নীড় পাতা » ফিচার » ক্যাম্পাস ঘুড়ি » পথচলা শুরু রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের

পথচলা শুরু রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের

Rangamati-medical-collegeগত ১৫ নভেম্বর শেষ হয়েছে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মেধাবি মুখগুলো এখন ক্লাস শুরুর প্রহর গুনছে। প্রশাসনও কড়া দৃষ্টি রেখেছে কলেজটির ওপর। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের পাশে গড়ে ওঠা নতুন চার তলা করোনারী ভবনে এখন রঙ-চুনকামের কাজ চলছে। গত ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম। রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে প্রথম ব্যাচে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে ৫১জন। ২৫% পাহাড়ি কোটায় ১৩ শিক্ষার্থী ভর্তি সুযোগ পেলেও এর মধ্যে পাহাড়ি সাত ও বাঙালি তিন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বাকী তিন পাহাড়ি শিক্ষার্থী তালিকায় নাম থাকার পরও ভর্তি হয়নি।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর ঢাকায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের জন্য পার্বত্য এলাকা থেকে শতভাগ কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পার্বত্য চুক্তি শর্তানুসারে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দিয়ে স্থায়ী বাসিন্দাদের থেকে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশের সবগুলো মেডিকেল কলেজ মিলে যেখানে পার্বত্যবাসীর জন্য ২শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ ছিলো, সেখানে শুধুমাত্র রাঙামাটি মেডিকেলে কলেজেই ভর্তি হতে পারবে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য ইতিমধ্যে ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডাঃ শহীদ তালুকদার জানান, আমি কেবলই যোগদান করেছি। এখনো জনবল কাঠামো কিরূপ হবে তা আমি এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত ডেপুটিশনে জনবল নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা হতে পারে কিংবা মন্ত্রণালয় থেকে জনবল কাঠামো চুড়ান্ত করেও কার্যক্রম পরিচালনা হতে পারে।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ টিপু সুলতান জানান, মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ভর্তি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আমরাও খুবই আশাবাদী ভালো শুরুর লক্ষ্যে। রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের জন্য তিন জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরো কিছু শিক্ষক নিয়োগে প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের থেকেও তেমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। মেডিকেল কলেজের জন্য সকলেই আমাদেরকে সহযোগিতা করছে।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মনু সোহেল ইমতিয়াজ জানান, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ নিয়ে বিভিন্ন সময় দুইটি পক্ষের আন্দোলনের খবর পাওয়ার পর আমরা কলেজ প্রাঙ্গণে পুলিশের একটি নিয়মিত টিম বসিয়েছি। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছি। এছাড়াও প্রয়োজনে আরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে ওসি জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ আমরা মানি না। জনসংহতি সমিতি আপাতত কলেজটির বিরুদ্ধে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এরকম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। তিনি বলেন, জনসংহতি সমিতি যখন প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে, ভবিষ্যতে অবশ্যই প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হবে। তিনি জানান, সময়মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনকৃত প্রকল্প এখন বাস্তবায়ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগ যা বলে, তাই করে। আমরা কাজে বিশ্বাসী। বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখন ক্লাস শুরু বাকি। তিনি বলেন, যারা কলেজের বিরোধিতা করছে তাদের প্রতিরোধের ধরন দেখে আওয়ামী লীগও পরবর্তীতে কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, মেডিকেল কলেজের জন্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষও কাজ করে যাচ্ছেন। ক্লাসরুম ও আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি ক্লাস শুরু হবে। এছাড়া ডিসেম্বরে শিক্ষক নিয়োগসহ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজের ন্যায় রাঙামাটি মেডিকেল কলেজও পরিচালিত হবে। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা তিনি কামনা করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply