নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » নৈসর্গিক সাজেক উপত্যকার হাতছানি

নৈসর্গিক সাজেক উপত্যকার হাতছানি

পাল্টে যাচ্ছে সাজেক উপত্যকা। ছুটির অবসরে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন সাজেক। দুর্গম সাজেক এখন আর দুর্গম নেই। পথ অনেক সুগম হয়েছে। পিচঢালা আঁকাবাঁকা পথে সমতল ভূমি থেকে একহাজার আটশ ফুট সুঊচ্চ পাহাড়ে উঠে যাবে আপনাকে বহনকারী গাড়ি। দীঘিনালা থেকে সাজেক যাওয়ার পথে আঁকাবাঁকা সড়ক আর সবুজ বনানী দেখে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। নতুন রুপে সাঁজছে এখন সাজেক। সাজেক ঘুরে এখন দিনে দিনেই ফেরা যায়। প্রথম সাজেক গিয়েছিলাম ২০১০ সালের ৩০ নভেম্বর। এরপর বিভিন্ন সময় কয়েকবার গিয়েছি। সর্বশেষ সাজেক ঘুরে এলাম গত ১৮ জানুয়ারি। প্রথম দেখা সাজেক আর বর্তমান দেখা সাজেক যেন আকাশ পাতাল পার্থক্য। এখন সাজেক পাহাড়ের রাস্তাগুলো করা হয়েছে সুপরিসর। আদিবাসীদের ঘরগুলো করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন। রুইলুই লুসাই ও ত্রিপুরা পাড়ায় লাগানো হয়েছে সৌর বিদ্যুতের বাতি। হয়েছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। হয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিনোদনের জন্য ক্লাব ঘর।

সাজেক যাত্রা ঃ

১৮ জানুয়ারি সকাল ৮ টায় বন্ধু জাকিরের ফোন মোটরসাইকেল নিয়ে সাজেক যাচ্ছি। এ খবর শুনে উজ্জ্বল, সাত্তার, সুনয়ন, রহমান, বাহাউদ্দিন, আফজালসহ কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করে সাড়ে ১১ টায় দীঘিনালা থেকে সাজেকের রওয়ানা। কয়েকবার সাজেক গিয়েছি। তবুও সাজেক যাওয়ার আঁকাবাঁকা যেন খুবই ভালো লাগে। সবুজের বুক চিড়ে আঁকাবাঁকা রাস্তায় ছুটে চলেছে মোটরসাইকেল। বাঘাইহাট বাজার পেরিয়েই প্রকৃতির নান্দনিকতা যেন শুরু। গঙ্গারাম ইসিবির ক্যাম্প পার হয়েই কাচালং নদীর ওপর গঙ্গারাম সেতু। দুই পাশে বাঁশের লম্বা চালি। সেতুর ওপর থেকেই দেখতে পাবেন যেখান থেকে কাচালং নদীর সৃষ্টি গঙ্গারামছড়া আর চামেনি ছড়া এক জায়গায় মিশে হয়েছে কাচালং নদী। মধ্যে একটি পাহাড়, যেন প্রকৃতির অপরুপ বাহার। সামনে একটু যাওয়ার পর বন বিহার। আঁকাবাঁকা পথ চলতে চলতে পড়বে মাচালং বাজার। এখানে মাচালং নতুন থানা হয়েছে। বাজারটিও দেখতে সুন্দর। সেখানে নাস্তা সেরে নিয়ে আবার যাত্রা। যেতে যেতে সড়কের পাশে আদিবাসী ঘরবাড়ি। বাঁশ দিয়ে তৈরী মাচাংয়ের ঘর। হাত নেড়ে আদিবাসী শিশুদের সাজেক যাত্রার অভিবাদন। সড়কের পার্শ্বে ঘরের সামনে আদিবাসী নারীদের ঢেঁকিতে ধান ভাঙ্গার দৃশ্য। যেতে যেতে সড়ক গুলোকে মনে হবে সাপের মতো। পাহাড় থেকে নিচের সড়কগুলোকে খুব অপরূপ লাগে। সমতল থেকে একহাজার আটশ ফুট পাহাড়ে উঠতে উঠতে ভালোই লাগবে। সাজেক পাহাড়ে ওঠেই রুইলুই পাড়া দেখে চমকে যাবেন। কোন দূর পাহাড়ে এসেছেন? নাকি কোন শহরে এসেছেন।
এবার নিজের খেয়াল খুশি মত ঘুরতে পারেন। দেখতে পারেন আদিবাসী জীবনধারা। সাজেক বিজিবি ক্যাম্প, তিনটি হ্যালিপ্যাড পার হয়ে যেতে হয় কংলাক পাড়া গ্রামে। একহাজার আটশ ফুট উচ্চতার রুইলুই পাড়া থেকে কংলাক পাড়ার উচ্চতা পাঁচশ থেকে ছয় ফুট উপরে। তবে হেঁটে উঠতে সমস্যা নেই। কংলাক পাড়া পুরো পাহাড়টাই পাথরের। কংলাক পাড়া থেকে ভারতের মিজুরাম এলাকা দেখা যায়। সাথে দূরবীন যন্ত্র থাকলে আরো ভালো। কংলাক পাড়ায় ঘুরতে ঘুরতে দেখবেন নারীরা জিন্স প্যান্ট গেঞ্জিই বেশি পরে। আধুনিক পোশাক পরেই ঘরের কাজ কর্ম করছেন। কংলাক পাড়া থেকে নিচের পাহাড়গুলোকে মনে হবে যেন সাগরের ঢেউ।
১৯৬৭ ইংরেজীতে প্রতিষ্ঠিত কংলাক পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে সুবজ বেষ্টনির মধ্যে গড়ে উঠা নতুন পাড়াকে সত্যিই অপরুপ লাগে। সারাদিন কাটাতে পারেন সাজেকের প্রকৃতির সাথে।

কিভাবে যাবেন সাজেক ঃ

সাজেক ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সাজেক যাওয়ার সহজ উপায় হলো খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে। ঢাকা থেকে নৈশ কোচে খাগড়াছড়ি অথবা দীঘিনালা এসে চাঁদের গাড়ি অথবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন। দীঘিনালা থেকে সকাল ৮ টায় রওয়ানা দিলে প্রথমে শুকনাছড়ি দশ নম্বর ঝরনা দেখে যেতে পারবেন। যদি চারজন হন তাহলে চারটি মোটরসাইকেল নিলে ভালো হবে। আর পরিবার নিয়ে আসলে চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন। সাজেক ঘুরে দীঘিনালা অথবা খাগড়াছড়ি শহরেই অবস্থান করতে পারবেন। সূর্য্য ডোবার আগে সাজেক থেকে দীঘিনালায় ফিরে আসতে পারলে ঘুরে দেখতে পারেন ত্রিপুরা মহারাজা গোবিন্দ মানিক্যের দীঘি। যা থেকে দীঘিনালার নামকরণ। ঘুরে দেখতে পারেন প্রয়াত সাধনানন্দ মহাস্থবির প্রকাশ বনভান্তের প্রথম সাধনাস্থল দীঘিনালা বন বিহার।

জেনে রাখা ভালো ঃ

সাজেক সফরে যাওয়ার সময় অবশ্যই চাহিদা মতো বিশুদ্ধ পানি আর শুকনা খাবার নিলে ভালো হয়। সাজেকে পানির সমস্যাটা প্রকট। তবে এখন আর নিরাপত্তার চিন্তা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা নেই। আপন মনেই ঘুরতে পারবেন সাজেক উপত্যকা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি’র প্রচারপত্র বিতরণ

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূক প্রচারণা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার …

Leave a Reply