নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘নৌকার ঘাঁটি’তেই হলোনা কমিটি!

শালা-দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগে

‘নৌকার ঘাঁটি’তেই হলোনা কমিটি!

রাঙামাটি শহরের নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত তবলছড়ির মাঝেরবস্তি এলাকা। যেখান থেকে সব সময় বিপক্ষ দলের ভিত কাঁপিয়ে দিত এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হলেও পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়নি!

এই ওয়ার্ডের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের আপত্তি ও অভিযোগের মুখে গত ১৪ অক্টোবর সম্মেলনের তারিখ থাকলেও নতুন কমিটি করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ওয়ার্ড সম্মেলন সমন্বয় কমিটি। এদিন সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলেও কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়নি। নেতা-কর্মীদের প্রধান অভিযোগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অবশ্য দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কদর না করা। আর নৈতিক স্থলনের অভিযোগ করা হচ্ছে সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দাশ মাইকেলের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে ৩নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী লিখিত অভিযোগ জমা দেন সম্মেলন সমন্বয় কমিটির কাছে।

অভিযোগে বলা হয়, সভাপতি লৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দাশ মাইকেল তাদের নিজের স্বার্থের জন্য নিজেদের ১৭-১৮ জন আত্মীয়দের নিয়ে কমিটি গঠন করেন। বিপ্লব দাশ মাইকেল পূর্বে ছাত্রদলের নেতা, ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগ দেয়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকে অবস্থায় নৌকার ঘাঁটি মাঝেরবস্তিতে জিয়াউর রহমানের ভাষণও বাজান বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়। এই অভিযোগে সরাসরি বিএনপি করতো এই দাবি করে বেশ কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে মাইকলের কাছে এক নারী ঘর নির্মাণের জন্য সহযোগিতা চাইতে গেলে তিনি নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ওই নারী নিজেই রাঙামাটি পৌরসভার মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনা তদন্তের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দেয়া হয়।

৩নং আওয়ামীলীগের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, আমি মনে হয়, এ কমিটির সবচেয়ে বয়স্ক লোক যে সদস্য হিসেবে আছি। ২০১২ সালে কমিটি গঠনের পর থেকে আমার জানা মতে একটি মিটিংও হয় নাই। আমরা জানিও কমিটিতে কারা কারা আছে। আমরা এমন অকার্যকর কমিটি আর চাই না।

বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি পুলক দে বলেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। ১৭-১৮ জন তাদের আত্মীয় স্বজন আছে কমিটিতে। সাধারণ সম্পাদক মাইকেলের বিরুদ্ধে অনেক অনৈতিক কাজের প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। সে ছাত্রদল করে এখন আওয়ামীলীগ করছে নিজেদের স্বার্থে। এমন অনৈতিক ও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে কমিটি হলে তা মঙ্গলজনক হবে না। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তারা দুজন সম্পর্কে শালা দুলাভাই হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

৩ নং পৌর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বিটু বড়–য়া বলেন, আমাদের রক্তে মাংসে আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে আমরা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তখন যারা আমাদের উপহাস করতো তারা এখন অনেকে দায়িত্বে আছে এ ওয়ার্ডে, তখন খুব কষ্ট লাগে। তারপরও দীপংকর তালুকদার দাদা আমাদের শেষ ভরসার জায়গা। তিনি জানেন কী করতে হয়। আশাকরি ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে দ্রুততম সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. লৎফুর রহমান বলেন, বর্তমানে কমিটির কী অবস্থা তা আমি জানি না। বিএনপি জামায়াতের অনুপ্রবেশের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে আমি কোনো মন্তব্যই করতে চাই না। তবে সাত বছর পর যারা অভিযোগ করছে তাদের কেন মনে হল কে বিএনপি থেকে আসলো না কোথা থেকে আসল?

তবে অভিযোগের ব্যাপারে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দাশ মাইকেলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এসব প্রসঙ্গে রাঙামাটি পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মনসুর আলী বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ হতে সমন্বয় কমিটি করা হয়েছে। তাদের সমন্বয় ছাড়া আমরা কিছুই করছি না। নানা অভিযোগের কারণে কাউন্সিল করতে পারিনি। তাই আমরা একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দিব। যারা আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করবে। অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনসুর বলেন, সাত বছরের বেশী সময় অতিবাহিত হলেও তারা এ ধরনের কোনো অভিযোগ এতোদিন কেন করেননি? হঠাৎ সম্মেলনের সময় কেন করছে তাও বুঝতে পারছি না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়েও করোনার হানা, প্রথম দিনেই শনাক্ত ২

এত দিন ‘করোনামুক্ত’ থাকা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় হানা দিলো করোনা। রোববার রাতে আসা রিপোর্টে রাঙামাটির …

Leave a Reply