগী আনার পূর্বে ডাক্তারী পরীক্ষা করে রোগমুক্ত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার পর আনার নিয়ম। অপর খামারী সরোয়ার ভূইয়া জানান, একের পর এক লোকসান কাটিয়ে উঠতে খামারীরা সরকারী, বে-সরকারী সংস্থার ঋনের জালে জড়িয়েছে। বিকল্প পেশা না থাকায় পূজি বিনিয়োগের পর এখন পোল্ট্রি ব্যবসা ছাড়াও সম্ভব হচ্ছেনা আর করাও সম্ভব হচ্ছেনা।
ডিলার জাফরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খামারিদের অভিযোগ সত্য নয়, তবে বাচ্চার মূল্য তাৎক্ষনিক জানানো সম্ভব হয়না কমপক্ষে এক সপ্তাহ পরে জানানো যায়।’ তিনি আরো উল্টো অভিযোগ করে বলেন, ‘কিছু কিছু খামারী আমার পূজিতে ব্যবসা করে মুরগী আমাকে না দিয়ে বাহিরে বিক্রি করে দেয়, তখন আমি তাদের নিকট পাওনা থাকি।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply