নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » ‘নেতারা নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য গরীব মানুষকে কষ্ট দেয়’

‘নেতারা নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য গরীব মানুষকে কষ্ট দেয়’

DSCN1847নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী জোটের আন্দোলন আর টানা হরতাল অবরোধের প্রভাব পড়েছে খেটে খাওয়া শ্রমিক, গাড়ির চালক ও হেলপারদের জীবনে। রাঙামাটি শহরের বাস টার্মিনাল এবং ট্রাক টার্মিনাল এলাকার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেলো,হরতাল আর অবরোধ কিভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তাদের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহে।
মঙ্গলবার রাঙামাটির বিভিন্ন টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, অলস সময় পার করেছেন প্রতিদিন ব্যস্ত থাকা শ্রমিকেরা। কেউবা ঘুমিয়ে আবার কেউবা লুডু, তাস খেলে সময় পাড় করেছেন। আবার সস্থবির পড়ে থাকা গাড়ীটি পরিষ্কার কিংবা সার্ভিসিং করে নিচ্ছেন এই অবসরে।

রাঙামাটি ট্রাকটার্মিনাল ঘাটে দৈনিক কাজ করে এমন একজন শ্রমিক নূর মোহাম্মদ জানালেন,আজ কোন কাজ নেই তাই বসে সময় পার করছি। ‘নেতারা নিজেরা ক্ষমতার যাওয়ার জন্য গরীব মানুষকে কষ্ট দেয়। তারা ক্ষমতা দখল করার জন্য হরতাল,অবরোধ দিব আর আমরা না খাইয়া মরমু”।
আইয়ুব আলী নামের আরেকজন বলেন, হরতাল অবরোধ না থাকলে টার্মিনালে কাজ করে দৈনিক ৫০০-৭০০ টাকা আয় করা যায়, কিন্তু কাজ না থাকায় কি হবে জানি না। আমার বাসায় মোট ৫ জন সদস্য,কিন্তু একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলাম আমি। আমি দৈনিক কাজ করে যা পাই তাই দিয়ে কোনরকমে সংসার চলে। হরতাল বা অবরোধ হলে সংসারে ভীষন টানাটানি পড়ে বলেও জানান তিনি।

ট্রাক চালক মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, গাড়িতে মাল বোঝাই করে বসে আছি অবরোধের কারণে বসে আছি। গাড়ি নিয়ে বের হলে যে কোন সময় যে কোন স্থানে হামলার শিকার হতে পারি। বর্তমান অবস্থায় এমন হয়েছে যে, গাড়িতে গান পাউডার বা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তারপর গাড়ির চালককে পুড়িয়ে মারে এ ভয়ে গাড়ি নিয়ে বের হই না।

হরতাল আর অবরোধের পার্থক্য বোঝেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রায় সকল শ্রমিকই বলেন, ভাই এতকিছু বুঝি না, আমরা বুঝি গাড়ি দেখলে ভাংচুর আর জ্বালাও পোড়াও…. কারণ দেখতেছি সব জায়গাতে এসব চলতাছে।

অবরোধের প্রথম দিন রাঙামাটি বাস টার্মিনালের চিত্রও ছিলো একই। অলস দাড়িয়ে আছে সারি সারি বাস। বাস চালক মোঃ হারুন বলেন, অবরোধ তাই কোন গাড়ি চলবে না। আমরা গরীব মানুষ গাড়ি চালাইয়া সংসার চালাই। গাড়ি না চললে সংসার চলে না। আমরা গাড়ি নিয়ে বের হতে পারি না কারণ রাজনৈতিক দলের কর্র্মীরা গাড়ি ভাংচুর করে সেই ভয়ে গাড়ি বার করি না।

তবে অবরোধ কিংবা হরতালে নিজেদের কষ্ট আর বেদনার সাতকাহন তুলে ধরার পাশাপাশি দুই রাজনৈতিক দলকেই সহিঞ্চুতার অভাবের দায়ে দুষলেন শ্রমজীবি এইসব মানুষেরা। তারা একই সাথে যেকোন আন্দোলনে গাড়ী ভাংচুর,গাড়ীতে আগুন দেয়া,চালক বা যাত্রীদের পুড়িয়ে মারার বিরুদ্ধেও নিজেদের ক্ষোভের কথা জানালেন সমস্বরে। কিন্তু বাস্তবতা হলো,এই সব নিরীহ দরিদ্র শ্রমজীবি মানুষের আহাজারি শুনবে কে ??

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ের ৭ মণ্ডপে হবে দুর্গোৎসব

শিশিরে শিশিরে শারদে পাতে ভোরের আলো। আশ্বিন বিদায়ের পথে, শিউলি ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে মাতোয়ারা চারিদিক। …

Leave a Reply